বৃহস্পতিবার, , ১৮ অক্টোবর ২০১৮ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই, ২০১৮ ১৫:৫০

গুগল ডুডলে ফিরোজা বেগম

মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি; পরনে শাড়ি, চোখ দুটি বন্ধ, গলায় বড় মালা আর খোঁপায় ফুটে উঠেছে তার চিরাচরিত প্রতিচ্ছবি- ফিরোজা বেগম, বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি।

নজরুল সংগীতশিল্পী এবং উপমহাদেশীয় সংগীতের রাজেন্দ্রাণী ফিরোজা বেগমের ৮৮তম জন্মবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডুডল করেছে জায়ান্ট সার্চ ইঞ্জিন গুগল।

২৮ জুলাই, ফিরোজা বেগমের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী। এদিন প্রথম প্রহর থেকে গুগলের হোমপেজ খুললেই চোখে পড়ছে গুগল ডুডলের এ প্রদর্শন।

১৯৩০ সালে ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া গুণী এই শিল্পী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় অল-ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গেয়ে সংগীতবোদ্ধাদের নজরে আসেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে তৎকালীন খ্যাতিমান সংগীত প্রতিষ্ঠান এইচএমভি থেকে বের হয় তার প্রথম গানের রেকর্ড। এইচএমভির রিহার্সেলেই কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাত হয়। প্রথম সাক্ষাতেই কবিকে তিনি গেয়ে শুনিয়েছিলেন- ‘যদি পরানে না জাগে আকুল পিয়াসা’। ১১-১২ বছরের ফিরোজার কণ্ঠে ওই গান শুনে নজরুল উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন। জীবনের বাকিটা সময় ফিরোজা, নজরুলের গানকেই পরম মমতায় আঁকড়ে রেখেছিলেন।

নজরুল সংগীতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া ফিরোজার বাবা ছিলেন ফরিদপুরের জমিদার খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মা বেগম কওকাবুন্নেসার। তার বাবা বৃটিশ সরকারের প্রথম মুসলমান সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। ১৯৫৬ সালে উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন ফিরোজা বেগম। তাদের তিন পুত্র তাহসীন, হামিন এবং শাফিন। মায়ের মতো হামিন এবং শাফিনও সংগীত জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।

শুধু নজরুল নয়, সংগীতের সকল শাখায় ছিল ফিরোজা বেগমের অবাধ বিচরণ। শুধু এ দেশে নয়, দুই বাংলার বাঙালির কাছেই ফিরোজা বেগম সমানভাবে সমাদৃত। উপমহাদেশীয় সংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় তাকে।

নজরুল সংগীত ছাড়াও গজল, কাওয়ালি, হামদ-নাত, ও আধুনিক গানসহ সব ধরণের গানেই তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন, গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতও। তার গাওয়া ‘মোমের পুতুল’, ‘দূর দ্বীপবাসিনী’, ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো’ গানগুলো তার সংগীত জীবনে বড় ধরনের সাফল্য এনে দিয়েছিল।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য গুণী এই শিল্পী স্বাধীনতা পদক, একুশে পুরস্কারসহ পেয়েছেন আরও অনেক সম্মাননা।

কিডনি জটিলতায় ভুগে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিরতরে নিভে যায় সংগীত জগতের এই পুরোধা ব্যক্তির প্রাণ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত