বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ ইং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:৩৩

রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার সাজা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের এক ব্যাংক ম্যানেজারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির একটি আদালত। বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই সাইবার অপরাধের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ চুরি যায়। এই ঘটনায় এটিই প্রথম কারো সাজার রায়।

ম্যানিলা ভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্প (আরসিবিসি) এর একজন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দিগুইতোর বিরুদ্ধে এই রায় দেয়া হয়। মানি লন্ডারিং আইনের যে ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাতে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। রায়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১০৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আলোচিত এই ঘটনা ঘটে। যেখানে সুইফট কোড ভেঙে এই চুরি করা হয়। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের থাকা রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি করা হয়।

চুরি করা অর্থ আরসিবিসির একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এরপর তা ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ইন্ডাস্ট্রিতে স্থানান্তর করা হয়। আরসিবিসির যে শাখায় এই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল তারই ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন দেগুইতো।

আদালত এই মামলার ২৬ পৃষ্ঠার রায় দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এই লেনদেনের ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই; উন্মুক্ত আদালতে তার দেয়া এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

আদালত বলেছে, অবৈধ এই লেনদেনের দেগুইতো সহযোগিতা করেছেন এবং লাভবান হয়েছেন।

এদিকে আরসিবিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেগুইতো ব্যাংকে তার অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির শিকার।

তবে চূড়ান্ত দণ্ড ঘোষণা পর্যন্ত দেগুইতোকে জামিন দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলেরও ঘোষণা দেন তার আইনজীবী।

এএনসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তার আইনজীবী বলেন, সে একজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা এবং তার এই বিষয়ে করার কিছু ছিল না।

এই ঘটনার পর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরসিবিসিকে প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিল। একইসঙ্গে ব্যাংকের একজন ট্রেজারার ও লেনদেনের সঙ্গে জড়িত পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তাকে তখন প্রত্যাহার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিং আইনে অভিযোগ আনা হয়।

রায়ের পর রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আসলাম বলেন, আমরা আশা করছি এই মামলায় দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

এই ঘটনার পর ১৫ মিলিয়ন ডলার ক্যাসিনো মার্কেট থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল দেশটি। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফিলিপাইন সফর করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত