মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ মে, ২০১৯ ০০:১০

হুয়াওয়ে ফোনে থাকবে না ইউটিউব-গুগল ম্যাপ

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে আর অ্যান্ড্রয়েড সেবা দেবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন টেক-জায়ান্ট গুগল। এর ফলে হুয়াওয়ের নতুন মডেলের হ্যান্ডসেটগুলোতে ইউটিউব, জি-মেইল, গুগল ম্যাপ, ক্রোম ব্রাউজারের মতো জনপ্রিয় গুগল অ্যাপসগুলো আর থাকবে না। পাশাপাশি এখন থেকে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলোতে কোনো ধরনের আপডেট ভার্সন দেবে না গুগল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি হুয়াওয়েকে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোম্পানিতে তালিকাভুক্ত করেছে, যার সঙ্গে বাণিজ্য করতে হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। এরপরই গুগল এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালো।

এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, তারা আদেশ মেনে কাজ করছে এবং এর প্রভাব পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে হুয়াওয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান হুয়াওয়ে স্মার্টফোনের ব্যবহারকারীরা গুগলের প্লে স্টোরে প্রবেশের সুযোগ থাকায় অ্যাপ্লিকেশন ও নিরাপত্তাবিষয়ক আপডেট পাবেন। কিন্তু চলতি বছরের শেষ দিকে গুগল অ্যান্ড্রয়েডের পরবর্তী যে সংস্করণ আনতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে ব্যবহারকারীরা সেটা থেকে বঞ্চিত হবেন।

ভবিষ্যতে হুয়াওয়ে ডিভাইসগুলোতে ইউটিউব ও গুগল ম্যাপসের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলো দেখা যাবে না। তবে হুয়াওয়ে এখনও ওপেন সোর্স লাইসেন্সের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের চলতি পাই সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া ওপেনসোর্স প্ল্যাটফর্মে থাকা অ্যাপসগুলো ফোনটিতে সচল থাকবে।

ওপেনসোর্স লাইসেন্সের আওতায় না পড়ায় হুয়াওয়ের নতুন ডিভাইসে ইউটিউব, জি-মেইল, গুগল ম্যাপ ও ক্রোম ব্রাউজারের মতো জনপ্রিয় গুগল অ্যাপসগুলো আর থাকবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুগলের এই পদক্ষেপ হুয়াওয়ের ব্যবসার জন্য বড় প্রভাব পড়বে।

গত বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হুয়াওয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইনটিটি তালিকাভুক্ত’ করে। এর ফলে সরকারি অনুমোদন ছাড়া হুয়াওয়েকে মার্কিন সংস্থা থেকে প্রযুক্তিসেবা নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই তালিকা দেওয়ার পর হুয়াওয়ে প্রধান নির্বাহী রেইন জাংফেফি শনিবার জাপানি মিডিয়াকে বলেছেন, এর জন্য আমরা ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

চীনা বাণিজ্যযুদ্ধের জন্য প্রথম থেকেই হুয়াওয়েকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে আসছেন ট্রাম্প। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফাইভজি সেবার কাজে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে টেলিকম নেটওয়ার্কে হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা দেশগুলো। যদিও এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে হুয়াওয়ে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত