রোববার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪২

আজ কুলাউড়া মুক্ত দিবস

৬ ডিসেম্বর; কুলাউড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রু মুক্ত হয় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা।

পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের কুলাউড়া থানায় প্রথম আগমন ঘটে ৭ মে। মৌলভীবাজার থেকে কুলাউড়া প্রবেশ পথে কাপুয়া ব্রিজের কাছে গতিরোধ করতে গিয়ে সেদিন শহীদ হন বীর সৈনিক মোজাহিদ সদস্য জয়চন্ডী ইউনিয়নের মো. আকরাম ওরফে আছকির মিয়া ও হাবীব উদ্দিন।

কুলাউড়া থানার সবচেয়ে বড় ও সর্বশেষ অপারেশন হয় গাজীপুর চা বাগানে। নভেম্বরের শেষ দিকে গাজীপুর মুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এতে নেতৃত্ব দেন এম এ মোমিত আসুক। সাগরনাল চা বাগানে প্রথম এসে অবস্থান নেন তারা। ওই স্থানে মিলিত হন ধর্মনগর থেকে আগত কর্নেল হর দয়াল সিংহের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা বাহিনী ৬৭ রাজপুর রেজিমেন্টের বিরাট একটি দল।

তারাও বাগানে অবস্থান নেন। ৩০ নভেম্বর কাকুরা চা বাগানে অবস্থানকারী ৭৫ রাজাকার ও পাঁচজন পাকিস্তানি সৈন্য ধরা পড়ে।

১ ডিসেম্বর কাকুরা চা বাগান থেকে গাজীপুর চা বাগান এলাকার দিকে মিত্র বাহিনী অগ্রসর হলে পাক সেনাদের সঙ্গে পাল্টা গুলি বর্ষণ চলতে থাকে।

২ ডিসেম্বর রাতে যুদ্ধ হয়। ৩ ডিসেম্বর ৪/৫ গোর্খা রেজিমেন্ট কর্নেল হারকিলের নেতৃত্বে একটি দল সাহায্যে এগিয়ে আসেন। রাতেও প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। তবুও গাজীপুর চা বাগান এলাকা দখল মুক্ত করা সম্ভব না হলে ৪ ডিসেম্বর যুদ্ধের পরিকল্পনা বদলে ফেলা হয়।

সে অনুযায়ী এম এ মোমিত আসুক ও মোহন লাল সোম রাত ১২টায় পেছন দিক থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শেষ দিকে লস্করপুর গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনী এ যুদ্ধে অংশ নেন। ওই যুদ্ধে প্রায় ২৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য প্রাণ হারায়।

৫ ডিসেম্বর গাজীপুর চা বাগান এলাকা মুক্ত হয়। ওই দিনই সন্ধ্যার দিকে সম্মিলিত বাহিনী কুলাউড়ায় পৌঁছে। এ রাতেই সব পাকিস্তানি সৈন্য ব্রা‏‏হ্মণবাজারের দিকে সড়ক পথে কুলাউড়া ত্যাগ করে। এভাবেই ৬ ডিসেম্বর কুলাউড়া শত্রুমুক্ত হয়। ওই দিন থেকে কুলাউড়ায় লাল-সবুজের পতাকা উড়তে থাকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত