শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, দিরাই

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০

শাহ আবদুল করিমের ১০ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১০ম মৃত্যু দিবস। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি সিলেটের নুরজাহান জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শাহ আবদুল করিমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে নিজ বাড়ি দিরাইয়ের উজান ধল গ্রামে স্ত্রীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

করিম তাঁর গানে লিখেছেন-
জীবন লীলা সাঙ্গ হলে
শুয়ে থাকব মায়ের কোলে
তাপ অনুতাপ ভুলে।

জীবন লীলা সাঙ্গ করে তাপ অনুপাত ভুলে শুয়ে আছেন আবদুল করিম। তবে রয়ে গেছে তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলো। গানের মধ্য দিয়ে তাই এখনও বেঁচে আছেন বাংলা লোকগানের এই সম্রাট।

দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বাউল সম্রাটের একমাত্র পুত্র নূর জালাল জানান, আজ বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে বাউল সম্রাটের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা সভা করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ। বিশেষ অতিথি দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত করিম ভক্তরা করিমগীতর আসর বসাবেন।

ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল আশ্রম গ্রামে ১৯১৬ ইংরেজির ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহ আবদুল করিম জন্ম গ্রহণ করেন। শাহ আবদুল করিমের জন্ম এক দিনমজুর পরিবারে। পিতা ইব্রাহীম আলী মা নাইওরজান বিবি। জন্মের পর থেকে অভাবের মধ্যেই তিনি বেড়ে উঠেন। অভাবের কারণে শিক্ষা লাভের সুযোগ আসেনি তাঁর জীবনে। তাই গ্রামের মোড়লের বাড়িতে গরু রাখালের চাকরী নিলেন তিনি। সাড়া দিন মাঠে গরু চড়াতেন আর গান গাইতেন। এ গানই রাখাল বালককে বাউল সম্রাটে পরিণত করেছে। ১

১৯৫৪ সারে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল করিম।

১৯৬৭ সালে শেখ মুজিব পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সুনামগঞ্জে প্রথম সরকারী সফরে আসেন। কোন এক কারণে সেদিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী মাহমুদ আলীর অনেকে নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জনসভা বর্জন করেছিলেন। তখন শাহ আবদুল করিম জনসভাস্থলে এসে গান ধরেন তখন জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের ভাটি অঞ্চল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যোগ দেন করিম। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা যখন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাতে ভাটি অঞ্চলে আসেন তখনও তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন শাহ আবদুল করিম।

শাহ আবদুল করিমের গানের বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আফতাব সঙ্গীত, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় গণসংগীত, ১৯৮১ সালে কালনীর ঢেউ, ১৯৯০ সালে ধলমেলা, ১৯৯৮ সালে ভাটির চিঠি, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় শাহ আবদুল করিম রচনা সমগ্র।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত