রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

শাবি প্রতিনিধি

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:১২

শাবিতে হল খোলা রাখার দাবিতে মানববন্ধনে প্রশাসনের বাধা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শীতকালীন ছুটিতে আবাসিক হল খোলা রাখার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধার প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মানববন্ধনকারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির বাধায় তারা সমাবেশ করতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (২০নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করেন তারা।  শীতকালীন অবকাশ ও সমাবর্তনের সময়ে নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে হল খোলা রাখার দাবিতে এ মানববন্ধনে প্রক্টরিয়াল বডির ‘অনুমতি না নেয়ায়’ অভিযোগ এনে তাদেরকে দাঁড়াতে দেয়নি প্রশাসন।

মানববন্ধন চলার একপর্যায়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষার্থীরা।

বাকবিতন্ডায় শিক্ষার্থীরা বলেন, সমাবতর্নের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন কেন্দ্রিক হল একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয় না। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এক সময় শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ও হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

কিন্তু আমাদের এখানে বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য কোন সুযোগ রাখা হয়নি। দীর্ঘদিনের জন্য হল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় বাধা হিসেবে কাজ করবে।

এসময় অনুমতির বিষয়ে প্রক্টরকে শিক্ষার্থীরা বলেন ‘আর যেকোন যৌক্তিক বিষয়ে কথা বলা কিংবা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করার শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার সময় অনুমতি নিতে হয় না।’ তারা এও বলেন, সবাই সবসময় অনুমতি নিলে ৫২ কিংবা ৭১ কখনোই সৃষ্টি হত না।

শিক্ষার্থীদের কথার প্রেক্ষিতে প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাসে যেকোন অবস্থানমূলক কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের অনুমতি আবশ্যক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মানতে হবে। শিক্ষার্থীদের যেকোন যৌক্তিক দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে হবে। প্রশাসনের সাথে দাবি নিয়ে আলোচনা না করে এখানে দাঁড়ানো কোন সমাধান হতে পারে না।

পরে প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা হয়। পরবর্তীতে মানববন্ধন ও সমাবেশে বাধাদানের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং হল বন্ধের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক দাবি করে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, আগামী বছরের ৮ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৩য় সমাবর্তনের নিরাপত্তার ইস্যু সামনে এনে গত সোমবার এক জরুরী সিন্ডিকেটে শীতকালিন ছুটি ডিসেম্বর (১৮-৩১) থেকে পিছিয়ে জানুয়ারিতে (৫-১৬) নেয়া হয়। ছুটিতে ক্যাম্পাস বন্ধের পাশাপাশি হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত