মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:১৯

যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল আজহা উদযাপিত

বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনা

বিশ্ব মানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

১১ আগস্ট রোববার ত্যাগের মহিমা নিয়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে স্থানীয় সময় উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত মুসলমানগণ এদিন সপরিবারে নিকটস্থ মসজিদ ও খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে প্রবাসের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে পালন করে এই ধর্মীয় উৎসব।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঈদ জামায়াতে যেতে পারায় প্রবাসীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলসমূহে ঈদের দিন ছুটি থাকলেও সেটি কাজে লাগলো না এবার সামার ভ্যাকেশনে ঈদ হওয়ায়। সর্বত্রই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য বিভিন্ন মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে সর্বত্রই নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইসঙ্গে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনেরও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষণীয় ছিল।

প্রায় প্রতিটি জামাতের আশপাশেই ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ পুলিশি টহলও লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং থাকায় দূর দূরান্ত থেকে নির্বিঘ্নে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন।

চমৎকার আবহাওয়া থাকায় নিউ ইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় অনেক খোলা মাঠে ও হোটেলের বলরুমে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এবার অধিকাংশ ঈদ জামায়াত সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ জামায়াতগুলোতে নামে প্রবাসীদের ঢল। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণ।

নিউ ইয়র্কে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কুইন্সে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে থমাস হাই স্কুল খেলার মাঠে। অন্যান্য বৃহৎ জামাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদ, জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক ঈদ গাঁহ, পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ, ওজোনপার্কে মসজিদ আল আমান, এস্টোরিয়ায় আল আমিন মসজিদ, ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার ও বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ব্যবস্থাপনায়।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ঈদ জামাত
নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত নিউ ইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের (জেএমসি) উদ্যোগে সকাল ৯টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকার থমাস এ. এডিসন হাইস্কুল খেলার মাঠে। এতে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি একত্রে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ঈদের জামাতে ইমামতি করেন জ্যামাইকা মসুলিম সেন্টারের খতিব মাওলানা মো. আবু জাফর বেগ।

দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা কুরানিয়া একাডেমির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম। ঈদের জামাত শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহসহ দেশ জাতির মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

এর আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেমস ও’নিল, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, কাউন্সিলম্যান কস্টা কনস্ট্যানটিনিডস, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

বাংলাবাজার জামে মসজিদে ঈদ জামাত
নিউ ইয়র্কে বাঙালি অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় মসজিদের নিকটবর্তী খোলা মাঠে (আইএস ১০৬ প্লে গ্রাউন্ড) বিশাল ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। এই জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া।

জামাতের আগে বাংলাবাজার জামে মসজিদ ও স্টারলিং বাংলাবাজার বিজনেস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিন মসজিদের সংক্ষিপ্ত কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সকলের সহযোগিতায় মসজিদটি ব্যাংক ঋণ মুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ৪০/৪৫ হাজার ডলার কর্জে হাসানা রয়েছে। কর্জে হাসানার সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় গিয়াস উদ্দিন বলেন, মসজিদে জুমার নামাজে দুটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তারপরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লিদের বাইরে জুমার নামাজ আদায় করতে হয়। ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মসজিদটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে গড়ে তোলার জরুরী হয়ে পড়েছে। মসজিদ কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এজন্য সকলের আর্থিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

মসজিদ কমিটির দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সামিল হয় এ ঈদ জামাতে। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে ঈদের সেমাই, খেজুর ও পানি বিতরণ করা হয়।

ঈদের নামাজে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক লালন আহমেদ, সহসভাপতি ইলিয়াস আলী ও মো. এমদাদ, কার্যকরী সদস্য: মো. আহসান রাসুল নাসির, ওয়ালিউর রহমান, শামিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও মোহাম্মদ আবু সাঈদ, সোহেল চৌধুরী সহ অন্যান্যরা।

পার্কচেস্টার জামে মসজিদের ঈদ জামাত
নিউইয়র্কে বাঙালি অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের প্রাচীনতম মসজিদ পার্কচেস্টার জামে মসজিদে রোববার ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ এবং মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় সকাল ৮টায় এবং সকাল ৯টায়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি জামাত দুটিতে পৃথকভাবে নামাজ আদায় করেন। ১ম জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।

দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন হাফিজ আদিল মিয়া। দ্বিতীয় জামাতে মসজিদের তৃতীয় তলায় মহিলারা নামাজ আদায় করেন।

মসজিদ কমিটির দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ঈদের জামাত দুটি অনুষ্ঠিত হয়। দুটি জামাতেই বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। ঈদ জামাতের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবদুস শহীদ ও জয়নাল এ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আম্বিয়া মিয়া, সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিয়া, কালচারাল সেক্রেটারি হিফজুর রহমান চৌধুরী, ফিউনারেল সেক্রেটারি মো. নুরুল আহিয়া, মেইনটেনেন্স সেক্রেটারি মো. ফটিক মিয়া, এডুকেশন সেক্রেটারি ইসলাম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মাজলুল আহমেদ, সহকোষাধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, সদস্য: আবদুল বাছির খান, আবদুল মতিন ও লুকমান হোসেন লুকু।

নিউ ইয়র্ক ঈদগাহ
নিউ ইয়র্কে মিনি বাংলাদেশ খ্যাত জ্যাকসন হাইটসে নিউ ইয়র্ক ঈদগাহের উদ্যোগে ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় ডাইভারসিটি প্লাজায়। নিউ ইয়র্ক ঈদগাহর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম কাজী কায়্যূম জানান, সকাল ৭টায়, সকাল ৮টায়, সকাল ৯টায়, সকাল ১০টায় এবং সকাল ১১টায় ঈদের জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি জানান, যারা নিকটস্থ পশু খামার বা হাটে গিয়ে পছন্দের গরু/খাসী/দুম্বা ক্রয়ের পর কোরবানি করবেন, তাদের জন্য প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। মূলধারার রাজনীতিকরা মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে নিউ ইয়র্ক ঈদগাহে আসেন। ঈদগাহে নারীদের জন্যে ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুরুষ, মহিলা ও ছোট্টমনিদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।

নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ
নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টায় ব্রঙ্কসের ওভাল পার্কে বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের খতিব মাওলানা মাসহুদ ইকবাল জামাতে ইমামতি করেন।

রিয়াজুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টার
জ্যামাইকাস্থ রিয়াজুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে পিএস ৪৮ স্কুলের খেলার মাঠে সকাল সাড়ে ৮টা ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।

মসজিদ আবু হুরায়রা
জ্যাকসন হাইটসের মসজিদ আবু হুরায়রার উদ্যোগে সকাল ৯টায় জ্যাকসন হাইটসের ৭৯ স্ট্রিট (বিটুইন নর্দান বুলেভার্ড ও ৩৪ এভিনিউ) এর রোরি স্ট্যাংটোন ফিল্ডে ঈদের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা ছাড়াও শিশুদের জন্য ছিল বিশেষ ঈদ উপহার সামগ্রী।

আহলুল বাইত মিশন
উডসাইডস্থ আহলুল বাইত মিশনের উদ্যোগে ৫৪-২৫ রুজভেল্ট এভিনিউর খোলা মাঠে ঈদ উল আজহার জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ নামাজে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান ঈমাম মুফতি সাঈদ আনসারুল করিম আল আহাজারি।

ইস্ট এলমহাস্ট জামে মসজিদ
ইস্ট এলমহাস্ট জামে মসজিদ এন্ড মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে পিএস ১২৭ স্কুলের খেলার মাঠে ঈদুল আজহার বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। এস্টোরিয়ার আল আমিন মসজিদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ সংলগ্ন ৩৬ স্ট্রিট ও ৩৬ এভিনিউতে।

ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ সংলগ্ন ওজোন রোড পার্কে।

জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ৭৩ স্ট্রিট ও রোজভেল্ট এবং ৪১ এভিনিউর মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টায়।

এস্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদের উদ্যোগে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ৩১ স্ট্রিটের ডিটমার্স এবং ২১ এভিনিউর মধ্যে।

জ্যামাইকা দারুস সালাম মসজিদের উদ্যোগে ঈদের ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভিতরে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ জামাত সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত ছাড়া সকল জামাতেই মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।

ব্রুকলীন বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে সকাল ৭টায় এবং সকাল ৯টায় ঈদের দুটো জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

কুইন্সের জ্যামাইকার আল আরাফা ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে স্থানীয় সুসান বি এন্থনী স্কুল মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জ্যামাইকার বাংলাদেশ মিশন (হাজী ক্যাম্প) মসজিদ, দারুস সালাম মসজিদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, মসজিদ আবু হুরায়রা, মোহাম্মদী সেন্টার, ওজনপার্কের আল আমান জামে মসজিদ, দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ, আল ফোরকান জামে মসজিদ, ব্রুকলীনের বাংলাদেশ মসুলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ, আসসাফা মসজিদ, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, গাউছিয়া মসজিদ, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার প্রভৃতি মসজিদের উদ্যোগে ঈদুল আযহার একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নিউইয়র্কে আরো বেশ ক’টি ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন মসজিদে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যারিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহিও, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোরিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, এরিজোনাসহ প্রভৃতি স্টেটে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে। এসব স্টেটে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা এলাকার মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে ভার্জিনিয়ার আরলিংটনে বাংলাদেশি বায়তুল মোকারম মসজিদের রোববার সকালে পবিত্র ঈদ-উল আজহার পরপর তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন ইমাম মাওলানা কৌশিক আহমেদ। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক পবিত্র ঈদ-উল আজহার নামাজের আয়োজন করে। ভার্জিনিয়ার দার আল নূর মসজিদ, দার আল হুদা, অ্যাডাম সেন্টার, ফাতেমা মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে পবিত্র ঈদ-উল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি একত্রে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন বলে জানা গেছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নামাজ আদায় শেষে ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম। নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউজার্সির গভর্ণর মুরফি।

আটলান্টিক সিটিতে ঈদুল আজহা
মসজিদ আল হেরা : আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশি আমেরিকানদের দ্বারা পরিচালিত ২৪২৬, আটলান্টিক এভিনিউতে অবস্থিত মসজিদ আল হেরায় ব্যাপক সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম সহ বিপুল সংখ্যক মুসলিম ঈদের জামাতে অংশ নেয়। মসজিদের ভেতর স্থান সংকুলান না হওয়ায় মসজিদের বাইরে পার্কিং লটেও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি মহিলাও ঈদের জামাতে অংশ নেয়। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ আল হেরার ইমাম বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মোঃ রুহুল আমিন ঈদের জামাতে ইমামতি, খুৎবা এবং দোয়া পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে মুসল্লিরা পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মসজিদ আল তাকওয়া: আটলান্টিক সিটির ৩৫৩৬-৩৮ আটলান্টিক এভিনিউতে অবস্থিত মসজিদ আল তাকওয়ার উদ্যোগে ১০০৮, এবসিকন বুলোভাড এ অবস্থিত আরমরি সেন্টারে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বিশাল ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক মুসলিম এখানে ঈদের জামাতে অংশ নেন। ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদ আল তাকওয়ার ইমাম মাওলানা তৌফিক আজিজ।

মসজিদ মুহাম্মদ: আটলান্টিক সিটির ৩০০, নর্থ আলবেনি এভিনিউতে অবস্থিত মসজিদ মুহাম্মদ এ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়। মসজিদ মুহাম্মদ এর ইমাম মাওলানা আমিন মুহাম্মদ ঈদ জামাতে ইমামতি করেন।

তাছাড়া আটলান্টিক সিটি সংলগ্ন এগ হারবার টাউনশিপ, এবসিকন, গ্যালাওয়ে, নর্থফিল্ডসহ অন্যান্য শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিমরা তাদের সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এদিকে এদিন সকাল বেলায় মুসলিম পরিবারের সদস্যরা নানা রঙের পাজামা পাঞ্জাবি, শাড়ী, সালওয়ার কামিজ পরে নিকটস্থ মসজিদ কিংবা খোলা মাঠে হাজির হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। উদযাপন করেন বিশেষ আনন্দের পবিত্র ঈদুল আযহা। প্রায় ২৮ শতাধিক মসজিদ ছাড়াও খোলা মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারে এবং বিলাসবহুল হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ জামাত। বিশেষ পোশাক পরিধান করে একত্রে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি ভীনদেশীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ঈদের জামায়াতগুলোতে স্থানীয় রাজনীতিক, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ প্রবাসের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ঈদের নামাজে কমিউনিটি, দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে একে অন্যের সাথে আলিঙ্গনের মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তৈরি হয় ভিন্ন এক আমেজ। নামাজ শেষে কেউ কেউ চলে যান কোরবানির পশু জবাই করতে খামারে বা হালাল স্লটার হাউজে। অনেকে আবার ঈদের নামাজ আদায় করেই চলে যান কাজে।

বাংলাদেশি গ্রোসারির পক্ষ থেকে জানা গেছে, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসলিভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যানসাস, আরিজোনা প্রভৃতি স্থানে প্রায় ৫০ হাজার পশু কোরবানি দিয়েছেন বাংলাদেশিরা। অধিকাংশ প্রবাসী অবশ্য আগে থেকেই স্থানীয় গ্রোসারী ও রেস্টুরেন্টে কোরবানির অর্ডার দিয়ে রাখেন। সুবিধামত সময়ে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট থেকে প্রবাসীরা তাদের পশু কোরবানির মাংস নিয়ে যান। তবে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট অধিকাংশ কোরবানির মাংস সরবরাহ করে ঈদের পরদিন। প্রবাসীরা গরু ও খাসী কোরবানি দেন। কিন্তু দেশের মতো পশু কিনে নিজ বাড়িতে নিয়ে কোরবানি করার সুযোগ না থাকায় উৎসবের ঘাটতির কথা জানালেন কেউ কেউ। তারা জানালেন, দেশের মতো ঈদের আনন্দ পাওয়া যায় না প্রবাসে।

অনেকে আবার সুন্দর পরিবেশে পবিত্র ঈদ উল আজহার নামাজ আদায় করতে পেরে ভীষণ খুশি। বললেন, অনেকটা দেশের মতই লাগছে। তবে দেশে থাকা মা-বাবা, পরিবারকে খুব করে মনে পড়ার কথা জানালেন তারা। ঈদের নামাজ শেষে ঘরে ফিরেই ফোনে বাংলাদেশে স্বজনদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মোবাইলে, স্ক্যাইপে দেশে-বিদেশে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু- বান্ধবদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েন অতিথি আপ্যায়নে। কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে যান লং ড্রাইভে। বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের ‘ঈদ আনন্দ’ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাইয়ের নিয়ম না থাকায় কোরবানির পশু জবাই করা হয় খামারে বা হালাল স্লটার হাউজে। তবে অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন গ্রোসারির মাধ্যমে পশু কোরবানি দেন।

ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষ প্রবাসী স্বজনের সাথে ঈদ করার জন্যে বাংলাদেশে গেছেন। তাদের প্রায় সকলেই ঈদুল আজহার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত