মঙ্গলবার, , ২৬ মার্চ ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:০২

‘বাইচাল’ নিয়ে মঞ্চে আসছে নগরনাট

দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চনাটক নিয়ে আসছে সিলেটের প্রতিশ্রুতিশীল নাট্য সংঘটন নগরনাট। আগামী শুক্র ও শনিবার নগরীর কবি নজরুল অডিটরিয়ামে নগরনাট মঞ্চস্থ করবে তাদের ২৪ তম প্রযযোজনা 'বাইচাল'।

গোলাম শফিকের রচনায় ও অর্ধেন্দু দাশের নির্দেশনায় 'বাইচাল' নাটকটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে। ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া নগরনাট সর্বশেষ ২০১১ সালে হরধনুভঙ্গ মঞ্চস্থ করে। প্রায় ৭ বছর পর মঞ্চ নাটক নিয়ে আসছে দলটি। বাইচাল তাদের তৃতীয় মঞ্চ নাটক।

নাটকটির নির্দেশক অর্ধেন্দু দাশ বলেন, মহড়াকক্ষের অপ্রতুলতা, আর্থিক ও সামাজিক নানা সংকটের মধ্য দিয়ে নগরনাটের নাট্যবন্ধুদের প্রাণপণ সহযোগিতায় নাটকটির মঞ্চায়ন সম্ভব হচ্ছে। যদিও এ নাটকে অধিকাংশ কলাকুশলী নতুন। কিন্তু তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা আমাকে সাহস যুগিয়েছে অফুরান। নাট্যকারের সাথে সেতুবন্ধন না হওয়ায় প্রতিটি নাট্যঘটনা নিজেদের মতো করে তৈরি করেছি নাটকের অনুষঙ্গে জড়িতদের সহযোগিতায়।

বাইচাল নাটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  বাংলার ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে নৌকাবাইচ। যার সাথে বাঙালিমাত্রই একটা যোগসূত্র স্থাপিত হয়ে যায়। বিশেষত ভাটি বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা নৌকাবাইচ ছাড়া পূর্ণতা পায় না। তাই নৌকাবাইচ নিয়ে ভাটি অঞ্চলে জন্ম নিয়েছে বেশ কিছু মিথ ও লোকগাথা। এরকমই একটি লোকগাথা অনুসারে ভাটি অঞ্চলের নৌকাবাইচের উৎপত্তি এবং মুঘল আমলের ভাটি অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে এর যোগসাজশ নিয়েই নাটকের শুরু। এর আরো পরে, অর্থাৎ বর্তমানে র্নৌকাবাইচের যে হাল, সঙ্কট ও ভবিষ্যৎ তা-ই ওঠে এসেছে  নৌকাবাইচ আয়োজনের একটি গল্পের মাধ্যমে। যেখানে বাইচ সংগঠকদের প্রতিনিধিত্বশীল চরিত্র প্রদোষ মাস্টার, দুলাল চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কফিল উদ্দিনের নৌকাবাইচ টিকিয়ে রাখার আকুলতা আছে। আছে ভাটি বাংলার শাশ্বত অসাম্প্রদায়িক গ্রামীণ জীবন। এর মাঝে ঠাঁই পেয়েছে মিজান-মদিনার প্রকৃতিময় প্রাণবন্ত প্রেম।

তিনি জানান, এই নাটকে যে বাইচ আয়োজনের গল্প আছে তা বহুদিনের পুরোনো। বস্তুত এই বাইচ শ্রাবণ
সংক্রান্তি ও মনসা পূজাকেিন্দ্রক। বহুবছর ধরে বহু ঝড়ঝাপ্টা সহ্য করে উদ্দীপনায় মুখর এই উৎসব টিকে আছে কোনরকম। ১৯৭১ সালে মনসা পূজা ও এর আগের দিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজাকাররা মাকালকান্দি, নবীগঞ্জ, নিকলী দামপাড়া, তাড়াইলসহ ভাটি অঞ্চলে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। তারপরও এই ঐতিহ্য মরে যায়নি। কিন্তু আজ স্বার্থপর ভোগবাদী সমাজে এই নৌকাবাইচ মৃতপ্রায়।

আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশেল এই উৎসব গৌরব নিয়ে বেঁচে থাক হাজার বছর।

দীর্ঘদিন পর মঞ্চ নাটক আসা প্রসঙ্গে নাগরনাট'র সভাপতি অরুপ বাউল বলেন, মানুষের মুক্তির জন্য সংস্কৃতি চর্চাই কেবল নাটকে সীমাবদ্ধ রাখলে তাতে সামগ্রিকতা অর্জন সম্ভব নয়। যখন যে শিল্প মাধ্যমের প্রয়োজন তারই চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রজন্মকে প্রস্তুত করে দিতে হবে তাদের ভাবনা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম। এই চিন্তা থেকেই মূলত একটি নাট্য সংগঠন থেকে বহুমুখী সাংস্কৃতিক সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে নগরনাট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত