রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ ইং

রিপন দে

০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ২৩:৫৯

অর্থমন্ত্রীর ‘পাকিস্তানপ্রীতি’, আমাদের লজ্জা

ছবি: সংগ্রহ

পাকিস্তানকে ঘৃণার কারণ নতুন করে উল্লেখের কিছুনাই। শুধু একটি পরিসংখ্যান নতুন করে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭১-এ ৯১ হাজার ৫৪৯ জন পাক হানাদার বাহিনীর সৈন্য আত্মসমর্পণের আগে মাত্র ৯ মাসে ৩০ লাখ হত্যা আর ২ লাখ ধর্ষণ করে। একজন পাকিস্তানি গড়ে কয়টা খুন আর ধর্ষণ করেছে সে হিসাব নিয়ে একবার ভাবলে সহজেই বুঝা যাবে কত বর্বর জাতি এই পাকিস্তানিরা।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন ৭১-এর হিসাব টেনে নতুন প্রজন্মের পাকিস্তানিদের ঘৃণার কারণ কী? তাদের অপরাধ কী? তাদের হয়ত জানা নেই পাকিস্তান তার শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ নিয়ে এমন মনগড়া ইতিহাস লিখছে এবং শিক্ষা দিচ্ছে যে নতুন প্রজন্মে প্রতিটি পাকিস্তানি বাংলাদেশকে ঘৃণা করে করেই বড় হচ্ছে। এ যেন সাপের থেকে সাপ বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে। ইতিহাস বলে একটি পরাজিত জাতির পরবর্তী প্রজন্ম ২০০ বছর পর্যন্ত তারা পরাজয়কে সহজ ভাবে নিতে পারেনা। তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি বারবার। আমরা যখন স্বাধীন দেশে পাকিদের দোসর রাজাকারদের বিচার করেছি তখন এই পাকিস্তানিদের নতুন প্রজন্ম রাজপথে এর প্রতিবাদ করেছে।

শুধু তাই নয় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আজীবন আমাদের দেশকে ধ্বংস করার পায়তারা করে গেছে। সম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে খুন করার পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তানিরা কোনদিন বদলাবেন তা বুঝতে পেরেছিলেন 'বাংলার সক্রেটিস' হুমায়ুন আজাদ স্যার তাই তিনি বলেছিলেন, ‘‘পাকিস্তানকে আমি ঘৃণা করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে তখনও’’। আমাদের দেশের আরেক জনপ্রিয় লেখক শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল স্যার বলেছেন “তিনি যখন বিমানে করে পাকিস্তানের উপর দিয়ে যান নিচের দিকে তাকাননা কারণ পাকিস্তানের মাটি দেখবেন বলে”।

সেই পাকিস্তানের প্রতি বারবার একধরনের প্রীতি দেখাচ্ছেন আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। সর্বশেষ বিপিএলের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স শিরোপা জয়ের পর মাঠে নেমে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী হয়েও তিনি পাকিস্তানি রক্তের প্রতিনিধি শাহিদ আফিদ্রির বুকে শিশুদের মত মাথা রেখে জড়িয়ে ধরেছেন। খুবই দৃষ্টিকটু অবস্থায় আফ্রিদি তার বাহুর নিচে মন্ত্রীকে যেভাবে রেখেছে তা দেখে দেশপ্রেমিক প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। জন্ম নিতে গিয়ে যে বাংলাদেশের ৩০ লাখ শহীদের রক্ত দিতে হয়েছে সে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী তাও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও সব প্রটোকল ভুলে পাকিস্তানপ্রীতি দেখিয়েছেন তা আমাদের জন্য লজ্জার।

জীবনের নিরাপত্তার অভাবে যখন কোন দেশ পাকিস্তানে খেলতে আসছিল না তখন মুস্তাফা কামাল সাহেব বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এত এত খেলোয়াড়ের জীবন হুমকির মধ্যে রেখে পাকিস্তানে পাঠাতে চেয়েছিলেন, যদিও পারেননি নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের কারণে। তার সে সিদ্ধান্তের বাইরে সব মহল থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে যার কারণে মুস্তাফা কামাল সাহেব বাধ্য হন তা বাতিল করতে। তখন তিনি ছিলেন বিসিবির সভাপতি। আমাদের নারী ক্রিকেট দল পাকিস্তানে যে সফর করে তার মুল কারিগর মুস্তাফা কামাল সাহেব। শুধু তাই নয় মুস্তাফা কামাল সাহেবের মেয়ের দলে রীতিমত পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে বিপিএলে।

প্রায়ই একটা উপদেশ শোনা যায় “খেলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না”। আচ্ছা পৃথিবীতে এমন কিছু কি আছে যা রাজনীতির বাইরে? আমদের ক্রিকেটার ছিলেন জুয়েল। গত মাসের ১৮ তারিখ ছিল শহীদ জুয়েলের জন্মদিন। পুরো নাম আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েল। ক্রিকেটার হিসেবে ছিলেন প্রথম সারির কাতারে। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কায়েদে আজম ট্রফিতে ৭টি ম্যাচ খেলেছিলেন শহীদ জুয়েল। আজাদ বয়েজের হয়ে খেলেছেন দীর্ঘদিন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আগে সর্বশেষ খেলেছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে। ইচ্ছা ছিল দেশ স্বাধীন হবে কিন্তু সেই জুয়েলকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল আফ্রিদির পূর্বপুরুষেরা। খেলা সাথে রাজনীতিকে যারা মিশাতে চান না তারা হয় অন্তরে পাকিস্তানপ্রীতি রাখেন নয়তো জেনে বুঝে আমাদের ৫২ এবং ১৯৭১-কে অপমান করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় রকিবুল হাসান বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য “জয় বাংলা লেখা ও স্বাধীন বাংলা’র মানচিত্রে আঁকা ব্যাট নিয়ে খেলতে নামেন শুধু এই কারণে রকিবুল হাসানকে হত্যা করার নির্দেশ দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ ও ড. জাফর ইকবাল এর বাবাকে নির্মমভাবে যে সেনা হত্যা করে সে ছিল পাকিস্তানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন একজন খেলোয়াড়।

পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড ইমরান খান। সেই ইমরান খান ৭১-এর কুখ্যাত খুনি জেনারেল নিয়াজীর ভাতিজা। যে নিয়াজী আমাদের ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লক্ষ ধর্ষণের মুল পরিকল্পনাকারী। হয়তো ভাবছেন চাচার দোষে ভাতিজা কেনও দোষি হবে? উত্তর একটাই পাকিস্তানিদের অবস্থা- সাপের বাচ্চা সাপই হয়। রাজাকার কাদের মোল্লার রায়ের পর এই ইমরান খান প্রকাশ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

এই ইতিহাস কমবেশি সবারই জানা কিন্তু লজ্জা সেখানে, যেখানে আমাদের অর্থমন্ত্রী তা মনে রাখেন না সাধারণ মানুষ কিভাবে মনে রাখবে?

  • [প্রকাশিত লেখায় মতামত, মন্তব্য ও দায় লেখকের নিজস্ব]

আপনার মন্তব্য

আলোচিত