মঙ্গলবার, , ২৬ মার্চ ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:৩৬

নীল আকাশের নীচ থেকে চিরবিদায় মৃণাল সেনের

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম নির্মাতা মৃণাল সেন আর নেই। রোববার সকাল ১০টায় কলকাআর ভবানীপুরের নিজ বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। ৯৫ বছর বয়সী গুণী এই নির্মাতা দীর্ঘদিন থেকেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

বাংলা চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়ের পাশাপাশি খ্যাতির চূড়ায় উঠেছিল মৃণালের নামও। রাজনৈতিক চিন্তা দিয়ে চলচ্চিত্রকে ভিন্ন ভাষা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

১৯২৩ সালের ১৪ মে অবিভক্ত ভারত বর্ষের (বর্তমান বাংলাদেশ) ফরিদপুরে জন্ম হয় মৃণালের। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ফরিদপুরেই পড়াশোনা করেছেন তিনি। কলকাতায় গিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজ ও পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এক সময় কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত এই নির্মাতা।

১৯৫৫  সালে ‘রাত ভোর’-এর মাধ্যমে পরিচালনা শুরু করেন মৃণাল। তার পরের ছবি ‘নীল আকাশের নীচে’। সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যেও মানুষের মনে গাঁথা আছে এটি।  
১৯৬৯ সালে তাঁর পরিচালিত ছবি ভুবন সোম মুক্তি পায়। বিখ্যাত অভিনেতা উৎপল দত্তের অসামান্য অভিনয়ের কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে ছবিটি। এই চলচ্চিত্রের কাজ দিয়ে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি।  

কলকাতা ট্রিলোজি অর্থাৎ ইন্টারভিউ (১৯৭১), ক্যালকাটা ৭১ (১৯৭২) এবং পদাতিক (১৯৭৩) ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্থির অবস্থাকে তুলে ধরেছিলেন। মধ্যবিত্ত সমাজের নীতিবোধকে মৃণাল সেন তুলে ধরেন তাঁর খুবই প্রশংসিত দুটি ছবি এক দিন প্রতিদিন (১৯৭৯) এবং খারিজ (১৯৮২) এর মাধ্যমে।

১৯৮০ সাল তিনি বানিয়েছিলেন আকালের সন্ধানে। এই ছবিতে দেখানো হয়েছিল একটি চলচ্চিত্র কলাকুশলীদলের একটি গ্রামে গিয়ে ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষের উপর একটি চলচ্চিত্র তৈরির কাহিনী। কীভাবে ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের কাল্পনিক কাহিনী মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় সেই গ্রামের সাধারণ মানুষদের সাথে সেটাই ছিল এই চলচ্চিত্রের সারমর্ম। আকালের সন্ধানে ১৯৮১ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার হিসাবে রুপোর ভালুক জয় করে। মৃণাল সেনের পরবর্তীকালের ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহাপৃথিবী (১৯৯২) এবং অন্তরীন (১৯৯৪)। এখনও অবধি তার শেষ ছবি 'আমার ভুবন' মুক্তি পায় ২০০২ সালে।

 
২০১৭-এ মারা যান মৃণালের স্ত্রী গীতা। মৃত্যুকালে মৃণাল তাই রেখে গেলেন পুত্র কুণালকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত