শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:২১

বাংলাদেশবন্ধু ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিন আজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধীর জন্মদিন আজ। ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জওহর লাল নেহেরু ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার ছেলে রাজীব গান্ধীও ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

১৯৪১ সালে অক্সফোর্ড থেকে ফিরে এসে ইন্দিরা গান্ধী পিতার সাথে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সাল থেকে অপেশাগত ভাবে জওহরলাল নেহেরুর অফিস সহকারীর কাজ করে আসছিলেন। ১৯৬৪ সালের জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর ভারতের রাষ্ট্রপতি তাকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তখন ইন্দিরা লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর হঠাৎ মৃত্যুর পর ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের নিঃশর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশ-বন্ধু হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের দেশে আশ্রয় দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, মুক্তিযুদ্ধে সেনা সহায়তা দেয়াসহ সব ধরনের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহায়তা দিয়েছিল ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকার। ইন্দিরা গান্ধী কেবল সহযোগিতা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের প্রতিও আন্তরিক ছিলেন। পরিদর্শন করেন শরণার্থী শিবিরও।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারও সহযোগিতা করে। মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য ভারত কূটনীতিক প্রচারণাও অব্যাহত রাখে।

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দল বাংলাদেশে মোতায়েন করা হয়। ভারতের পাঠানো তিনটি সৈন্যবহরের দুটি ছিল সপ্তম পদাতিক এবং অপরটি ছিল নবম পদাতিক; যাদের ভারত পূর্ববাংলার সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন করে। ভারতের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়।

চূড়ান্ত বিজয়ের আগে ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। ভারতের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে আরও বড় ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে লেখা ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষের দিনগুলোয় মুজিবনগর সরকারকে তাৎপর্যপূর্ণ প্রেরণা যুগিয়েছিল।

১৯৮০ সালে চতুর্থবারের মত নির্বাচনে বিজয়ী এবং প্রধানমন্ত্রী হন ইন্দিরা। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজের দেহরক্ষীর হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত