শনিবার, , ২০ অক্টোবর ২০১৮ ইং

গালিবনামা-৪

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২২ ২২:৩৬:৩১

মাসুদ পারভেজ:

৪.১
মনের অর্গলে তৃপ্তির ভাজ, যাকে সাজাও তুমি
সবটুকু উষ্ণতা দিয়ে
হল্লা শেষে, নেফারতিতি যদি আসে
ধরা দেয় আফ্রোদিতির সৌন্দর্য নিয়ে-
কি হবে, তবে?
মাসুদ, হ্রদয় তোমার, চৌহদ্দিজুড়ে গেছে ছিঁড়ে
ও মনের সেলাই করবে কিভাবে,
সুই-সুতো যেথায় গেছে হারিয়ে!
গালিব বলে, নিমগ্ন প্রতিভূ হয়ে দিও না ঝাপটা
ওহে কামুক প্রেমিক,
প্রকৃত প্রেমিক তব, মুখ লুকাবে কিসে

৪.২
সময়ের সম্ভারে তুমি বন্ধু তুমি সখা
তব, কেন আসো অসময়ে?
আমার যায় যায় প্রাণ!
ফুরিয়ে গেছে বসন্তের অনুরাগ
খোলস নাচন আমার-
এ খাঁচা, তব, ভাঙবো কেমন করে?
অথচ, ধক নিয়ে ভালোবাসতে চেয়েছি
গালিবের মত জীবনপ্রবাহ ধরে
এগুতে দেখি, ধূসর বিভ্রম-
এ মায়াকূপের আশু অবসান হোক।
গালিব, জীবনের মাহফিলে, হল্লা শেষে
হন্য হয়ে এবার নেব খুঁজে
মাসুদ বলে, মহৎপ্রাণ আগলে রাখতে।

৪.৩
সময়ের নগ্ন পদাবলিতে আমার নখর খুবলে যায়
পথে পথে অবিনাশী যত পথ,
পথের পথ, ধু ধু মরুপ্রান্তর হয়ে যায়।
বালুকাবেলায় এই সকল কোলাহল
চাপা পড়ে, ঘুমরে যাওয়া ভাবায়,
সপ্তশিখরে আমার বাঁচার ধক বেড়ে যায়।
কেবলই উগরে উঠে অশালীন ভাবনা
এই বুঝি ফুরোল প্রাণ
অতীতের নরক যাতনায়
ভবিষ্যতের হাঁক
গালিব আমায় বাঁধো:
শক্ত করে, যেমন নোঙর করে ডিঙিনৌকা।
গালিব, এ চোরাবালিতে, মাসুদ এক অসহায় প্রাণ
বাঁচবো বলে নিজের কাছেই করেছে কঠিন পণ।

৪.৪
পেলব সুন্দরে মানস খুলে যায়
উকি দেয় স্মৃতির যত সম্ভার,
সুরাপাত্র আঁকড়ে থাকার সাতকাহনে:
গালিব, তোমায় স্মরি, হ্রদয় নিংড়ানো ভালোবাসায়।
ফড়িঙ জীবনের বাঁকে বাঁকে
অমর্ত্যের হাতছানি,
জীবনের মচ্ছবে একা দাঁড়িয়ে
সুধায় তব, কাকেই বা বলি এই শিরোনাম।
শোন তব, গালিব, মাসুদ বলে-
জীবন তোমায় পারে নি হারাতে
বরঙ, শিয়রে দাঁড়িয়ে ছিল :
বিন্দু থেকে সিন্ধু হওয়ার মরণঘাতী লোভে।

৪.৫
জীবনের এই মহাউৎসব:
পুরানো শরাবের মাতাল গন্ধে
পথ হারিয়ে খুঁজি দিশা
এ সহস্র রজনীর যবনিকায়
গালিব, তোমার চরণে এ অধম
চুমো খেতে চায়।

জীবনের পূর্ণতায় অবারিত জীবন
ক্ষয়ে গেছে পুরানো ফলক
নাম ঠিকানাবিহীন এ বন্ধুর পথে
আমার কেবলই ধক হারিয়ে যায়।

ভেবে দেখো গালিব,
তোমার সৃষ্ট হীরে জহরত
ওজন দেওয়ার বাটখারা কই!

৪.৬
শরাবপাত্রে কেবলই ভেসে উঠে
প্রিয়া তোমার ওষ্ঠ
পত্রপল্লবে ঝড় বয়ে যায়
তেড়ে আসা অমানিশা রাতে
আমি গালিব পাঠ করে যায় ।

আমি তো পুরানো প্রেমিক
শরাব ছেড়ে লেহন করি প্রেয়সীর মুখ
চাখতে চাখতে বেজায় ভাবি
জীবনের কুয়াশায় রৌদ্রের দেখা:
হিম জমে যায় বুকের জমিনজুড়ে

গালিব, শিয়রে তাকিয়ে দেখি
আনন্দ-অশ্রুর পেলবতায় মাসুদের আহাজারি।

৪.৭
জীবনকে মাপতে গিয়ে নিক্তিতে
বাটখারা গেছে ভেঙে
অনভ্যস্ত সময়ের আচ্ছাদনে
গালিব, গিট খুলে দেয়।

খুলে দাও, তব, বাঁধন যত
জোয়ারের বুনো উল্লাসে মেতে
ফেনিল উচ্ছ্বাস ভাসিয়ে আনে
একমুঠো তিক্ততা।

এ পথ, গালিবের ধক
খুলে যায় জওকের অর্গল
সভালবির মাহফিলে হল্লা:
অপাঙক্তেয় গালিবে,
ভেসে যায় রাজতল্লাট
জওকের মৃত্যুতে খুলে যায় গালিবের পট
গালিব, তোমার কবিতায় উদ্বেলিত হোক
তব, মাসুদের পথ

৪.৮
ভালোবাসার উদাস গলিতে সরব
গালিবের পেয়ালা
ও শরাব তো ধন্য, গালিব
যে করেছে আকণ্ঠ পান।

পদ্য-গদ্যের ছন্দে ছন্দে
গালিবের মেলা জুড়ি ভার
পথে পথ হারিয়ে কোমল সারসের পাল:
ও চোখের গভীরতা দেখাও।

৪.৯
ধোঁয়া উঠা নহরে:
হ্রদয়ে লেখা নাম, মির্জা আসাদুল্লাহ খাঁ
তোমাকে জানাই প্রণাম।

জীবনের অদ্ভুত শূন্যতায়
গালিব, তোমায় স্মরি, জানাই প্রণতি
বাঁকে বাঁকে হেমলক পান করে
নিজেকে করেছি দৃঢ়-
জীবনেরে ভালোবেসে, তোমার সৃষ্টি;
আঁকড়ে ধরে।

এই অধমের অর্ঘ্য
জীবন যেখানে ফুরিয়ে যায়
সেখানে ভোরের কিরণ আলো ছড়ায়:
উদোমতায়, নয় অন্য কোন প্রহেলিকায়

গালিব বলে,
দেখো মাসুদ, জীবন তো কেবলই
তোমারই নাম জপে যায়।

আপনার মন্তব্য