রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ইং

আসিফ মোক্তাদির

২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৩

শাবির ভর্তি পরীক্ষা ও সিলেটিদের আতিথেয়তা

দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশ সিলেট। বাংলার আধ্যাত্মিক রাজধানী। গৌরবোজ্জ্বল সু-দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার, উদার ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র শিল্প-সংস্কৃতি, নিজস্ব ভাষা এবং সমৃদ্ধ সাহিত্য ভাণ্ডার- যা সিলেটিদের একান্ত নিজস্ব সম্পদ। সিলেটিদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

গতকাল ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শহরে প্রায় ৭৫ হাজারের ও বেশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমাগম ঘটেছিল। সুরমা নদীর তীরবর্তী মাত্র ১৬.১৬ বর্গমাইলের ছোট্ট একটা শহর। শহরের এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টের দূরত্ব ও খুব বেশি নয়। গত কয়েক বছর থেকে সিলেট শহরে এমনিতেই যানজট সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে। আর ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে যানজট ও যানবাহন সমস্যা ভয়াবহ রূপ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।

কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক তৎপরতা সবার দৃষ্টি কেড়েছিল। সিএনজির শহর হল সিলেট। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সিএনজিওয়ালারা দানবআকৃতি ধারণ করে বলে এবার প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই সচেতন ছিলেন। মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রিজার্ভ যাত্রী ছাড়া অন্যদের গাড়িতে না তোলা সহ আরও অনেক অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে ২০ টির মতো বাস রাখা হয়েছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিলেট বাইকিং কমিউনিটি(এসবিসি) ও বুস্টার্স নামে দুইটি সংগঠনের ১৫০ জনের মত বাইকার তাদের বাইক নিয়ে ফ্রি সার্ভিস দিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য আর কোথাও এরকম সেবামূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কিনা আমার জানা নেই।

সারাদিন বৃষ্টির মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সিলেট শহরের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণের সেবামূলক তৎপরতা দেখার মত ছিল। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে গিয়েই বিপত্তি দেখা যায়। পরদিনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় আগে থেকেই টিকেটের সংকট ছিল। আর এ অবস্থাকে পুঁজি করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী বাসের টিকেট করে দেওয়ার নামে রমরমা ব্যবসার ফন্দি আটে। কয়েকদিন থেকেই বাসের টিকেট করে দেওয়ার নামে এ গ্রুপ সক্রিয় ছিল। আলাদা বাস ভাড়া করে শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নির্ধারিত দাম থেকে অতিরিক্ত দামে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে বাসের টিকেট আদায় করে নেয়। কিন্তু সময়মত যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত বাস খুঁজে না পেয়ে তাদের ফোন দিলে কাউকেই পাওয়া যায় নি। পরদিনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ হতাশা, ভয় এবং উৎকণ্ঠায় এদিক ওদিক পাগলের মত ছুটতে থাকেন। উল্লেখ্য এ সময় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তাদের সাহায্য সহযোগিতা চালিয়ে যান।

গুটিকয়েক অসাধু ছাত্রের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, প্রশাসন এবং সিলেটের জনগণের অবদান আড়ালে ছাপিয়ে অনেক পত্র-পত্রিকার শিরোনাম তাই "ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সাস্টের শিক্ষার্থীদের রমরমা ব্যবসা"। হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান নয়, গোবরেও যেমন পদ্মফুল ফোটে ঠিক তেমনি গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের জন্য পুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া মোটেই মানায় না। ভর্তি পরীক্ষার দিন সিলেটের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সিলেট শহরের জনগণের অবদান যেখানে সারা দেশ জানার কথা ছিল কিন্তু মাত্র গুটিকয়েক কিছু অসাধু শিক্ষার্থীদের জন্য পুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাইরের জনগণ থুথু ছিটানো সময়ের ব্যাপার মাত্র এবং এটা খুবই স্বাভাবিক।

বাস ও ট্রেনের টিকেট পর্যাপ্ত না জেনেও ভর্তি পরীক্ষা কমিটি পরদিনই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এটা ও আলোচনার বিষয়। চট্টগ্রাম এবং সিলেটের দূরত্ব, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মানবিক কথা বিবেচনা করেও কি একদিন গ্যাপ দিয়ে পরীক্ষা নেয়া যেত না? ভর্তি কমিটির এরকম সিদ্ধান্তই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এরকম লোভী ও অমানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে? তবে কি আবার ও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করার সময় এসেছে?

আপনার মন্তব্য

আলোচিত