বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

বিনোদন ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:০৬

‘আমি জানতাম না মা রেলস্টেশনে গান করতেন’

রানাঘাটের নাম বললে এখন রানু মণ্ডলের নামের কথাই চলে আসে। স্টেশনে লতা মঙ্গেশকরের ‘এক পেয়ার কা নাগমা হ্যায়’ গেয়ে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে রানু মণ্ডল নেট দুনিয়ায় পরিচিতি লাভ করে। বলিউডে গান গেয়ে এখন রীতিমতো সেলেব্রেটি বনে গেছেন রানু।তবে মা যে গান গাইতে পারেন সেই বিষয়ে কোনো ধারণাই ছিল না মেয়ে এলিজাবেথ সাথী রায়ের।

এলিজাবেথ জানিয়েছেন, নিয়মিত মাকে দেখতে না এলেও মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার।বৃদ্ধা বয়সে মাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে এলিজাবেথ সাথী রায় ইন্টারনেটে সমালোচনার মুখে পড়েন।

যদিও তিনি আইএএনএসকে জানান, যতটা সম্ভব মায়ের যত্ন নেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, তার নিজেরও লড়াই রয়েছে।

এলিজাবেথ সাথী রায় বলেন, তিনি একজন সিঙ্গেল মাদার এবং একটি ছোট মুদি দোকান চালান। তিনি তার মাকে বেশ কয়েকবার নিজের কাছে থাকতে বলেছেন কিন্তু রানু তা প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, আমি জানতাম না যে মা রেলস্টেশনে গান করতেন, কারণ আমি নিয়মিত মাকে দেখতে যেতাম না। কয়েকমাস আগে আমি ধর্মতলায় গিয়েছিলাম এবং মাকে একটি বাসস্ট্যান্ডে বসে থাকতে দেখি। আমি মাকে বলি, বাড়ি চলো এবং ২০০ টাকাও দেই। আমি মামার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৫০০ টাকা করে পাঠাতাম মাকে।

সাথী বলেন, আমি তালাকপ্রাপ্তা এবং সিউড়িতে একটি ছোট মুদি দোকান চালাই। আমি একজন সিঙ্গেল মাদার, আমার ছোট ছেলের দেখাশোনা করি। আমার নিজেরও লড়াই রয়েছে। তবুও আমি যতটুকু পারি মাকে দেখাশোনা করার চেষ্টা করি। আমি বেশ কয়েকবার মাকে বলেছি আমাদের সঙ্গে থাকো, তবে আমার মা আমাদের সঙ্গে থাকতে চান না। তবুও লোকেরা আমায় দোষ দিচ্ছে। জনসাধারণ আমার বিরুদ্ধে। আমি এখন কার কাছে যাব?

রানু মণ্ডলের ‘এক পেয়ার কা নাগমা হ্যায়' গানের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেই রিয়েলিটি শো সুপারস্টার সিঙ্গারে গাওয়ার জন্য গায়ক সুরকার হিমেশ রেশমিয়া আমন্ত্রণ জানান তাকে। ৫৯ বছরের রানু মণ্ডল হিমেশের পরবর্তী সিনেমা ‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হির' এর জন্য আদত এবং তেরি মেরি কাহানি গান রেকর্ড করেছেন।

এলিজাবেথ সাথী রায় জানান, তিনি রানু মণ্ডলের প্রথম ঘরের সন্তান। তার এক বড় ভাইও রয়েছে। রানু মণ্ডলের দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে দুই সন্তান রয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে আমার বাবা মারা গেছেন। মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর ছেলেমেয়েরা সম্ভবত মুম্বাইতে রয়েছেন, যদিও আমি নিশ্চিত নই। তার দ্বিতীয় স্বামী এখনও বেঁচে আছেন। আমি মায়ের প্রথম স্বামীর মেয়ে এবং আমার এক বড় ভাই, এক সৎ ভাই ও বোন রয়েছে। আমাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। অন্য সন্তানরা মায়ের দায়িত্ব কেন নেয় না? কেন কেউ তাদের দোষ দিচ্ছে না? আমি চাই তারা এগিয়ে আসুক এবং সঙ্গে মায়ের যত্ন নিক আমার মতোই।

এলিজাবেথ সাথী আরও বলেন, রানু মণ্ডল দ্বিতীয় বিয়ের পরে কলকাতা থেকে মুম্বাই চলে যান। সেখানে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। আমি মাকে যেভাবে পারি সমর্থন করার চেষ্টা করেছি। প্রতিবার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আমি তার জন্য খাবার ও টাকাপয়সা নিয়ে যেতাম...আমি হয়তো মায়ের সঙ্গে থাকতাম না, তবে আমার সাধ্যমতো যত্ন নিয়েছি।

এলিজাবেথ সাথী রায় রানাঘাটের ‘আমরা সবাই শয়তান ক্লাবের’ সদস্যদেরও দোষ দিয়েছেন। এ ক্লাব তার মায়ের দেখাশোনা করত, এবং রানু মণ্ডলের থেকে দূরে থাকতে তাকে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

সাথী বলেন, মনে হচ্ছে যেন অতীন্দ্র চক্রবর্তী এবং তপন দাশ (ক্লাব সদস্য) আমার মায়ের নিজের ছেলে। তারা এবং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা আমাকে মায়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমার পা ভেঙে ফেলে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। ওরা আমাকে ফোনেও মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দেয় না। ওরা আমার বিরুদ্ধে মায়ের মগজধোলাই করছে। আমি অসহায় বোধ করি... তপন ও অতীন্দ্র খ্যাতি চায়, তাই ওরা আমাকে সরাচ্ছে... তপন আমার মায়ের কাছ থেকে টাকা নেয় রোজকারের জিনিস কিনে দেয়ার অজুহাতে। ওরা মায়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে আর মায়ের জন্য কেবল একটা স্যুটকেস এবং কয়েকটা নাইটি কিনে দিয়েছে।

তিনি বলেন, যদিও সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে, তবুও আমি মায়ের পাশেই থাকব। আমি মাকে অনুরোধ করব আমার সঙ্গে সিউড়িতে থাকতে, তবে আমি কখনই জোর করব না... তিনি জীবনের অনেকটা সময় পার করেছেন এবং অবশেষে স্বীকৃতি পাচ্ছেন তার ঈশ্বরপ্রদত্ত কণ্ঠের জন্য। আমি তার মেয়ে হিসেবে গর্বিত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত