বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ ইং

বিনোদন ডেস্ক

০৬ মে, ২০১৯ ০২:০৪

আমার বাংলাদেশী ভক্তরা হজম করতে পারেনি: রাজকাহিনী প্রসঙ্গে জয়া

কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে আগামী ১০ তারিখ নতুন করে দেখা মিলবে বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। এদিন মুক্তি পাচ্ছে জয়া অভিনীত নতুন ছবি কণ্ঠ। এরই মধ্যে ছবিটির ট্রেইলার মুগ্ধ করেছে সবাইকে। এমনকি বলিউডের নামজাদা অভিনেতা ঋষি কাপুরও ছবিটির ট্রেইলার দেখে অভিভূত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেছিলেন, ‘অভিভূত’। কণ্ঠ যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। জয়া আহসান এ ছবিতে স্পিচ থেরাপিস্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। জয়া, শিবপ্রসাদ ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন পাওলি দাম। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে গালগল্পে মেতেছিলেন জয়া আহসান। সে আলাপে এ অভিনেত্রী এ ছবিসহ আরো নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

আলাপের শুরুতে জয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন করা হয়, জয়া আপনি বর্তমান সময়কার টালিউডের বেশির ভাগ নির্মাতার ছবিতে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অরিন্দম শীল, সৃজিত মুখার্জি, কৌশিক গাঙ্গুলি অথবা নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি। ‘ট্রিটমেন্ট অব সিনেমা’ এ টার্মটির দিক থেকে তারা একে অন্যের চেয়ে কতটা আলাদা? জয়ার উত্তর ছিল এমন, আসলে এটা অনেক বেশি অভিরুচি বা পরিকল্পনার ব্যাপার। তারা যেভাবে তাদের ছবি নিয়ে অগ্রসর হন তা আলাদা। এক্ষেত্রে সৃজিত মুখার্জি ভিন্নভাবে এগোন। তিনি বিশাল পরিসর এবং জটিল সব গল্প পছন্দ করেন। অন্যদিকে কৌশিকদার (গাঙ্গুলি) গল্প ও অ্যাপ্রোচ অনেক বেশি সংগঠিত। তার গল্প অনেক বেশি আবেগ দ্বারা চালিত। এক্ষেত্রে শিবুদা (শিবুপ্রসাদ) ও নন্দিতাদির (নন্দিতা রায়) ক্ষেত্রে আমি বলব, তাদের গল্প অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। অবশ্যই তাদের গল্পে আবেগীয় বিষয় আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তাদের গল্পগুলো খুবই নিরেট। তাদের ছবি বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক ছবি—এ দুই ধারার দর্শকদেরই আকর্ষণ করে। আমার মনে হয়, এটাই তাদের ছবির সৌন্দর্য, যা অডিয়েন্সের জন্য বানানো কিন্তু তাদের নিজেদের গল্প বলবে।

জয়া, টালিউডের কিছু চরিত্রে অভিনয়ের জন্য (যেমন রাজকাহিনী ছবি) বাংলাদেশে আপনি তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। অতীত অভিজ্ঞতা আপনাকে প্রকল্প বাছাইয়ে উৎসাহিত করেছে?

না, রাজকাহিনী করে আমি অনুতপ্ত কিনা তা বলতে পারি না। আমি একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আসলে অভিনেতা হিসেবে কোনো ছোট চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করা অনেক কঠিন কাজ। আমার বাংলাদেশী ভক্তরা মোটেও এ বিষয়টি হজম করতে পারেনি যে, আমি একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়, আমি একজন অভিনেত্রী এবং আমরা সবসময়ই ভালো চরিত্রের সন্ধান করি। অবশ্যই আমি সে চরিত্রে অভিনয় করব না, যা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। সে হিসেবে যে চরিত্রে অভিনয় করি, সেজন্য আমি কিছুটা খুঁতখুঁতে।

একজন স্পিচ থেরাপিস্টের ভূমিকায় আপনার চরিত্র কীভাবে মেলালেন? বাস্তব জীবনেও কি আপনার এ রকম কোনো অভিজ্ঞতা আছে?
এমন প্রশ্ন করা হলে জয়া জানান, বাস্তব জীবনে তার কাছের মানুষদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত কেউ নেই। তবে কণ্ঠ ছবিতে নিজের চরিত্রের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য তিনি সরাসরি ক্যান্সারে আক্রান্ত কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। এমনকি কীভাবে একজন স্পিচ থেরাপিস্ট বাস্তবে তার কাজগুলো সফলভাবে চালনা করেন, রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করেন, সেসবও তিনি কাছ থেকে দেখা ও অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন। এজন্য যথারীতি তাকে ঘামই ঝরাতে হয়েছে। কীভাবে স্পিচ থেরাপিস্টের ভূমিকায় নিজেকে তৈরি করেছিলেন? ‘চিত্রনাট্যটি খুবই বিশদ ছিল, যা আমাকে মূলের কাছে যেতে সহায়তা করেছে। এছাড়া আমাকে প্রচুর পরিমাণে গবেষণা পর্যন্ত করতে হয়েছে।’

অভিনেত্রী হিসেবে আপনার পরের কাজগুলো কী?
আমি ঢাকার ছবিতে অভিনয় করছি। এছাড়া কৌশিক গাঙ্গুলির আরেক ছবি পাইপলাইনে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত