আজ বুধবার, , ২২ আগস্ট ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ জুলাই, ২০১৮ ২২:৪৩

৩৮ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত আরও ৩৮ জন বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৫৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সম্প্রতি গেজেট জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আগেই জানিয়েছেন, ৪০০ থেকে ৫০০ জন বীরাঙ্গনাদের তালিকা নিয়ে কাজ করছেন তারা, পর্যায়ক্রমে সবাইকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মান জানান। তার নির্দেশনায় বীরাঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত চলছিল।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক শাসকদের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানি জান্তার সহযোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সদ্য প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া ৩৮ বিরঙ্গনা হচ্ছেন-

  • নীলফামারীর জলঢাকার মোছা. শাহেলা বেগম,
  • ঠাকুরগাঁও সদরের মোছা. আমেনা বেওয়,
  • লালমনিরহাট সদরের শেফালী রানী,
  • মোছা. রেজিয়া, মোছা. মোসলেহা বেগম,
  • শ্রীমতি জ্ঞানো বালা,
  • চট্টগ্রামের পটিয়ার আছিয়া বেগম,
  • ফেনীর ছাগলনাইয়ার রহিমা বেগম,
  • কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আফিয়া খাতুন খঞ্জনী,
  • জয়পুরহাট সদরের মোসা. জাহানারা বেগম,
  • নওগাঁ সাপাহারের মৃত পান বিলাসী,
  • নাটোর বড়াইগ্রামের মোছা. হনুফা,
  • সিরাজগঞ্জের তাড়াশের অর্চনা সিংহ ও মৃত পচি বেওয়া,
  • চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার মোছা. ওজিফা খাতুন, দয়ারানী পরামানিক ও মোছা. রাবেয়া খাতুন,
  • কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মাছুদা খাতুন, মোছা. মোমেনা খাতুন ও মোছা. এলেজান নেছা,
  • কুষ্টিয়া সদরের মৃত রাজিয়া বেগম,
  • বাগেরহাটের রামপালের মোসা. ফরিদা বেগম,
  • শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মোছা. মহিরন বেওয়া, মোছা. আকিরন নেছা, মোছা. জতিরন বেওয়া, মোছা. হোসনে আরা, মোছা. হাজেরা বেগম (পিতা মৃত উমেদ আলী) ও হাজেরা বেগম (পিতা মৃত হাসেন আলী),
  • শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মৃত ফিরোজা খাতুন,
  • শরীয়তপুর সদরের জুগল বালা পোদ্দার, যোগমায়া ও সুমিত্রা মালো,
  • গোপালগঞ্জ সদরের হেলেনা বেগম ও ফরিদা বেগম,
  • গাজীপুরের কালীগঞ্জের মোসা. আনোয়ারা বেগম,
  • ঝালকাঠি সদরের সীমা বেগম ও মোসা. আলেয়া বেগম,
  • হবিগঞ্জের মাধবপুরের সন্ধ্যা ঘোষ।

এনিয়ে ২৩১ জন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও আসে।

শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। পরের বছরের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব পাস হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত