সোমবার, , ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সঞ্জীব শুভ্র

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৩০

নেছার আহমদ: পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ

কোনো মানুষকে কখনই পুরোপুরো সৎ বলা যাবেনা, যতক্ষণ না তিনি পরীক্ষিত হবেন। ধরেন কাউকে দুধের নহরে (নদী) ছেড়ে দিয়ে বলা হলো, এই দুধ খাওয়া যাবেনা। কাউকে দেয়াও যাবেনা। তখনই তিনি পরীক্ষিত হবেন।

আজকাল ক্ষমতা বা দায়িত্ব পেলে অধিকাংশই সে মোহে খেই হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননা। দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়েন। কিংবা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যান।

কিছু মানুষ থাকেন ব্যতিক্রম। দুধের নদীতে থেকেও সেই দুধে কোনো লোভ নেই। নেই মোহ। বরং আছে তা রক্ষার জন্য চরম সততা, জবাবদীহিতা ও স্বচ্ছতা। এমনই একজন মানুষ নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি। এর আগে দীর্ঘদিন ছিলেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। দল ক্ষমতায় টানা ১০ বছর। ক্ষমতা বা অর্থের লোভ কোনোটাই স্পর্শ করতে পারেনি। পৈত্রিক বাড়ি ও জায়গাজমি ছাড়া নিজের বানানো ওইভাবে কিছুই নেই। জীবনজীবিকার ক্ষেত্রে নির্ভরশীল পারিবারিকভাবে পাওয়া বাপ-দাদার সম্পদ ও পরিবারের প্রবাসি স্বজনদের কাছে। জীবনের শুরুতে এক সময় ঠিকাদারি করেছেন। দলের দায়িত্ব যখন পান, তখন সেটাও ছেড়ে দিয়েছেন।

নিজের কোনো গাড়ি নেই। বাড়ি থেকে বের হন পায়ে হেঁটে, কিংবা রিকশা, অটো-রিকশায়। দূরের গন্তব্যে দলের নেতাকর্মীদের মোটরবাইক ও গাড়িই ভরসা। কখনও সেটা না পেলে স্থানীয় পরিবহনেই যাতায়াত করেন। অথচ সুযোগ ছিলো অঢেল টাকা, সম্পদ বানানোর। বিত্ত-বৈভব গড়ে তোলার। দুধের নহরে থেকেও সেই মোহ স্পর্শ করেনি তাঁকে।

মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগ নেতা যিশু দাশ বলেন, ‘আজকাল এমন সৎ নেতা খুব বেশি নেই। হাতেগোনা যে কয়জন আছেন, এরমধ্যে নেছার আহমদ অন্যতম। তাঁর সততা, নির্মোহতা সর্বজন স্বীকৃত।’ আরেক যুবলীগ নেতা যোবায়ের আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ধরে রেখে দলকে সুসংগঠিত রাখতে নেছার আহমদ নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’ শহরের ব্যবসায়ি সেলিম আহমদ বলেন, নেছার আহমদ জেলার একজন সামাজিক নেতা, সততার মূর্ত প্রতীক। পুরো জেলায় সকল মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও একনিষ্ঠতা সর্বজনবিদিত। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনীতি করে আজকের এ পর্যায়ে এসেছেন। হুট করে অন্য পেশা থেকে আসেননি। জেলার সকল মানুষের সাথে তাঁর পরিচয় ও যোগাযোগ রয়েছে।

নেছার আহমদ সকলের কাছে একজন পরিচ্ছন্ন ও সামাজিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ন্যায় বিচারেও তাঁর খ্যাতি বেশ। আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। তাঁকে ফুলটাইম রাজনীতিবিদ হিসেবেই সকলে জানেন। দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জেলার সকল স্তরের মানুষের বিপদে-আপদে ঝাপিয়ে পড়েন। বলা যায় একজন নিবেদিত প্রাণ।

জেলার রাজনীতি সচেতন তরুণ ব্যবসায়ী সৈয়দ শাহেদ আহমদ বলেন, ‘এই দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন উদ্যমী, সৎ, দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। যিনি পাল্টে দিবেন তাঁর জেলা কিংবা কর্ম এলাকা- এমন অদম্য ইচ্ছার মানুষ খুবই প্রয়োজন। নতুবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন যাত্রায় তাল মেলাতে পারবেননা। আর যারা এই সময়ে নিজের এলাকাকে উন্নয়নের ধারায় পরিবর্তন করতে পারবেননা, সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত হবে এলাকা। তারচেযে অদম, অযোগ্য আর ব্যর্থ কেউ হতে পারেনা।

কিন্তু নেছার আহমদ এমনই একজন নেতা যিনি সুযোগ ও দায়িত্ব পেলে পুরো এলাকার চেহারা পাল্টে দিতে সক্ষম। শুধু এলাকার উন্নয়নই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও তিনি অগ্রসর ও দক্ষ একজন সেনানি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার যোগ্য কর্মী। এমন মানুষ যদি কখনও বড় দায়িত্বে আসেন, উপকৃত হবে দেশ, সমাজ ও নিজ এলাকা। পাল্টে যাবে এলাকার চেহারা।’

প্রবাসি দিলওয়ারা রহমান বলেন, মৌলভীবাজার এমন একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। যেখানে একজন যোগ্য নেতা এই জেলাকে উন্নত বিশ্বের একটি অঞ্চলে রূপদান করতে পারেন। এসব সকল ক্ষমতা নেছার আহমদের আছে।

নেছার আহমদ ছাত্র রাজনীতি থেকে একজন সফল সংগ্রামী এবং নীতিবান বঙ্গবন্ধু আদর্শের প্রেমিকও বলা যায় তাকে। মৌলভীবাজার শহরতলীর গুজারাইয়ে ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বই পড়া আর খেলাধুলা প্রেমী এই ব্যক্তিকে কখনো ক্ষমতার মোহে অন্ধ হতে দেখেনি কেউ। বরং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সকল সময় তিনি সোচ্ছার কন্ঠস্বর।

তরুণ বয়সে নেছার আহমদ পড়াশোনা ও খেলাধুলায় বেশ মনোযোগী ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একবার নির্বাচিত হন। এর আগে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দুইবার দায়িত্ব পালন করেন। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া কয়েক যুগ পূর্বের একটি ঘর সবার জন্য উন্মুক্ত। সে বাড়িতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি হওয়ার পাশাপাশি আপ্যায়ন থাকে বাধ্যতামূলক।

নেছার আহমদ মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে এসএসসি, ১৯৭৪ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৭ সালে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এই নেতা ১৯৬৮ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। সেই সময়ে প্রাথমিকভাবে ছাত্রলীগের সদস্য পদ গ্রহণ করেন তিনি। এর পর থেকে দেশের গণমানুষের দাবি (স্বাধীন বাংলা) সাথে একতাবদ্ধভাবে রাজনীতি শুরু করেন। রাজনীতির মোহে একাধিকভার মৃত্যুর দারপ্রান্ত থেকেও ফিরে এসেছেন তিনি। সাথে মামলা হামলা আর পুলিশি নির্যাতন তো ছিলোই। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তা পরোয়া করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ছিলো তার রাজপথে অবস্থান। সে সময়ের এক দুঃসাহসীক মিছিল আজও দাগ কাটে নেছার আহমদের মনে। সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা আ.লীগের ক্রান্তিকাল সময়ে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।

দায়িত্বভার গ্রহণের কিছু দিনের মধ্যে পূর্বে দু-গ্রুপে বিভক্ত আ.লীগের নেতা-কর্মীদের এক প্লাটফর্মে বসিয়ে একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করায় জেলা জুড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত