সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ জুলাই, ২০১৯ ২১:২৬

বৃষ্টির দিনে পোশাকের যত্ন নিবেন যেভাবে

বৃষ্টির দিনে সবাইকে পোশাক নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।  বৃষ্টিতে কাপড়ে কাদার দাগ লেগে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বাসায় ফিরে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো এই কাপড়গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা। নইলে কাপড়ে তিল পড়া, গন্ধ হয়ে যাওয়া ও ছত্রাক পড়ার মতো ঘটনা ঘটে। এতে কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের নানা রোগে আক্রান্তের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। কাজেই বৃষ্টির দিনে পরা পোশাক নিয়ে সতর্ক থাকুন।
 
এক্ষেত্রে বৃষ্টির দিনে পোশাকের যত্নে যা করবেন-

কাপড়ের যত্ন
১. বৃষ্টিতে পোশাকে কাদা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ডিটারজেন্টে ব্যবহার না করে প্রথমে কাদা লাগা স্থানগুলো ধুয়ে নিন। এরপর পুরো কাপড় আলাদাভাবে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে পুরো কাপড়ে দাগ আর লাগবেনা।
২. যে কোনো রঙের কাপড় ভিজে গেলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন যেন ওই কাপড়ে দাগ না পরে।
৩. বৃষ্টির দিনে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কাপড় শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগে। তারপরও ভালোভাবে কাপড় শুকানোর চেষ্টা করুন। কাপড় ভালো করে শুকানোর পর ইস্ত্রি করুন।
৪. আলমারিতে কাপড় রাখার সময় কাপড়ের ফাঁকে ফাঁকে ন্যাপথালিন ব্যবহার করুন। এটা ছত্রাক থেকে বাঁচিয়ে কাপড়কে সুরক্ষিত রাখবে।
৫. বর্ষায় ঘরের ভেতর কাপড় শুকানো থেকে বিরত থাকুন। এতে আপনার চামড়ায় বিভিন্ন সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এগুলো শিশুদের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
৬. বারান্দায় যেখানে বৃষ্টির পানির ছাঁট আসে না সেদিকে কাপড় রাখুন। রোদ উঠলে রোদে দিন।
৭. কাপড় ২-৩ দিন ভেজা থাকলে ব্যাক্টেরিয়ার কারণে বাজে গন্ধ বের হয়। তাই কাপড়ে গন্ধ হলে ডিটারজেন্ট এবং এন্টিসেপ্টিক লিকুইট দিয়ে আবার কাপড়টা ধুয়ে নিন।
 
৮. রোদ উঠলে ভেজা কাপড় শুকাতে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের আলমারি, ওয়্যারড্রপ, সব খুলে দিন। একইসঙ্গে দরজা জানালা সব খুলে দিন। তাহলে গুমোটভাব দূর হয়ে যাবে। প্রয়োজনে আলমারির কাপড় বিছানায় মেলে দিয়ে ফ্যান ছেড়ে দিন।
৯. আলমারির ভেতরে খবরের কাগজ রাখুন আর্দ্রতা টেনে নিবে। চাইলে কয়েকটা চকও রাখতে পারেন।
১০. কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে চন্দন কাঠ রাখুন তাতে কাপড় থেকে সুগন্ধ ছড়াবে। গায়ে মাখার সাবান, পারফিউমের বোতল কাপড়ের মাঝে রাখার চেষ্টা করুন। এতেও কাপড় সুগন্ধযুক্ত থাকবে।
 ১১. বাচ্চাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কোনোভাবেই যেন ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে কাপড় গায়ে না দেয়। বাহির থেকে কাপড়ে কাদা লাগলে প্রথমেই বাসায় এসে কাপড়টা ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। কারণ, দেরি করলে দাগ উঠানো কষ্টকর হয়ে যাবে।
১২. আলমারিতে খবরের কাগজে চাল পেঁচিয়ে (গোল করে) কাপড়ের মাঝে রাখলেও খুব দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেবে।
১৩. আগরবাতি কিংবা এর ছাই কাগজে পেঁচিয়ে আলমারির এক কোণায় রেখে দিন। কাপড়ে মৃদু সুগন্ধ থাকবে।
১৪. সর্বোপরি বৃষ্টির দিনে পোশাক নির্বাচনে সতর্ক থাকুন। এতে আপনার কাপড় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

কী ধরনের কাপড় পরবেন
১. বৃষ্টির দিনের আবহাওয়ায় সিল্ক, হাফসিল্ক, জর্জেট, সুতি জর্জেট কাপড়ের পোশাক পরা ভালো। এই ধরনের পোশাক ভিজলে জলদি শুকিয়ে যায় এবং দাগ লাগলে তা উঠানো সুতি কাপড়ের তুলনায় অনেকটা সহজ হয়।
২. দেশীয় রাজশাহী সিল্ক, সিফন জর্জেট ইত্যাদি কাপড় বেশ সহনশীল এবং বৃষ্টির দিনের উপযুক্ত পোশাক। তাড়াতাড়ি শুকায় বলে সহজেই ঠাণ্ডা লেগে যায় না।
৩. সিল্ক, হাফসিল্ক, জর্জেট, সুতি জর্জেট কাপড়ের পোশাক ধোয়া সহজ এবং কাদা লাগলেও সুতি কাপড়ের মতো দাগ স্থায়ী হয় না।
৪. বৃষ্টির দিন সুতি কাপড় পুরোপুরি পরিহার করুন। সুতি কাপড়ে বৃষ্টির পানি বা কাদা লাগলে তা শুকিয়ে এতে ছোট ছোট দাগ হয়ে যায়। সেই দাগ সহজে উঠানো সম্ভব হয় না। অনেক সময় দাগ রয়ে যায়। এভাবে হয়তো আপনার অনেক পছন্দের পোশাক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময় সুতি কাপড় না পরাই ভালো।
৫. বৃষ্টির দিনে অনেক বেশি সময়ের জন্য বাইরে থাকতে হলে হালকা রঙের পোশাক পরিহার করুন। কারণ হালকা রঙের পোশাকে দাগ পরলে সেই দাগ নিয়ে সারাদিন বাইরে থাকাটাও অস্বস্তিকর।
৬. আবার শুধু কোন অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরে নিন। কারণ মেঘলা দিনে আবহাওয়া অনেকটা অন্ধকার থাকে। রঙ যেন দৃষ্টিকটু না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বৃষ্টির মৌসুমে  বেগুনি, মেজেন্টা, গাঢ় সবুজ, লাল, হলুদ রংগুলো দারুণ মানায়।
৭. বর্ষায় লং-ড্রেস না পরাই ভালো। এতে পায়জামার সঙ্গে সঙ্গে কামিজেও কাদা লেগে যায়।
৮. শাড়ি পরলে অবশ্যই তা যেন গাঢ় রঙের জর্জেট হয়। এতে শাড়ি ভিজলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এবং গায়ে লেপ্টে থাকবে না। চলাফেরা করতেও সুবিধা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত