মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:৩৩

এইচএসসি উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সংবর্ধনা

চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করেছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি।

শনিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নগরীর রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী।

সিলেটের ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩শ কৃতি শিক্ষার্থীকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাজী সাইফুল হাসানের সঞ্চালনায় ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেনের স্বাগত বক্তব্যে সূচিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্কলার্সহোম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানমঞ্চ আলোকিত করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য নয়-এই বিশ্বাস নিয়েই ২০০৩ সাল থেকে গৌরবের সাথে পথ চলছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। অনেকেই বলেন, আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি খুব কঠিন। আমরা চাইলে স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ করতে পারতাম। কিন্তু আমরা চাই, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে যারা গ্র্যাজুয়েট হয়ে বেরোবে, তারা যেন আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়েই বের হয়। মানসম্পন্ন, মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যেই আমরা পরীক্ষা পদ্ধতি কঠিন রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলেই চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে পথ চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রাচুর্য মানুষকে সুখ দেয় না। সুখ সৃষ্টি করতে হবে নিজের বিবেক জাগ্রত করে, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকী মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘এইচএসসি উত্তীর্ণদের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী বলেন, ‘মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। কারণ, এটা দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো কারণে আমি বিষণ্ণবোধ করলে ক্যাম্পাসে ছুটে আসি, সময় কাটাই। যারা এইচএসসি পাস করেছো, তারা কখনো বিষণ্ণবোধ করলে ভুল পথে পা বাড়াবে না। বরঞ্চ পরিবারের সাথে সময় কাটানো, ক্যাম্পাসে আসা, সহপাঠীদের সাথে আড্ডা ও ক্লাস করার দিকে মনোযোগ দেবে। জীবনে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাহের বিল্লাল খলিফা, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম রবিউল হোসেন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল হক চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এসএম আলী আক্কাস, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মুহিতুল বারী রহমান, সিএসই বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. মোকাম্মেল ওয়াহিদ, পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) তারেক ইসলাম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিহির কান্তি চৌধুরী, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা লোকমান আহমদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্লাইড শোর মাধ্যমে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এমরান উদ্দিন।

শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ ইসমাইল হোসেন, গীতা পাঠ করেন শান্তি রায়।

সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখে নুসরাত হক মিলা ও মাহিদুল হক মাহি।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন অতিথিরা। এ পর্বের শেষ পর্যায়ে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৪ জনকে ট্যাবসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল ক্লাবের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত