মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৭

বিশ্বের ৭ম বৃহৎ ডাটা সেন্টারের দেশে পরিণত বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টারের উদ্বোধনকালে এটিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের গড়ার পথে আরেক ধাপ অগ্রণী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলাম আমরা।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে এই ডাটা সেন্টারের উদ্বোধন করেন। খবর বাসসের।

দেশের উন্নয়নের জন্য ডাটা সংরক্ষণ জরুরী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তারই অংশ হিসেবে এই ডাটা সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হলো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ডাটা সেন্টারটি স্থাপনের পর ডাটা সংরক্ষণের জন্য আমাদের আর অন্য কারো ওপর নির্ভর করতে হবে না। এর মাধ্যমে বছরে সাড়ে ৩শ’কোটি টাকা আয় বা খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।’

চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ৭ একর জমির ওপর গড়ে তোলা এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পেং যৌথভাবে এর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই ডাটা সেন্টারটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের সেরা মান নির্ধারণ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ‘আপ টাইম ইন্সটিটিউট’ থেকে মান নিয়ন্ত্রণের জন্য সনদ অর্জন করেছে।

এদিনের ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত সৌর বিদ্যুৎ সুবিধার, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কাপ্তাই লেকে ভ্রাম্যমাণ গবেষণা তরী (রিসার্চ ভেসেল) এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ৫টি নতুন জাহাজের ও উদ্বোধন করেন।

এটি বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ডাটা সেন্টার। এর আপ টাইম ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এখানে ডাটা স্টোরেজ ব্যাকআপ, রিকভারী, ডাটা সিকিউরিটি, ডাটা শেয়ারিং, ই গর্ভানেন্স, ই সার্ভিস পাওয়া যাবে। এর তথ্য ধারণ ক্ষমতা দুই পেটাবাইট (১০ লাখ গিগাবাইট=১ পেটাবাইট)। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৩টি, স্পেনের ২টি সৌদি আরব এবং কানাডার একটি করে ‘টায়ার ফোর ডাটা সেন্টার’ রয়েছে।

’৯৬ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতে মোবাইল ফোন উন্মুক্তকরণ এবং তাঁর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে কম্পিউটার সামগ্রী থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ দেশকে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে ওঠায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

প্রতিহিংসার রাজনীতির একটি উদাহরণ তুলে ধরে ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একটি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানির কাছ থেকে অর্ধেক দামে ১০ হাজার কম্পিউটার কেনার একটি সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০ হাজার স্কুলকে কম্পিউটার প্রদানের একটি তালিকা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ হাজার কম্পিউটার অর্ধেক দামে ক্রয়ের চুক্তিও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুল টিউলিপ’র নামে উক্ত কম্পিউটার কোম্পানিটির নাম হওয়ায় পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়াকে বোঝালো- শেখ রেহানার মেয়ের নামে যেহেতু কোম্পানি (ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী) তাই ওদের কম্পিউটার নেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরে সেই কম্পিউটার তো দেশে এলোই না বরং ঐ টিউলিপ কোম্পানির রুজু করা মামলায় বাংলাদেশকে ৩২ কোটি অতিরিক্ত টাকা জরিমানা গুনতে হলো। নামের প্রতি প্রতিহিংসা দেখাতে গিয়ে খালেদা জিয়া সরকার দেশের ৩২ কোটি টাকা গচ্চা দিল। আর আমরা যে টাকা জমা দিয়েছিলাম তাও গেল। সমস্তটাই লোকসান!’ সে সময় সরকারের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং স্কুল পর্যায়ে কম্পিউটার সরবরাহে তাঁর সরকারের উদ্যোগটাও থেমে গিয়েছিল, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা মোবাইল ফোনকে জনগণের নাগালের মধ্যে আনায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে জানতাম (বিএনপি’র এক মন্ত্রীর মনোপলী ব্যবসা) তাই ক্ষমতায় এসেই আমি এই মোবাইল ফোনকে উন্মুক্ত করে দিলাম বেসরকারি খাতে। যাতে প্রত্যেকের হাতে এটি পৌঁছে যায়।’ ‘সত্যিই আজকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণ এবং সারাদেশে ২৮টি আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগও তুলে ধরেন। সারাদেশে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ, ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রযুক্তিকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে যাওয়ায় তাঁর সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত এইডাটা সেন্টারটি তৈরি হয়ে যাওয়ায়। এটি আমাদের দেশের জন্য যথেষ্ট সুযোগ করে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী ৪টি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে প্রকল্প এলাকার প্রশাসন এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মেজর (অব:) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয় মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত