বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ ইং

শাবি প্রতিনিধি

২১ মে, ২০১৯ ২২:১১

ঈদে হল খোলা রাখার দাবি শাবি শিক্ষার্থীদের

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের হল বন্ধের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে হল খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির মধ্যে ২৪মে থেকে ১৩জুন পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েদের সকল আবাসিক হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রতিবছর সাময়িকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে হল বন্ধ করা হলেও এখন থেকে বড় বড় সকল ছুটিতে হল বন্ধ রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট হাসান জাকিরুল ইসলাম।

গ্রীষ্মকালীন ছুটি, শবে-কদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ১৫মে থেকে ১৩জুন পর্যন্ত সকল একাডেমিক এবং ২২মে থেকে ১৩জুন পর্যন্ত সকল অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন বন্ধে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বলে হল বন্ধ রাখলেও এবারই প্রথম হল বন্ধের নিয়মের কথা আসল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

২০ মে সকল আবাসিক হলগুলোতে বন্ধের বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি গেলে এর প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। হল খোলা রাখার দাবি নিয়ে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সাথে সাক্ষাতও করেছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “হল বন্ধের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের।"

“আমরা হল খোলা রাখার দাবি রাখলাম উপাচার্যের কাছে। অনেকে পরীক্ষার জন্য, টিউশনির জন্য হলে থাকতে চায়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনেকে হলে থাকতে চায়। কিন্তু তিনি আমাদের সংখ্যাকে মাইনরিটির বলেছেন।”

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি নাযিরুল আযম বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির সময় হল বন্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীরা চাইলে হলে থাকতে পারবে। পড়াশোনা করতে পারবে। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।”

জাতীয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক জুয়েল চাকমা প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন,  "গত তিন বছর যাবত সার্বিক নিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতার অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসন হল বন্ধের সংস্কৃতি চালু করেছে। বলা বাহুল্য যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তকে নিয়ম হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করছে। জাতীয় ছাত্রদল এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সাথে সাথে তা বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত  শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনের উদাসীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।"

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে হল বন্ধের বিষয়ে নতুনভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিবেন কিনা জানার জন্য হল প্রভোস্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তারা বলেন, "এটা হাই অথোরিটির সিদ্ধান্ত। আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।"

তবে কয়কেদিন আগে হল বন্ধের যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট জাকিরুল ইসলাম সিলেটটুডেকে বলেছিলেন, হল বন্ধের যৌক্তিক কারণ আছে।
বন্ধের সময় কারা হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে কারা সামাল দিবে?

"বন্ধের সময় সবাইকে বাড়ি যেতে হয়। আমরাও বাড়ি যাই। কীভাবে আমরা হল খোলা রেখে বাড়ি যাই? তাছাড়া হলেও তেমন শিক্ষার্থীরা থাকে না। তাই আমরা এখন থেকে হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"


 




 


আপনার মন্তব্য

আলোচিত