মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ ইং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:৪১

ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ আংশিক চালু জম্মু-কাশ্মীরে

নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ির মধ্যেই টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে জম্মু-কাশ্মীরে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা আংশিক চালু হয়েছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়। ঈদুল আযহা উপলক্ষে কর্তৃপক্ষের নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি শুক্রবার জুমার নামাজ উপলক্ষে মানুষের চলাচলেও কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, টানা কয়েকদিনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুক্রবার সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরে ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়; তবে তা পুরোপুরি নয় আংশিক।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের জন্য সকাল থেকে মানুষের চলাচলের ওপর কিছুটা ছাড়া দেওয়া হয়। বড় বড় মসজিদগুলোতে না হলেও ছোট মসজিদগুলোতে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মসজিদের সামনে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছেন তারা।

ভারতের রাজ্যসভায় সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের ৭০ বছরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সংবিধানের এই ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দুই ভাগ করা হয়।

৩৭০ ধারার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসিত ছিল জম্মু-কাশ্মীর। নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা ও স্বতন্ত্র আইন বানানোর অধিকার ছিল ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের। তবে ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে এখন থেকে জম্মু-কাশ্মীরের পরিচিতি হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে।

ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইমরান খান। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে এখন জাতিগত নিধন চালানো হবে।

৩৭০ ধারা বাতিল করায় জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত সপ্তাহ থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে অতিরিক্ত আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অমরনাথের তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের দ্রুত রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে হবে। ওই ঘোষণার পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যে।

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বিল পাসের পর উপত্যকার বেশ কিছু এলাকায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। শহর ও গ্রামগুলোর আশপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেখা গেছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলে টিভি চ্যানেল, ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত