রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:২৯

সিঁড়িতেই ক্লাস নিলেন রুশাদ ফরিদী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী ক্লাসে ঢুকতে না পেরে সিঁড়িতেই পাঠদান করেছেন।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সিঁড়িতে বেলা সোয়া ১২টায় দিকে ক্লাস শুরু করেন তিনি। এরআগে, তিনি চতুর্থ দিনের মত বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

ড. রুশাদ ফরিদীর পরিসংখ্যানের প্রথম পাঠ শিরোনামের এই ক্লাসে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন, তাদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।

রুশাদ ফরিদী ক্লাস শুরুর সময়ে এই দিনটিকে তার জন্যে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তার সমালোচনা ছিল শিক্ষকদের নিয়ে। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক ক্লাস নেন না। অনেক শিক্ষককে মাঝেমধ্যে ক্লাসে উপস্থিত দেখলে অনেকে অবাকও হন।

বিশ্বের নানা জরিপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার হাজারের মধ্যেও স্থান না পাওয়ায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচকে স্থান পাওয়ার আগে প্রথমে সেটাকে ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এটা বিশ্ববিদ্যালয় নয়। বিদ্যালয় হতে হলে প্রথমে পাঠদানের বিষয় থাকবে, কিন্তু এখানে অনেক শিক্ষক সেটা করেন না; এখানে গবেষণার সুযোগ কম। এজন্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জবাবদিহি না থাকার প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন।

রুশাদ ফরিদীর এই ক্লাসে পরিসংখ্যানের নানা বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন।

তার এই পাঠদান কার্যক্রম বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ফেসবুক থেকে লাইভ প্রচারিত হয়।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহকর্মীদের সম্পর্কে ‘বাজে মন্তব্য’ করার অভিযোগে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের আগস্টে সিন্ডিকেটের সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এরপরও ক্লাসে ফিরতে বাধার শিকার হয়ে বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন রুশাদ ফরিদী। এরপরেও কোন কাজ হয়নি বলে এবার ক্লাসরুম না পেয়ে সিঁড়িতেই ক্লাস নেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের এই শিক্ষক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত