বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ ইং

হোসেইন ইমরান, শাবি

১১ জুলাই, ২০১৯ ১৯:১০

❛৯৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পে বদলে যাবে শাবি❜

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। যার বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জরাজীর্ণ চিত্র বদলে যাবে বলে মনে করছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বসেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি মেঘা প্রজেক্ট, যার বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চিত্র পাল্টে যাবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের আবাসিক সমস্যা ও একাডেমিক স্পেসের সঙ্কট দূর হবে।’

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শাবির অধিকতর উন্নয়নের জন্য ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।


উপাচার্য বলেন, ‘এই উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ২০টি খাত রয়েছে। এর মধ্যে ১০তলা বিশিষ্ট দুটি আবাসিক হল, গ্র্যাজুয়েট ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৭তলা বিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক হোস্টেল, শিক্ষকদের জন্য ১১তলা বিশিষ্ট ৪টি ডরমিটরি, কর্মচারীদের জন্য ১০তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন, ১০তলা বিশিষ্ট তৃতীয় প্রশাসনিক ভবন, ১০তলা বিশিষ্ট ৪টি একাডেমিক ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের জন্য ৬তলা বিশিষ্ট ভবন, ১০তলা বিশিষ্ট ক্লাব কমপ্লেক্স ভবন, আবাসিক হলের ছাত্রদের জন্য ৪তলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হবে।’

এছাড়া কেন্দ্রীয় গ্যারেজ বর্ধিতকরণ, প্রধান সড়কের উভয়পাশে দুইটি ব্রিজ এবং বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন নির্মাণের কথা এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

উপাচার্য আরো বলেন, ‘ল্যাব ও গবেষণাগারের সমস্যা আগের প্রকল্পে (২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পে) অনেকটা সমাধান করা হয়েছে। অনেক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এখন আমাদের প্রধান সমস্যা অবকাঠামোগত, ভবন তথা স্পেস সঙ্কট, যা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সমাধান হয়ে যাবে। আগামী দুই দশক আমাদের আর স্পেস সঙ্কটের সমস্যায় ভুগতে হবেনা।’

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালের পহেলা ফাল্গুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দীর্ঘ ৩৩ বছরে ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হল রয়েছে মাত্র ৫টি (একটি অপূর্ণাঙ্গ), একাডেমিক ভবন ৬টি, শিক্ষক-কর্মকর্তার থাকার ভবন রয়েছে ১টি করে। প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। স্পেস সঙ্কটের কারণে অনেক বিভাগ সুষ্ঠুমত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। কখনও কখনও কয়েকটি বিভাগ মিলে পর্যায়ক্রমে একই রুমে ক্লাস নিয়ে থাকে। ল্যাব না থাকার কারণে অনেক বিভাগ তাদের গবেষণা কাজ চালিয়ে যেতে পারছে না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত