শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৪২

শুদ্ধাচার পুরস্কার কী, কারা পান?

নিজ দপ্তরের খাস কামরায় একজন অফিস সহায়কের সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হয়েছেন জামালপুরের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর। এ অর্থবছরে (২০১৮-১৯) তিনি পেয়েছেন বিভাগীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় দুই মাস আগে পাওয়া শুদ্ধাচার পুরস্কারের এ সনদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই এর প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্বিক বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্তও চলমান।

খাস কামরায় অফিস সহায়কের সঙ্গে এমন অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশের পর তার শুদ্ধাচার পুরস্কার নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা কী এবং কীভাবে এই পুরস্কারের জন্য কর্মকর্তা বাছাই করা হয়, এনিয়েও আলোচনা চলছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল জারি করা হয় ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা, ২০১৭’ সংক্রান্ত এক গেজেট। এতে সাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম।

ওই গেজেটে বলা হয়, ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শিরোনামে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে, যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইট, গেজেট ও পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এ কৌশল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নৈতিকতা কমিটি গঠিত হয়েছে এবং নৈতিকতা কমিটির সদস্য সচিব শুদ্ধাচার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করছেন। সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এ শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তার কর্মকৌশল প্রণয়ন করছে বলেও গেজেটে বলা হয়েছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, ‘সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত কর্মচারীদের পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো। শুদ্ধাচার চর্চায় এই পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা নির্বাচিত হবেন তারা হলেন ১. মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব ২. প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ১০ ভুক্ত একজন এবং গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত একজনসহ মোট দুই জন কর্মচারী। ৩. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্য হতে একজন কর্মচারী, ৪. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ থেকে একজন কর্মচারী, ৫. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহের গ্রেড ৩ থেকে ১০-ভুক্ত একজন কর্মচারী, ৬. গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত একজন কর্মচারী, ৭. মাঠপর্যায়ের জেলাসমূহের মধ্য থেকে একজন কর্মচারী, ৮. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের উপজেলা কার্যালয়সমূহের প্রধানদের মধ্য হতে একজন কর্মচারী।’

এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কর্মচারী বলতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বোঝাবে।’

৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘ নীতিমালায় বর্ণিত সূচকের ভিত্তিতে এবং প্রদত্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে এ পুরস্কার দেওয়ার জন্য কর্মচারী বাছাই বা নির্বাচন করা হবে। পুরস্কার প্রদানের জন্য সুপারিশ করার ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার চর্চার জন্য নির্ধারিত গুণাবলির ১৮টি সূচকের প্রতিটির জন্য ৫ নম্বর করে মোট ৯০ নম্বর এবং মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, দফতর বা সংস্থা কর্তৃক ধার্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রমে ১০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বর বিবেচনা করা যেতে পারে।’

শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত যে ১৯টি সূচকের কথা বলা হয় তার মধ্যে আছে- কর্মচারীর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন স্থাপন করা, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবাগ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, ছুটি গ্রহণের প্রবণতা, উদ্ভাবনী চর্চার সক্ষমতা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে আগ্রহ, উপস্থাপন দক্ষতা, ই-ফাইল ব্যবহারে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা করা।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীকে উল্লেখিত সূচকের ১০০ নম্বরের মধ্যে অবশ্যই ৮০ নম্বর পেতে হবে। এটি না পেলে ওই কর্মচারী এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হবেন না। আর বিবেচিত কর্মচারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কর্মচারী শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হবেন। সিনিয়র সচিব বা সচিবদের মধ্যে এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য কর্মচারী নির্বাচন করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত বাছাই কমিটি। আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধানদের মধ্য থেকে কর্মচারী বাছাইয়ের জন্য আঞ্চলিক প্রধানের নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ের কর্মচারী বাছাইয়ের জন্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধানের নেতৃত্বে, উপজেলা পর্যায়ের কর্মচারী বাছাইয়ের জন্য জেলা কার্যালয়ের প্রধানদের নেতৃত্বে পৃথক বাছাই কমিটি থাকবে।’

গেজেটে এই পুরস্কারের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবছর সরকারের শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পুরস্কার হিসেবে একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত