মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৫

লন্ডনে চিত্রশিল্পী মৌনী মুক্তার মাসব্যাপী একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিত্রশিল্পী মৌনী মুক্তা চক্রবর্তীর একক চিত্রকর্ম প্রর্দশনী ‘Tribeni: The Rhytham of water’ শুরু হয়েছে।

১ নভেম্বর লন্ডন বারা অফ টাওয়ার হ্যামলেট এবং কুইন মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে  এ সিজন অফ বাংলা ড্রামার অংশ হিসাবে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে থাকছে চিত্রশিল্পী মৌনী মুক্তা চক্রবর্তীর চল্লিশটি চিত্রকর্ম। এই প্রদর্শনী শেষ হবে চব্বিশে নভেম্বর।

সেইসাথে আগামী সতেরো নভেম্বর রবিবার বিকেল পাঁচটায় থাকছে Tribeni: The Rhytham of Water, live blend of music and arts শিরোনামে লাইভ আর্ট এবং প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সাংগীতিক পরিবেশনা। নদীভিত্তিক শিল্প ও সাহিত্য বিষয়কে উপজিব্য করে  অসীম চক্রবর্তীর রচনা এবং পরিচালনায় লাইভ আর্ট এন্ড মিউজিক এক্স পেরিমেন্টাল শো’য়ের মঞ্চায়নে সঞ্চালনা করবেন নাজিম অর্বাচীন। লাইভ আর্ট করবেন মৌনি মুক্তা চক্রবর্তী  এবং সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তৃষা ভট্টাচার্য এবং গ্যারি কাফলান।অনুষ্ঠানটির শিল্প-পরিকল্পনায় ছিলেন সুদীপ চক্রবর্তী এবং সার্বিক তত্বাবধানে সত্যব্রত দাশ স্বপন।

সংস্কৃত শব্দ ত্রিবেণী অর্থ হচ্ছে তিনটি নদীর মিলনস্থল। মৌনী মুক্তা চক্রবর্তীর সাথে কথা বলে জানা যায় এই প্রদর্শনীতে তিন একটি ম্যাজিক্যাল সংখ্যাকারণ এই প্রদর্শনীতে শিল্পী তিন ধরণের রং তিন ধরণের মাধ্যমে ব্যবহার করেছেন।  অর্থাৎ জলরং, এক্রেলিক কালার এবং অয়েল কালার ব্যবহার করেছেন উডেন ক্যানভাস, পেপার এবং কাপড়ের ক্যানভাসে। সেই সাথে তিন ধরণের বিষয়  অর্থাৎ পোট্রেইট, ল্যান্ডস্কেপ এবং এবস্ট্রাক্ট বিষয়ের উপরে ছবিগুলো এঁকেছেন।

মৌনী মুক্তা চক্রবর্তীর সাথে কথা বলে জানা যায় একজন শিল্পী হিসাবে তিনি সকল বাঁধা, বৈষম্য এবং নানা ধরণের ইজমের উর্ধে উঠে একটি মানবিকতা বোধসম্পন্নমুক্ত বুদ্ধির পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন। নানা সময়ে নানা বৈরিতায় তাঁর ক্যানভাস বিদ্রোহ করেছে।
 
তিনি শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে যেমন ছবি এঁকেছেন তেমনি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও তাঁর ক্যানভাস জ্বলে উঠেছে।বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উপর নানা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংহতি জানাতে আঁকেন রূপবান নামের একটি চিত্রকর্ম।

শিল্পীর কথায় জানাযায় বৃষ্টির জল যেমন খাল বিল নদী সাগর মহাসাগরে মিশে মানব সৃষ্ট সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ দেশান্তর। তেমনি যে কোনো শিল্পেরও কোনো সীমানা নেই। একমাত্র শিল্পই পারে সীমান্তের কাঁটাতার বিহীন একটি বিশ্ব তৈরী করতে।

উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মৌনী মুক্তা চক্রবর্তী ২০১২ সালে শান্ত মরিয়াম ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফাইন আর্টসে গ্রেডুয়েশন এবং মাস্টার্স শেষ করে একই ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৩ সালে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং ধীরে ধীরে সেখানে ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হিসাবে কাজ শুরু করেন।

এ যাবৎ পর্যন্ত মৌনী মুক্তা চক্রবর্তী বেশ কজন আন্তর্জাতিক শিল্পীর সাথে কাজ করেছেন এবং তাঁর আঁকা চিত্রকর্মস্থান পেয়েছে বাংলাদেশের বহু প্রদর্শনীতে। তবে লন্ডনে এটাই তাঁর প্রথম প্রদর্শনী।  

ইত্যবসরে যেসব আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সাথে কাজ করা হয়েছে তাঁর মধ্যে অন্যতম হলেন ইতালিয়ান বিখ্যাত চিত্রশিল্পী আনামারিয়া গেলেমি। ২০০৮ সালে আনামারিয়া বাংলাদেশে গেলে তাঁর কর্মশালায় অংশগ্রহণ শেষে মৌনির পেইন্টিং স্থান পায় উত্তরার ক্রিয়েটিভ ডেস্টিনেশনে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘এক্সিবিশন উইথ আনামারিয়া ২০০৮” শীর্ষক প্রদর্শনীতে। ২০০৯সালে Art to Wear’ এবং Prospects of Bangladesh in Product Design & Development’ নামে শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’র সাথে যৌথভাবে যথাক্রমে MARA University of Technology, Malaysia এবং Niederrhein University of Applied Science, Germany র দুটো প্রদর্শনী হয় ঢাকায়। দুটো প্রদর্শনীতে স্থান পায় মৌনী মুক্তা চক্রবর্তীর আরো দুটো পেইন্টিংস।

২০১০ সালে চিত্রশিল্পী অলোকেশ ঘোষ একটি কর্মশালায় শেষে ঢাকায় Watercolour 2010 নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেন সেখানেও প্রদর্শিত হয় আরো একটি চিত্রকর্ম। সাল ২০১১, ইউনিএইডের প্রণোদনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়নুল গ্যালারিতে আয়োজন হয় ‘Woman’s Violence’  নামের একটি প্রদর্শনী। সেই প্রদর্শনীতে স্থান পায় মৌনি মুক্ত চক্রবর্তীর একটি পেইন্টিংস। ২০১১ সালের শেষের দিকে শান্ত মরিয়াম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় চিত্রপ্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং ২০১২ সালে শিল্পাচার্যের জন্মস্থান ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘Young Art’ শিরোনামে একটি বৃহৎ চিত্রপ্রদর্শনীতে নিজের ছবি প্রশংসিত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত