শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯ ইং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ মে, ২০১৯ ২০:৫৮

রোজা ভেঙে হিন্দু ধর্মের রোগীদের রক্ত দিলেন ভারতের মুসলমানরা

পৃথিবী জুড়েই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন রমজান মাস। এরই মাঝে আসামের একটি ঘটনা নজর কাড়ল বিশ্ববাসীর। ভারতে আসামের হাইলাকান্দি জেলায় কদিন আগেই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু ওই রাজ্যেরই অন্য কয়েকটি জায়গায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির এক অন্য ছবি উঠে এসেছে।

রোজা ভেঙে অন্তত দুইজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুই হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোগীর। যে দেশে ভিন্ন ধর্মের কাউকে ভালোবাসলে অনড় কিলিং-এর মত ঘটনা ঘটে, ‘নিচু’ জাতের ছায়া মাড়ালে ‘জাত যায়’, সেই দেশের এমন খবর শিরোনামে আসার যোগ্য।

আসামের বিশ্বনাথ চরিয়ালির বাসিন্দা অনিল বোরা তাঁর ৮২ বছর বয়সী মা, রেবতী বোরাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন গত সপ্তাহে। কিছু পরীক্ষার পরে জানা যায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দিতে হবে। বোরার রক্তের গ্রুপ বি নেগেটিভ। সেই রক্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের সাথে অনিল বোরার যোগাযোগ হয় শোনিতপুরের বাসিন্দা মুন্না আনসারির সাথে। পরে গত রবিবার আনসারি রোজা ভেঙে রক্ত দিয়েছেন রেবতী বোরাকে।

মুন্না আনসারি বলেন, তারা আমাকে বলেন ভেবে দেখ, রোজা ভাঙতে হবে কিন্তু। আমি বলেছিলাম রোজা ভাঙতে হলে হবে। তবে যদি রাতে রক্ত দিলে কাজ হয়, তাহলে রোজার শেষেই হাসপাতালে যাব, আর না হলে রোজা ভেঙে দেব।

অন্যদিকে গোলাঘাট জেলার বাসিন্দা ইয়াসিন আলী রোজার শেষে বাবার সাথে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ওজন মাপতে। সেখানে গিয়ে হঠাৎই এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়, যিনি আড়াই বছরের শিশুকন্যার জন্য রক্ত খুঁজছিলেন।

সাথে সাথেই রক্ত দিতে রাজী হয়ে যান আলী। তিনি বলেন, যদিও আমাকে রোজা ভাঙতে হয়নি সেদিন রক্ত দেওয়ার জন্য। তবে প্রয়োজন হলে ভাঙতেও দ্বিধা করতাম না।

গুয়াহাটির একটি হাসপাতালের কর্মী পান্নাউল্লা আহমেদ। তিনিও রোজা ভেঙে রক্ত দিয়েছেন আর একজন ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে। তিনি বলেন, আমি চাইছিলাম রক্ত দিতে, তার জন্য যদি রোজা ভাঙতে হয় তো হবে। একজন মানুষের প্রাণ তো বাঁচাতে পারব। তবুও আমি বাড়ির অনুমতি নিয়ে নিই। তাঁরা রক্ত দিতে বলে। তাই আমি রক্ত দিয়ে দেই। রক্ত দেওয়ার পর একটি হোটেলে গিয়ে ভালো করে ভাত খেয়ে নেই।

তাঁদের রক্ত দেওয়ার ঘটনা ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনজনই বলছেন যে তাঁরা একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যা করা উচিত বলে মনে হয়েছে, সেটাই করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত