শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ ইং

ডা. সাঈদ এনাম

২৬ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৫:৪০

সিমেন এলার্জি

মনিকা দম্পতি এসেছেন বিরল এক উপসর্গ নিয়ে। তাদের নতুন বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই এই সমস্যা। প্রায় মাস দুয়েক হয়ে গেলো উপসর্গের। অনেক ডাক্তার দেখালেন, কোন ফল পাচ্ছেন না। একই সমস্যা নিয়ে বারবার ডাক্তারের কাছে যেতেও ভালো লাগেনা।

সহবাসের আধাঘণ্টা পরই শুরু হয় সমস্যার। সেটা মনিকার নিজের। জনন অঙ্গে তীব্র জ্বালাপোড়া, আশে পাশে চুলকানি ও ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঝিনঝিন, বমি বমি ভাব। আর এ জন্য তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, ভুত প্রেতের আছর আবার কেউ বলছেন উপরি সমস্যা। সেটা ক্লিয়ার হতেই তারা সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে এসেছেন।

পুরো হিস্ট্রি নিয়ে জানা গেলো আসলে মনিকা বা তার স্বামী কারো কোন মানসিক সমস্যা নেই, নেই কোন রিলেশনশিপ এ সমস্যা। অনেক সময় বিবাহপূর্ব পছন্দ অপছন্দ বা প্রেম বিষয়ক ঘটনা থেকে থাকলে বিয়ের পর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য বা মেলামেশায় সমস্যা হয়। সেটা ক'দিন গেলে আবার সেরেও যায়। মনিকা দম্পতির এমন কিছু নয়।

মূলত মনিকা সিমেন এলার্জিতে ভুগছে। এ রোগ খুব যে দুর্লভ তা নয়। স্বামীর মেলামেশার পর নির্গত সিমেনই স্ত্রীর এ সমস্যা তৈরি করে। স্ত্রীর শরীরে প্রচণ্ড এলার্জিক রিয়েকশন দেখা দেয়। যৌনাঙ্গে জ্বালা যন্ত্রণা হওয়া, ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র চুলকানি, ব্যথা সাথে এলার্জির জেনারেল রিয়েকশনও থাকে, যেমন মাথা ধরা, বমি, ঝিনঝিন, জ্বর, র‍্যাশ দেখা দেয়া। এমনকি সেমিনাল ফ্লুয়িড যে স্থানে লাগে সেখানেও চুলকানি বা যন্ত্রণা হওয়া।

কেনো এমন হয়?
সাধারণত স্বামীর নির্গত সেমিনাল ফ্লুয়িডের প্রোটিনের জন্যে স্ত্রীর এলার্জিক রিয়েকশন। যে কারো যেকোনো কিছুতে এলার্জি থাকতে পারে। যেমন কারো ঠাণ্ডায় এলার্জি, কারো গরমে এলার্জি, কারো চিংড়ি মাছ খাওয়াতে এলার্জি, কারো আলুর তরকারিতে কারো বা বেগুন সবজি তে এলার্জি। এমন অনেকে আছেন বিভিন্ন ঔষধেও তাদের এলার্জি দেখা দেয়।

কী চিকিৎসা?
সিমেন এলার্জি অনেক চিকিৎসা আছে যেমন কনডম ব্যবহার, এন্টি হিস্টামিন, সিমেন ডাইলুলেশন এন্ড ডি সেনসিটাইজেশন।

অনেকে মনে করেন সিমেন এলার্জি বন্ধ্যত্ব করে। তা মোটেও ঠিক নয়। মনিকা দম্পতির সেটাও একটা ভয় ছিলো। সিমেন এলার্জির চিকিৎসা একজন ইমিউনোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে করা ভালো। মনিকা ও তার স্বামী তাদের সমস্যাটা জেনে বেশ আশ্বস্ত হলেন, যদিও এ গোপন সমস্যায় বিব্রত হয়ে কিছুটা হতাশা তাদের পেয়ে বসেছিল। অসচেতনতার কারণে এ সমস্যা আমাদের দেশের অনেক নারী তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে জীবন যাপন করেন। লোকলজ্জার ভয়ে চিকিৎসার শরণাপন্ন হননা বললেই চলে।

  • ডা. সাঈদ এনাম: সাইকিয়াট্রিস্ট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত