শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:৩৫

যুদ্ধাপরাধে নেত্রকোনার আঞ্জু-ছোরাপের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরে নেত্রকোনার আটপাড়ায় হত্যা, গণহত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার দায়ে দুই আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দুই আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আরেক আসামি হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি পলাতক।

একাত্তরে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় গঠিত শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন এবং আটপাড়ার মধুয়াখালী, মোবারকপুর ও সুখারী গ্রাম এবং মদন থানার মদন গ্রামে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান বলে উঠে এসেছে এ মামলার বিচারে।

২১৮ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছে, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে। বাকি তিন অভিযোগের প্রত্যেকটিতে তাদের দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে আঞ্জুর ভাই এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জুকেও আসামি করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

পরে ওই বছরই কারাগারে থাকা ছোরাপ ও পলাতক আঞ্জুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। বিচার কাজ শেষে আদালত বুধবার তাদের দোষী সাব্যস্ত করে সাজার রায় দিল। এই রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন আসামিরা। তবে সে সুযোগ নিতে হলে পলাতক হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জুকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল জানান, বিশ্বের মানুষ এখন গণহত্যার বিরুদ্ধে সক্রিয় ও সচেতন। ট্রাইব্যুনাল আগেও উচ্চারণ করেছেন, এবারও উচ্চারণ করলেন- গণহত্যা আর না।

অন্যদিকে আসমিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আব্দুস শকুর খান সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আর পলাতক যিনি আছেন তিনি যদি আদালত, রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, তাহলে আশা করি দুজনেই খালাস পাবেন।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৩৭টি মামলার ৯৫ আসামির মধ্যে ছয়জন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ৮৭ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত