সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী, ২০১৫ ১৩:৪২

দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে ফের খুলল পেশোয়ারের সেনাস্কুল

ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠি তেহরিক-ই-তালিবানের নারকীয় হত্যাকান্ডের দুঃসহ স্মৃতি পাশ কাটিয়ে ফের খুলেছে পাকিস্তানের পেশোয়ারের সেই সেনা স্কুল । 

সন্ত্রাসের কাছে কোনওভাবেই মাথা নত নয়। এই বার্তা নিয়ে খুলল এ বিদ্যালয় । তবে  স্কুলের চারপাশে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে পাক প্রশাসন।

একমাস আগের এক সকালটা আর পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল ওই স্কুলে। কিন্তু, কে জানত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বদলে যাবে পুরো ছবিটা। কে জানত, প্রাণের স্কুল পরিণত হবে ধ্বংসস্তুপে। যে স্কুলে সারাক্ষণ ছিল কচিকাঁচাদের কোলাহল, সেখানেই শ্মশানের স্তব্ধতা।

গত ১৬ ডিসেম্বর এই স্কুলেই নারকীয় হত্যালীলা চালায় তেহরিক-ই-তালিবান। ১৩২ জন স্কুলপড়ুয়া-সহ নিহত হন ১৪১ জন।তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় একমাস। মৃত্যুর মিছিল পেরিয়ে, সন্ত্রাসের স্মৃতিকে সরিয়ে ফের নতুন করে দাঁড়াতে তৈরি আর্মি পাবলিক স্কুল। সোমবার সকালে সন্ত্রাস-হামলায় বিধ্বস্ত স্কুলের দরজা পুনরায় খুলল।

এই ক’দিনে জঙ্গিদের ধ্বংসলীলাকে সাফ করার কাজে ব্যস্ত ছিল পাকিস্তানের বৃহত্তম আপত্কালীন বাহিনী ‘রেসকিউ ১১২২’। গত ১৯ ডিসেম্বর, হামলার ঠিক তিনদিন পর শহরের সমস্ত সংবাদমাধ্যমকে একটা ছোট্ট বার্তা পাঠিয়েছিলেন এই বাহিনীর অন্যতম সদস্য বিলাল ফৈজি।
সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, ওই সাফাইয়ের কাজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর ছিল। তিনি বলেছেন, কেমনভাবে চারিদিকে চাপ-চাপ রক্ত ছড়িয়ে ছিটেয়ে পড়েছিল। কেমন বই ও খেলনার মধ্যে মাংসের টুকরো আটকে ছিল। ফৈজি স্বীকার করেছেন, তিনদিন কাজ করতে গিয়ে তাঁরা সকলেই শুধু কেঁদেছেন।

স্কুল শুরু হয়েছে বটে, তবে প্রিন্সপাল ছাড়াই। যিনি ছিলেন, তিনি জঙ্গিদের গুলির বলি হয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, একজন বাদে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে গোটা নবম শ্রেণি। তা সত্ত্বেও, যে পড়ুয়ারা সেদিন কোনওভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে, তারা ওই স্কুলে ফিরতে চাইছে। স্কুল খোলার হয়ে সওয়াল করেছেন ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মায়েরাও।

তাই তড়িঘড়ি স্কুল পরিষ্কার করা হয়েছে, খাড়া করা হয়েছে নতুন, আরও উঁচু পাঁচিল। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। কিন্তু, এখনও দেওয়ালে গুলির ক্ষতগুলি জ্বলজ্বল করছে, আর সেদিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বারবার। স্কুলের গেটে তাই এখনও ঝুলছে নিহত সহপাঠীর ছবি—শহিদ ওয়াসিফ আলি খান, শহিদ হুজাইফা আফতাব...।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত