শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

গ্রন্থমেলায় শতাব্দী ভবের বই নিষিদ্ধের অভিযোগ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০২-২০ ০৪:৩৩:০৭

 আপডেট: ২০১৭-০২-২০ ১৫:১৪:৫৪

সিলেটটুডে ডেস্ক:

একুশে গ্রন্থমেলায় শতাব্দী ভবের বই ‘‘ভব’র চটি’’ নিষিদ্ধ করার অভিযোগ ওঠেছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে বইটির লেখক অভিযোগ করে বলেছেন, নিষিদ্ধের আগে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে কোনপ্রকার যোগাযোগ করে নি।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে মাইকে বইটি নিষিদ্ধের ঘোষণা আসে।

বইটি নিষিদ্ধের ব্যাপারে মাইকে ঘোষণা ছাড়া বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আর কোন বক্তব্য আসে নি।

শতাব্দী ভবের প্রাপ্ত মনস্কদের জন্য প্রণীত "ভব'র চটি" নিষিদ্ধের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র থেকে মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় আমার বইটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বই নিষিদ্ধ করার আগে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা কোনো চিঠি দেয়নি।’

এ বইটি নিষিদ্ধের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানা রকম প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বাংলা একাডেমির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

বইটির প্রচ্ছদশিল্পী চারু পিন্টু ফেসবুকে দেওয়ার তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘আমার প্রচ্ছদ করা শতাব্দী ভব’র স্যাটায়ারমূলক বই নিষিদ্ধ করলো বাংলা একাডেমি। আমি ঠিক বুঝি না উদ্ভট গাধার পিঠে কীভাবে বাংলা একাডেমি চলছে???’

এদিকে, ফেসবুক স্ট্যাটাসে শতাব্দী ভব বইয়ের প্রকাশকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান প্রকাশক তাকে জানিয়েছেন, এরকম কিছু হলেতো একাডেমি নোটিশ দিবে। তিনি এ নিয়ে পোষ্ট এর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন। রাতে শোয়েব ফোন করে জানান, তিনি বা এ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাননি এদিকে একাধিক সাক্ষী আছেন যারা নিজের কানে শুনেছেন।

শতাব্দী ভব ফেসবুকে লিখেন,
গতকাল মেলার তথ্য কেন্দ্রের মাইকে পরিষ্কার ঘোষণা আসে, শতাব্দী ভব রচিত ভবর চটি বইটি মেলা থেকে নিষিদ্ধ করা হলো, আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ। বলে রাখা ভালো এর আগে গতবছরই রকমারি ডট কম বইটি তাদের সাইট থেকে ভবর চটি নিষিদ্ধ করে। তখন আমি প্রকাশক শোয়েব তামান্নাকে জানালে তারা বলেন, তাতে সমস্যা নাই, সরাসরি পাললিক সৌরভ বইটি পাঠককে কুরিয়ার করবে। এ বিষয়ে তামান্না পোষ্টও দেন।

গতকাল যখন এ ঘটনা ঘটে তখন মেলা থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফোন দিয়ে আমাকে জানান। দ্রুত মেলায় চলে এসে প্রকাশক শোয়েবের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি বলেন, এরকম কিছু হলেতো একাডেমি নোটিশ দিবে। তিনি এ নিয়ে পোষ্ট এর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন। রাতে শোয়েব ফোন করে জানান, তিনি বা এ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাননি এদিকে একাধিক সাক্ষী আছেন যারা নিজের কানে শুনেছেন। এমন অবস্থায় যারা এর প্রতিবাদ করে পোষ্ট দিয়েছিলেন তাদের পোষ্ট কাউন্টার কমেন্ট করেছেন শোয়েব ও মেহেদী।

কথা হলো আমি, শোয়েব এবং সবাই চাই তথ্যটি মিথ্যা হোক কিন্তু যেহেতু এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে সেহেতু অবশ্যই বা এর বক্তব্য জরুরী। শোয়েব যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন তাহলে সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম সহ কোড করছেন না কেন? আমরা জানি কোন বই নিষিদ্ধ হলে প্রকাশকের স্টলও হুমকিতে পড়ে, হয়তো সে বিবেচনাতেই তিনি কাউন্টার দিয়ে যাচ্ছেন। কাল এ ঘটনার পর কেউ কেউ বলছেন, ভব হিট হবার জন্য এমন করছে, তাদের বলি, আমি আমার কাজ দিয়েই প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছি, চেনা বামুনের পৈতা লাগেনা।

আপনার মন্তব্য