আজ বুধবার, , ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৮:৫৬

যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তা এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে: তবারক হোসেইন

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তবারক হোসেইন বলেছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম এখন পর্যন্ত সেটা স্বপ্নই রয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন একটি শোষনহীন মুক্ত সমাজ। তারা চেয়েছিলেন বাক স্বাধীনতা। তারা চেয়েছিলেন গণতান্ত্রিক একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ। আমাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি রাষ্ট্রের যেখানে কখনো কেউ পাকিস্তানের তুলনা করে বলবে না আগে আমরা ভালো ছিলাম। বাংলাদেশের রাজনীতির এটি বড় ব্যর্থতা যে রাজনীতিবিদদের দেউলিয়াত্বের কারণেই বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে আমাদের।

রোববার (১৫ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জেড এ চৌধুরী জুয়েল।

প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন রচিত স্মৃতিতে ও সংবাদে গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাব উদ্দিন, কবি শাহীন ইবনে দিলোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, টাইম টেলিভিশনের সিইও ও বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, কবি ফকির ইলিয়াস, শিল্পী সেলিম চৌধুরী, এমাদ চৌধুরী, স্মৃতিতে ও সংবাদে গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন শাহানা বেগম, কবিতা আবৃত্তি কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা ব্যুরোর বিশেষ প্রতিনিধি ইশতিয়াক রুপু, মার্কেটিং প্রধান হেলিম উদ্দিন, কবি শাহীন ইবনে দিলোয়ার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন স্মৃতিতে ও সংবাদে গ্রন্থের গ্রন্থের লেখক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন। তিনি বলেন, ঠিক সাহিত্যিক অভিপ্রায়ে এই বইয়ের প্রকাশ নয় । এ আমার হেঁটে চলা পথের আখ্যান। হেঁটেছি নিজের মত করে। দৌড়েছি, ঝাঁপ দিয়েছি। এই চলাচলের কথাই লিখেছি। যাদের পিছনে চলেছি, যাদের সঙ্গে চলেছি তাঁদের কথাই লিখেছি। লেখালেখিতে আটঘাট বাঁধা প্রধানত সাংবাদিকতার সূত্রে। সেসব লেখায় অন্তরের সাহিত্যিক সত্তা উঁকি দিতে চেয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে আমেরিকার খবর দিতে গিয়ে নিজের মত করে এখানকার রাজনীতি, প্রশাসন ও সংস্কৃতি নিয়ে নিজের উপলব্ধি, ভিন্নতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছি। এ বইয়ে তেমন কিছু লেখাও সংযুক্ত আছে।

তিনি আরো বলেন, তিন দশকের ক্লান্তিহীন পান্থজন আমি। অন্যের কথাই শুনেছি, বুঝতে চেষ্টা করেছি, শোনা কথা পাঠকের জন্য আবার লিখেছি। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করিনি। আজো মনে করি না।

তিনি সংবর্ধিত সাংবাদিক তবারক হোসেন সম্পর্কে বলেন, তবারক হোসেন আমাদেরর অগ্রজ প্রজন্মের এক আলোকিত নাম। মুক্তিযোদ্ধা তবারক হোসেন আমাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন এক অনুকরণীয় ব্যক্তি হিসাবে। আকালের এ নাকাল সময়ে একজন তবারক হোসেইনকে দূর থেকেও বড় গুরুত্বের সাথে দেখি। দুরাশায় আশা খুঁজি। স্মৃতিতে ও সংবাদে বইয়ে তাই একজন তবারক হোসেনের কথাই তুলে ধরি।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি তবারক হোসেইন বলেন, সাধারণ কৃষক পরিবারে আমার জন্ম। সেই স্কুল জীবন থেকেই আন্দোলনের সাথে সক্রিয় হয়ে পড়ি। শোষনহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা জীবনে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দৈনিক বাংলা পত্রিকাতে সিলেটে সাংবাদিকতা শুরু করলাম। সেখানে মস্কোপন্থী এই অভিযোগে চীনপন্থী সম্পাদক আমাকে বাদ দিলেন। জীবনের এসব বাধা বিপত্তি চড়াই উতরাই পেরুতে প্রতি মুহূর্তে আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু একটি কথা বলতে পারি নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের সাথে আপোষ করিনি।

তিনি বলেন, আদর্শহীন সমাজে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে সাময়িক আয়েশ বা সুবিধাবাদীর সুযোগ নেয়াকে যারা জীবনের সার্থকতা মনে করেন তারা আসলে ব্যর্থ। কারণ তাদের কারণেই রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঘুণে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমাদের। অবক্ষয়ের অতল গহ্বর যেন আমাদের গ্রাস করতে চাচ্ছে। এখান থেকে ঘুরে দাড়াতে বিপ্লবী ও আদর্শবাদীদের ঐক্য প্রয়োজন। এজন্য প্রবাসীদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন রচিত স্মৃতিতে ও সংবাদে গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন করে তিনি বলেন, ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন সারা জীবনই গণতন্ত্র স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি একজন সুলেখক এবং সাংবাদিক। এ সময় গ্রন্থটির সাফল্য কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম অতিথি সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বলেন, সাংবাদিকতার আদর্শ ও সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন থেকে তবারক হোসেইন কখনো বিচ্যুত হননি। সমসাময়িক অনেকেই আপোষের মাধ্যমে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। তবারক হোসেইন চাইলে সেই সুবিধা নিতে পারতেন। কিন্তু আদর্শহীনতার কর্দমাক্ত পথে কখনো পা বাড়াননি তিনি।

এম এ সালাম বলেন, পরিবর্তন ছাড়া কোন সমাজেরই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সংবর্ধিত সাংবাদিক তবারক হোসেইনকে তিনি একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব বলে মন্তব্য করেন।

কবি শাহীন ইবনে দিলওয়ার বলেন, সিলেটে তখনকার দিনে কবি দিলওয়ারের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাংবাদিক তবারক হোসেইন। প্রগতিশীল একটি সমাজ গঠনে এখনো তিনি তৎপর রয়েছেন।

বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনের প্রধান আবু তাহের বলেন, নীতিহীনতার যখন সর্বত্র জয়জয়কার। তখন সাংবাদিক তবারক হোসেইনের মত লোকজন আদর্শবাদীদের জন্য অনুপ্রেরণা ও চেতনার প্রতীকী চরিত্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছেন।

শিল্পী সেলিম চৌধুরী বলেন, তরাবক হোসেইন হচ্ছেন সেই ব্যক্তিত্ব যাকে লোভ লালসা কখনো স্পর্শ করতে পারেনি।

সভাপতির বক্তব্যে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান অনুষ্ঠান সফল করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন রচিত স্মৃতিতে ও সংবাদে গ্রন্থের সাফল্য বর্ণনা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই। এর আগে তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্যে গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া স্বত্ত্বে বিপুল সংখ্যক অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় জালালাবাদ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত