সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:৩১

লোকজ গান আর উৎসবে ওয়াশিংটনে বর্ষবরণ

লোকজ গান আর উৎসবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট বিসিডিআই বাংলা স্কুলের বর্ষবরণ উৎসব ১৪২৬।

শনিবার (২০ এপ্রিল) ভার্জিনিয়ার আনানডেল শহরের ম্যাশন ডিস্ট্রিক পার্কে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার এবং ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের ব্রডকাস্টার কবি আনিস আহমেদর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে ম্যাশন ডিস্ট্রিক পার্কের মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণের এই মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান।

সূচনা বক্তব্যের পর দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। দলীয় সঙ্গীতে বৈশাখের চিরায়ত গান আনন্দলোকে, এসো হে বৈশাখ, ধন্য ধন্য বলি তারে, ও আমি যুগে যুগে গান পরিবেশন করা হয়। এই পর্বে অংশগ্রহণ করে নালিয়া, অতশী, শুসান, অহনা, অনিতা, নাইমা, রানিতা, ও তাসনুভা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা। এই পর্বেও শুরুতে বাংলা স্কুলের প্রাক্তন সভাপতি, ওয়াশিংটনে সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব শামীম চৌধুরীর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বাংলা স্কুলের গানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গান পরিবেশন করে বরাবরের মতই দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

এই পর্বে পরিবেশিত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আজি এ ভোর যেন, ও আমার দরদী, আমি রবো না রবো না, সেই রেললাইনের ধারে, পড়েনা চোখের পলক, তোমরা দেখ গো আসিয়া, কোন রঙে বাইন্ধাছ ঘর খানা, বকুল ফুল বকুল ফুল, মিলন হবে কত দিনে, তোমায় হৃদমাজারে রাখব ও একতারা বাজাইও না।

সঙ্গীত পরিবেশন করে অংকিতা, অবন্তী, তানিশা, সুমিত, আরিয়া, হৃদি, লাইবা, লিয়ানা, মাহজাবিন, অয়ন, অহনা, অনিতা, রানিতা, শুসান, অতশী, মুহিত, ফারজান, অপসরা, এমা, পরাগ, কৌশিক, আদিত্য, সাবরিনা, নাজিলা, অঙ্গনা, নিলাদ্রী, প্রভা, রিদিতা, অনুভা, ইয়াশা, ওয়াদিয়া, শ্রেয়সী ও অন্যান্যরা।

বাংলা গানের চিরসবুজ সুরকার ও গীতিকার মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গান পরিবেশন করেন। বাংলা স্কুলের গানের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা শেষে শুরু হয় বাংলা স্কুল ড্যান্স একাডেমি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা।

নৃত্যে অংশগ্রহণ করে নায়লা, অতশী, শুসান, অহনা, অনিতা, নাইমা, রানিতা, হৃদি, মাহজাবিন, লাইবা, লিয়ানা, মিরাবেলা, জয়িতা, আরিয়া, নওমি, নালিয়া, পুনম, তানিশা, ইশরা, অবন্তি, অয়ন, মুহিত, ফারজান, অপসরা, এমা, পরাগ, কৌশিক, আদিত্য, সাবরিনা, নাজিলা, অঙ্গনা, নিলাদ্রী, প্রভা, রিদিতা, অনুভা, ইয়াশা, ওয়াদিয়া, শ্রেয়সী অংকিতা, সুমিত, ও আরিয়া।

এরপর প্রজ্ঞা আহমেদর সঞ্চালনায় শুরু হয় বাংলার লোকজ গানের উৎসব। মহিতোষ তালুকদারের পরিচালনায় এই পর্বে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের প্রায় ৫০ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। এই পর্বে শিল্পীরা বিভিন্ন মুখোশ হাতে নেচে গেয়ে ঢোল বাদ্য বাজিয়ে লালন শাহর ধন্য ধন্য বলি তারে, শাহ আবদুল করিমের গাড়ি চলে না চলেনা, শিতলাং শাহর শুয়া উড়িল উড়িল, মুজিব পরদেশীর সাদা দিলে কাদা, একক আমি তোমার নাম লইয়া কান্দি, হাসন রাজার লোকে বলে বলেরে, কালু শাহর লোহারে বানাইল কাঞ্চা সোনা, রাধারমণ দত্তের জলে গিয়াছিলাম সই, মানুষ হ মানুষ হ এবং সবশেষে শাহ আবদুল করিমের গ্রামের নওজোয়ান গানটি পরিবেশনা শেষে আরো জোরে হেইও, চলরে সবাই হেইও, সবাই মিলে হেইও ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে মঞ্চ ত্যাগ করেন।

এই পর্বে হারমোনিয়ামে ছিলেন বাংলা স্কুলের গানের শিক্ষক নাছের চৌধুরী, তবলায় আশীষ বড়ুয়া, বাঁশিতে মোহাম্মদ মাজেদ, ঢোল হিমু রোজারিওসহ অন্যান্যরা। এরপর বাংলা স্কুলের পরিচালকমণ্ডলীদেরকে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলা স্কুলের সভাপতি আতিয়া মাহজাবিন নিতু ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা মৌ।

এরপর স্থানীয় দুটি ব্যান্ডের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত