মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:০৮

৮০ বছর বয়সেও ক্লান্তিহীন প্রতিমা শিল্পী মধুসূদন পাল

প্রতিমা শিল্পী মধুসূদন পাল। ছবি কৃতজ্ঞতা: সুজয় চৌধুরী

প্রতিমা শিল্পী মধুসূদন পাল, বয়স ৮০। এই বৃদ্ধ বয়সেও নেই তার একটুও ক্লান্তি। কাজেই তাঁর শান্তি, কাজেই তাঁর প্রশান্তি। সুদীর্ঘ ৬০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে যাচ্ছেন এই গুনী মৃৎ শিল্পী।

প্রতি বছর শুধু দুর্গা পূজার সময়েই তিনি ১০ থেকে ১৫ টি প্রতিমা তৈরি করেন সিলেটের বিভিন্ন জেলা উপজেলায়। এ বছরও সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে তৈরি করছেন ১৫ টি প্রতিমা। তার একটি মৌলভীবাজারের মাতারকাপন এলাকায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল নিবিড় পরিচর্যায় শেষ মুহুর্তে রঙের তুলিতে নানা রঙের কারুকাজ করে প্রতিমাতে জাগাচ্ছেন জীবন্ত ছায়া। এ বয়সেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। কথা বলতে চাইলে সময় নিলেন, জানালেন আর ২০ মিনিট কাজটা একটা পর্যায়ে আসবে তখন বসে কথা বলা যাবে।

সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এই মৃৎ শিল্পী মধুসূদন পাল জানান, উনার দাদা মতিলাল পাল ছিলেন শরীয়তপুরের বিখ্যাত প্রতিমা শিল্পী। দাদার কাছে থেকেই তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। মাত্র ২ বছর বয়স থেকেই দাদার সাথে থেকে শিখেছিলেন প্রতিমা তৈরির কাজ। ২০ বছর বয়স থেকেই নিজেই পুরোদমে শুরু করেন প্রতিমা তৈরি।

মধুসূদন পাল জানান, তাদের বাড়ী ছিল শরীয়তপুরে। স্বাধীনতার পর পর সপরিবারে মৌলভীবাজারে চলে আসেন। বর্তমানে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কিত্তারমহালে বসবাস করছেন। এক ছেলে আর দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে শুভ পাল (২০) নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে এখন বাবার সাথে থেকেই প্রতিমার কাজ করেন ।

ছেলে এবং আরো ২০ জন সহকারী আছে মধুসূদন পালের। প্রতিটা প্রতিমার মজুরি গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। দুর্গা পূজা মৌসুমে কাজ বেশী থাকে তবে বছরের অন্য সময় ও কাজ করেন তিনি। বছরে গড়ে ২০০ টি প্রতিমা তৈরি করেন । ৬০ বছর যাবত কতটি প্রতিমা তৈরি করছেন তার হিসেব নেই। ছেলে নিষেধ করে কাজে যেতে কিন্তু তিনি কাজের মানুষ ঘরে বসে থাকতে ভাল লাগেনা এবং মনে মনে প্রশ্ন জাগে তারা যে কাজ করছে ভুল করছেনা তো!

মধুসূদন পাল জানান, তাঁর সব চেয়ে ভাল লাগে যখন তাঁর সৃষ্টির প্রশংসা করে মানুষ। এবং আনন্দিত হন যখন নিজের কল্পনার সৌন্দর্য্য নিজের তুলিতে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

দুঃখও আছে অনেক। তিনি জানান, বিশ্বের সব দেশে মৃৎ শিল্পীদের যে মূল্যায়ন রয়েছে সে ভাবে আমাদের দেশে নেই ।

এত বছর এই শিল্পের সাথে থাকার পাশাপাশি সিমেন্টের তৈরি ভাস্কর্যও করেছেন। কিন্তু দেশের বড় কোন কাজে কখনো ডাক পাননি। যদি বড় কোন কাজে ডাক পেতেন তার ভাল লাগত ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত