আজ বৃহস্পতিবার, , ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ইং

রাবি প্রতিনিধি

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৫৬

রাকসু নির্বাচনের দাবিতে রাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দাবিতে আন্দোলনের পর এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও শপথ গ্রহণ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে শপথ নেন তারা।

এ সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকি বলেন, "২৭ বছর ধরে আমরা অভিভাবকহীন। রাবি শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি প্রশাসনকে জানাতে পারছি না। ক্যাম্পাস এখন নিরাপত্তার অভাবসহ নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত। অথচ ’৭৩ অ্যাক্ট অনুযায়ী আমাদের এই দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার কথা রাকসু প্রতিনিধিদের। কিন্তু গত ২৭ বছর ধরে রাকসু অচল। এখন পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক সংগঠন বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের প্রাণের দাবিকে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাই আমরা রাবি'র সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।"

ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রশিদ রফিকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, "আমরা শুনেছি অতীতে ছাত্র সংসদ ছিল। জাতীয় আন্দোলনগুলোতে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই রাকসু দরকার। অবিলম্বে রাকসু সচল করতে হবে। যতদিন না রাকসু কার্যকর করা হয়, ততদিন আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।"

এরপর শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড়িয়ে মোমবাতি হাতে শপথ গ্রহণ করেন বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। শপথ বাক্য পাঠ করান ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকি।

এসময় শিক্ষার্থীরা এই শপথটি পাঠ করেন- ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য রাকসুর কোনো বিকল্প নেই। রাকসু সচল করার দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। রাকসু সচল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের এই ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রশাসনের সাথে কোন ধরণের আপোষে যাবো না এবং কোন সংগঠনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে এই আন্দোলনকে বানচাল করার কোন ধরনের হীন চেষ্টা করব না। কেউ করলে তা প্রতিহত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এই আন্দোলনে যত ধরণের বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমরা তা সাহসিকতার সাথে প্রতিহত করাসহ আন্দোলনকে সফল করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থ রক্ষার্থে আমরা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জনে সদা প্রস্তুত থাকবো। আন্দোলন সফল হোক, শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, ছাত্র সমাজের জয় হোক।’

রাকসু সচলের দাবিতে আগামী ১৫ ডিসেম্বর গণস্বাক্ষর কর্মসূচী শুরু হবে বলে শপথ গ্রহণ শেষে জানানো হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত