শুক্রবার, , ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ ইং

অনলাইন ডেস্ক

১০ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৯:১১

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে প্রতিদিন একটি করে ডিম

দিনে একটি করে ডিম খেলে টাইপ টু ডায়াবেটিস থেকে রেহাই পাওয়া যায় বলে দাবি করছেন ফিনল্যান্ডের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। মলিকিউলার নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড জার্নালে সম্প্রতি এ গবেষণার ফল নিবন্ধ আকারে প্রকাশ করা হয়। খবর ডেইলি মেইল।

প্রকৃতপক্ষে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ডিমের ভূমিকা ইতিবাচক না নেতিবাচক, সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে বিস্তর। বিভিন্ন গবেষণায় দুটিরই পক্ষে-বিপক্ষে নানা তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এ গবেষণার ফল সে বিতর্ককে আরেকটু উসকে দিয়েছে।

গবেষণা নিবন্ধটিতে বলা হয়, টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে ডিম অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

একদল ব্যক্তির ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট ফিনল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, এদের মধ্যে যারা নিয়মিত ডিম খান, তাদের রক্তে লিপিড প্রোফাইল এমন এক পর্যায়ে থাকে, যা সাধারণত যাদের কখনই ডায়াবেটিস হয় না, তাদের মধ্যে দেখা যায়।

প্রকৃতপক্ষে টাইপ ওয়ান ও টাইপ টু উভয় ধরনের ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেই খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে যাদের টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস থাকে, তাদের দেহে ইনসুলিন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে দেহে ইনসুলিন তৈরি হলেও তা অপর্যাপ্ত অথবা অকার্যকর থাকে। অর্থাৎ তাদের দেহে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকে।

ডিম এমনিতেই বেশ পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটাতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ডায়াবেটিক রোগীদের নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। কারণ প্রতিটি ডিমে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে দশমিক ৫ গ্রাম পরিমাণে, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে, যা সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও এতে বায়োটিন নামে আরেক ধরনের উপাদান পাওয়া যায়, যা দেহে ইনসুলিন তৈরির জন্য প্রয়োজন। এছাড়া এতে ক্যালোরির মাত্রাও বেশ কম। পাশাপাশি বহুমুখী পুষ্টি উপাদানের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ।

অন্যদিকে ডিমের বিপক্ষেও যুক্তি রয়েছে অনেক। এতে কোলেস্টেরল রয়েছে প্রচুর। অতিমাত্রায় ডিম খেলে সুস্থ মানুষেরও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয় বলে প্রমাণ পাওয়ারও দাবি করেছেন অনেক গবেষক। এছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন রয়েছে। প্রোটিনের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে দেহ এটিকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এমনকি নতুন গবেষণাটিতেও ডিম গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীদের রক্তে এমন কিছু জৈব রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা রোগটির শঙ্কা বাড়ায়।

সবদিক বিবেচনা করে গবেষকরা ডায়াবেটিস দূরে রাখার জন্য নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় অর্থাৎ দিনে একটি করে ডিম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত