রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ ইং

বিজিত কুমার আচার্য্য

০৫ আগস্ট, ২০১৯ ১১:২৫

রোপা আমন চাষাবাদ পদ্ধতি ও পার্চিং

বাংলাদেশের কৃষি আবাদি জমিতে দিনদিন যেভাবে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে সে তুলনায় জমিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে না। সেজন্য আমাদের উচিত নিরাপদ ফসল উৎপাদনের দিকে নজর দেয়া। আমরা যদি এখন নিরাপদ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি না করি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মৃত্যুর সম্মুখীন করে যাব।

আমরা এতদিন কৃষিতে যে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য উৎপাদনের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমরা তা সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আজ আমাদের খাদ্য উৎপাদন নিয়ে ভাবনা নেই বললেই চলে। কেননা আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেই খাদ্য রপ্তানি করে আমাদের দেশকে ধান উৎপাদনে বিশ্বে একটি নির্ধারিত স্থানে অবস্থান দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য হল ধান। ধানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় বোরো, পরে রোপা আমন ও আউশ। অথচ আমরা এই বোরো ধান শুষ্ক মৌসুমে আবাদ করতে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে সাড়ে চার হাজার লিটার পানি খরচ করি। এছাড়া আমরা এই ধান চাষে ব্যাপকমাত্রায় যেভাবে কীটনাশক ব্যবহার করছি তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের উচিত কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার কমিয়ে এনে নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন।

রোপা আমন ধান চাষে প্রথমে ভাল জাতের বীজ নির্বাচন, বীজতলা প্রস্তুত, প্রতি বিঘা জমির জন্য ২-৩ কেজি বীজ বপন, চাষের জমি নির্বাচন, জমিতে ৪-৫ টি চাষ মই দিতে হবে, এর সাথে পর্যাপ্ত জৈব সার ব্যবহার, রাসায়নিক সারের মধ্যে বিঘা প্রতি ১০ কেজি এমওপি, ১০ কেজি টিএসপি, ৫-৮ কেজি জিপসাম চাষের সময় ব্যবহার করে ১২-১৫ দিনের চারা মূল জমিতে সারিতে ও লগো পদ্ধতিতে রোপণ করতে হবে।

রোপা আমন ধান চাষে প্রথমেই সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া একান্ত দরকার। পার্চিং হল জমিতে ডাল কিংবা খুঁটি পুঁতে কৃত্রিমভাবে পাখি বসার স্থান করে দেওয়া। যা সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি মাত্র। ফলে পাখি ডালে বসবে এবং সেখান থেকে পোকামাকড়ের অবস্থান নিশ্চিত করে তা ধরে নিয়ে খাবে।এভাবে আমাদের জমিতে জৈবিকভাবে পোকামাকড় দমন করতে হবে। এতে আমাদের নিরাপদ খাদ্য উৎপন্ন হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কম হবে এবং অনেক আর্থিক সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশের কৃষি প্রায় সময়ই প্রাকৃতিক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে রোপা আমন ও আউশ ধানে প্রায় প্রতি বছরই বন্যায় কম বেশি ক্ষতি হয়। আমরা যদি জমিতে বন্যা সহিষ্ণু জাতের ধান আবাদ করে পার্চিং করি তাহলে আমরা অবশ্যই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সফল হব। বিশেষ করে রোপা আমন ধানের জমিতে সেচ খরচ কম হবে। রোপা আমন ধান রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে হয়ে থাকে বিধায় জমিতে পার্চিং করলে জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার না করলেই চলে। জমিতে অবশ্যই রোপণের সাথে সাথে পার্চিং করে নিতে হবে। প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৭ ফুট উচ্চতার একাধিক ডালপালা সম্পন্ন ৩-৪ টি পার্চিং করতে হবে। অন্যথায় সময়মত এবং সঠিক পরিমাণে পার্চিং না করলে ফসলী জমি পোকামাকড়ে আক্রান্ত হয়ে ফসলের ফলনের পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

আমরা কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, সরকারিভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে, প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। আমরা যদি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হই, ভবিষ্যতে রোগাক্রান্ত পঙ্গু জীবন ধারণ করতে হবে। তাই খুব শীঘ্র এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করছি।

  • বিজিত কুমার আচার্য্য: কৃষিবিদ; উপ-সহকারি কৃষি অফিসার, দক্ষিণ সুরমা সিলেট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত