বৃহস্পতিবার, , ১৮ অক্টোবর ২০১৮ ইং

বইমেলায় চন্দন রিমুর ‘পৌরোহিত্যবাদের জন্মান্তর বনাম বুদ্ধের শিক্ষা’

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-২৮ ১৬:৫৭:৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলা একাডেমির একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-এ চন্দন রিমু সম্পাদিত ‘পৌরোহিত্যবাদের জন্মান্তর বনাম বুদ্ধের শিক্ষা’ প্রকাশিত হয়েছে।

বইটি প্রকাশ করেছে খড়িমাটি প্রকাশনী। বিভিন্ন লেখকের ছয়টি সমৃদ্ধ প্রবন্ধ (মৌলিক ও অনুবাদ) দিয়ে সাজানো গ্রন্থটির মূল্য ২৫০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন চারু অর্পিতা। স্টল নং ৯১, বহেরা তলা, লিটল ম্যাগ চত্বর, বাংলা একাডেমি ঢাকা।

প্রথম প্রবন্ধটি Sam Harris, “Killing the Buddha”, Shambhala Sun, March 2006 অনুবাদ: সৌমেন পাত্র। এর পর রয়েছে সংকলিত লেখা বুদ্ধদাস ভিক্ষুর লেখা 'দি ডেঞ্জার অব আই' যা 'আমিত্বে বিপত্তি' শিরোনামে অনুবাদ করেছেন মনীন্দ্র লাল বড়ুয়া; ত্রিপিটকের সংযুক্ত-নিকায় থেকে সংকলিত সুসীম-সুত্ত, অনুবাদ শীলানন্দ ব্রহ্মচারী; চন্দন রিমু'র 'পৌরোহিত্যবাদের জন্মান্তর বনাম বুদ্ধের শিক্ষা' নামক মৌলিক প্রবন্ধ; পশ্চিমবঙ্গের সৌমেন পাত্রের লেখা, 'বৌদ্ধধর্ম, যুক্তিবাদ ও পুনর্জন্ম' এবং ভবানী প্রসাদ সাহু'র 'আত্মা, পুনর্জন্ম ও জন্মান্তরবাদ' শীর্ষক লেখাটি "ভূত ভগবান শয়তান বনাম ড. কোভুর" গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

গ্রন্থটির ভূমিকায় লেখক বলেছেন, "পৌরোহিত্যবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং বিভিন্ন রাজশক্তির শত ঝড়-ঝাঁপটায় বৌদ্ধপরম্পরা বুদ্ধের শিক্ষা সংরক্ষণ করেছেন। অবশ্য সে সংরক্ষণকর্মে প্রবহমান কালের ফুঁসে থাকা মনুষ্যমণ্ডলীর অবিদ্যাজনিত সংস্কার-দাপট সম্পূর্ণ এড়াতে সক্ষম হয়েছেন, এ কথা নিশ্চিত বলা যাবে না। বুদ্ধের শিক্ষা সংরক্ষণ-গ্রন্থে বহুবিচিত্র প্রক্ষিপ্ত উপাদান পাওয়া যায়। বুদ্ধশিক্ষার নামে সেসব পরবর্তী সংযোজন বলে প্রতীয়মান। বুদ্ধ ও তার শিক্ষা বিশেষ সম্প্রদায়ের আবরণে অথবা স্থান-কালের গণ্ডীতে আবদ্ধ না-রেখে বহুমানুষের হিতের জন্য (যেমনটি বুদ্ধ চেয়েছেন), সমগ্র মানবমণ্ডলে চন্দ্রের ন্যায় উদ্ভাসিত করে দেয়া সময়ের সুবিবেচক দাবী। অত্যন্ত সতর্কতায় প্রক্ষিপ্ত উপাদান কিংবা বৌদ্ধমিশ্রণ ও মোড়ক থেকে বুদ্ধ ও তার শিক্ষা পুনরুদ্ধার জরুরী। মনে রাখতে হবে, বুদ্ধের শিক্ষা প্রচারের একমাত্র লক্ষ্যই হলো হৃদয়ের প্রসারতা ও চিন্তনের সুগতিদান, এর মাধ্যমে বর্তমান দ্বারা পীড়িত মানুষের পরিষেবা।

'পৌরোহিত্যবাদের জন্মান্তর বনাম বুদ্ধের শিক্ষা' গ্রন্থটি কুসংস্কার ও ভ্রান্তবিশ্বাস নির্মূলের পাশাপাশি উপরোক্ত চিন্তার একটি সামান্য প্রয়াস হিশেবে সকলের দৃষ্টিগোচর হউক।

বুদ্ধ যে ভূমিতে একদিন বিশ্বের দিকে সবচেয়ে উঁচু মস্তকে দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে এত বিভ্রান্তি আর অন্ধকার আজ এতই ঘনীভূত হয়েছে যে, বুদ্ধকে দেখার আলো নিয়ে উৎপন্ন হয়না কোন চোখ। নামে মাত্র বুদ্ধের অনুসারী ভারতসহ বাংলাদেশে সামান্য সংখ্যক আছে বটে! কিন্তু তারাও প্রছন্ন বৈদিক ধারার প্রভাবদুষ্ট এবং কেবলই বৌদ্ধ । বুদ্ধ থেকে গেলেন একা, বিশ্বের আনাচেকানাচে সামান্যসংখ্যক মানুষের অন্তর্গত আলোয়। সময় হয়েছে আমাদের বুদ্ধের পাশাপাশি নিজেদের জানার। ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাত-লৈঙ্গিক বিভেদ ভেঙে মানুষ কেবলই মানুষ হয়ে দাঁড়াবার। ‘পৌরোহিত্যবাদের জন্মান্তর বনাম বুদ্ধের শিক্ষা’ গ্রন্থ প্রকাশ সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।"

লেখকের প্রকাশিত অন্য গ্রন্থসমূহ হলো, দ্বিখণ্ডিত চাঁদ (কবিতা, ২০০৯) শ্রামণীসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা এবং নারী ইচ্ছার স্বাধীনতা ও মানবাধিকার (গবেষণা, ২০১৩)।

আপনার মন্তব্য