বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ ইং

হোসাইন ইমরান, শাবি

১৭ মে, ২০১৯ ২৩:১৮

শাবিতে জোবাইক: সেবা নাকি ব্যবসা?

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া জোবাইকের অ্যাপসভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং সেবার নানান সমস্যায় ভোগান্তিতে রয়েছেন সেবাগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা।

সাইকেলের লক-আনলক, নির্দিষ্ট পরিমাণ থেকে অধিক ভাড়া চার্জ, নির্দিষ্ট স্পটে সাইকেল না থাকা, ব্যালেন্স রিচার্জে সমস্যা, প্রয়োজনে সেবা না পাওয়াসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত জোবাইকের এই সার্ভিসটি।

সেবা দেওয়ার প্রত্যয়ে বেশ জনপ্রিয়তা নিয়ে জোবাইকের যাত্রা শুরু হলেও সেবা প্রদানের মাধ্যমে সেই আস্থা অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এখন শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন আসলে এই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য সেবা প্রদান নাকি ব্যবসার মাধ্যমে পুঁজি লাভ?

জোবাইকের সেবা প্রদানের নানান সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ব্যবস্থাপক ইশতিয়াক আহমেদের সাথে।
দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রতীয়মান সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করে রাখব। সেই অনুযায়ী আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো।”

জোবাইকের সেবা গ্রহণে সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় লক-আনলক করার ক্ষেত্রে। গুগুল প্লে-স্টোর থেকে জোবাইকের মোবাইল এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে প্রথমে নিবন্ধন করতে হয়। ব্যালেন্স রিচার্জের পরে কিউআর কোড স্ক্যান করে খুলতে হয় সাইকেলের লক।

কিন্তু সাইকেলের দুর্বল নেটওয়ার্ক শক্তির কারণে প্রায় সময় আনলক করতে পারে না। অনেকসময় লক করার ক্ষেত্রেও লক নিতে পারে না সাইকেলটি। ফলে আনলক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় রিচার্জ ব্যালেন্স শূন্যের ঘরে চলে আসে।

তাছাড়া পাঁচ মিনিটের রাইডে ৩ টাকা চার্জ হলেও সময় বেড়ে ৬মিনিট হয়ে গেলে ভাড়া চার্জ হয় ৬টাকা। সেই হিসেবে মিনিট প্রতি ১টাকা চার্জ উচ্চমূল্য বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

মিনিট প্রতি চার্জ ১টাকা বেশি মনে করছেন কি না এমন প্রশ্নে জোবাইকের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হাবিব বলেন, “না, বেশি না। আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য রাইডিংয়ে মিনিট প্রতি একটা টাকা চার্জ করি। শুধু ক্যাম্পাসে ৫মিনিটে ৩ টাকা করি। ৬মিনিট হয়ে গেলে আমরা পরের পাঁচ মিনিট হিসেবে করে চার্জ ৬ টাকা করি।”

কখনও কখনও ১০মিনিট রাইডে ৬ টাকা চার্জের পরিবর্তে অ্যাপস বিভ্রাটের কারলে ৪০টাকা বা ৫০টাকা, কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যালেন্স শূন্য করে চার্জ করা হয়। জোবাইকের বিরুদ্ধে এধরনের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ সেবাগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের।

এ ব্যাপারে হাবিব বলেন, “এরকম খুব একটা হয় না। হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের টাকা আমরা ফেরত দেই, রিব্যালেন্স করি।”
নির্দিষ্ট স্পটে সাইকেল না পাওয়া, সাইকেলের স্বল্পতা, ব্যালেন্স রিচার্জ সমস্যাও একটা বড় ধরনের সমস্যা।

তিনি বলেন, “আমরা ৪৫টি সাইকেলের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বাইরে থেকেও মানুষ এস ক্যাম্পাসে জোবাইক চালায়। এজন্য সব স্পটে জোবাইক রাখা সম্ভব হয় না।”

রাত ১০টার পর জোবাইক সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়, যখন রিক্সা বা টমটমও পাওয়া যায় না। যে সময়টাতে শিক্ষার্থীদের জোবাইক বেশি প্রয়োজন হয়, সে সময় তাদের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাহলে জোবাইকের লক্ষ্য কি শুধু মাত্র রিক্সা বা টমটমের বিকল্প হওয়া?

এ প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, “আমরাও চাই ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দিতে। অন্যান্য ক্যাম্পাসে আমরা ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দিয়ে আসছি। কিন্ত্র এখানে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের বলেছেন রাত ১০টার পরে বন্ধ করে দিতে। ”

রাত ১০টার পরে জোবাইক চলতে প্রশাসনের বাধা কেন’ এমন প্রশ্নে শাবি প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ আমাদের ক্যাম্পাসের অবস্থান অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো না। একটা গ্রামের মাঝখানে আমাদের ক্যাম্পাস। তাছাড়া চারিদেক এখন খোলা। যে কেউ বাইরে থেকে ঢুকে যেতে পারে। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই আমরা ১০টার সাইকেল চালাতে দিতে পারি না।”

জোবাইক সার্ভিসের পর ক্যাম্পাসে বাড়ছে সাইকেল দুর্ঘটনার পরিমাণ। বিশেষ করে ছাত্রীদের দুর্ঘটনায় বেশি পড়তে দেখা যায়। তবে গ্রাহকদের বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ আছে জোবাইক কর্তৃপক্ষের।

হাবিব বলেন, “ক্যাম্পাসের ভেতরে সাইকেল রাইডের নিয়ম হলেও অনেকে বাইরে শহর বা পাশ্ববর্তী গ্রামের দিকে সাইকেল নিয়ে চলে যান। এক্ষেত্রে আমাদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। যেখানে সেখানে তারা সাইকেল ফেলে চলে যান। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে গ্রাহকরা সাইকেল পান না।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত