বুধবার, , ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ইং

এক ‘নিষ্ফলা মাঠের কৃষক’ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৮ ১৪:৫০:১৩

জহিরুল হক মজুমদার:

২৫ জুলাই; অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর জন্মদিন। আলোর ফেরিওয়ালা তিনি। আমি প্রথম সায়ীদ স্যারকে দেখি আমার কলেজ জীবনে, সম্ভবত ১৯৮৮ সালে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কুমিল্লা শাখার আমন্ত্রণে স্যার গিয়েছিলেন সেখানে। কুমিল্লা কেন্দ্রের পরিচালক ছিলেন নওশাদ কবীর। আমাদের প্রিয় নওশাদ ভাই।

টাউন হলের একটি কক্ষে ছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছোট্ট অফিস। কুমিল্লার বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তনটি ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহাদুরের নামে স্থাপিত। প্রতি শুক্রবার এসে বই নেওয়া আর আলোচনায় অংশ নেওয়া ছিল আমাদের রুটিন।

মনে পড়ে বই পড়া প্রতিযোগিতার মধ্যেই একদিন সায়ীদ স্যার আসলেন কুমিল্লা কেন্দ্র পরিদর্শনে। তার আগেই নওশাদ ভাইয়ের মাধ্যমে স্যার আসছেন শুনে আমরা আলোচনা করতে শুরু করলাম স্যারের আগমন উপলক্ষে কী করা যায়। আমাদের আলোচনা শুনে কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুলের শিক্ষক এবং সেই সময় কুমিল্লা টাউন হল লাইব্রেরির ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক গফুর স্যার বললেন- “তোমরা ছেলে মানুষ, তোমরা আর কী করবে? সায়ীদ সাহেব বন্ধু মানুষ। উনি আসলে কী করতে হবে আমি দেখব। তোমরা ওনার কথা শুনবে শুধু”। যথাসময়ে স্যার এলেন। আমাদের সামনে চমৎকারভাবে উৎসাহজাগানিয়া বক্তৃতা দিলেন। আমরাও উপভোগ করলাম।

স্যার অবস্থান করছিলেন কুমিল্লা ক্লাবের অতিথি কক্ষে। পরদিন যাবার বেলায় স্যারকে শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল মনে হল। ঢাকা থেকে কুমিল্লা এসেছিলেন নিজের ছোট কারটি ড্রাইভ করে। কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় শারীরিক কারণে দ্বিধা করছিলেন। নওশাদ ভাই বিচলিত হয়ে বললেন, স্যার এখান থেকে একজন ড্রাইভার দিয়ে দেই। সে আপনাকে চালিয়ে পৌঁছে দেবে। যাক পরে স্যার নিজেই চালিয়ে ঢাকা পৌঁছে গেলেন।

ঢাকা আসার পর আমার সাথে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর তেমন যোগাযোগ থাকেনি। ভাল বিষয়ে সুযোগ পেয়েছি। সুতরাং জীবনে একটা কিছু হয়ে যাব এই মোহ তাড়া করে ফিরেছে। তবে ছাত্রজীবনে দারিদ্র ছিল বলে প্রাইভেট টিউশান করেছি অনেক। এমনই একটি প্রাইভেট টিউশানের সুবাদে আবারও আমার যাওয়া আসা বাড়তে থাকে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে।

আমার টিউশান ছিল বাংলামোটর থেকে একটু আগে ওয়ালসো টাওয়ারে। পড়াতাম রেবেকা আপার পুত্রকে। আমার এলাকার সিনিয়র আপা হওয়ার কারণে আমার জন্য স্নেহ আর যত্ন ছিল অপার। পড়াতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ বসে নিতাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। কিছু একটা বই পড়ে তারপর যেতাম আপার বাসায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের হল জীবন এখনকার চেয়ে ভাল ছিলনা সেই ত্রিশ বছর আগেও। নব্বইতে যখন ভর্তি হই তখন কিছুটা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থাকলেও নব্বই উত্তর অধিকাংশ বছরগুলোতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বাসযোগ্য ছিল বলে মনে করিনা। কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতা ছিল চরম। গ্রাম থেকে ভাড়া করে আনা একেবারেই অশিক্ষিত কিছু রাজনৈতিক গুণ্ডা থাকতো শহিদুল্লাহ হলে আমার রুমের পরের কয়েকটি রুমে। যেখানে আমাদের ব্লকে শুধু ব্যাচেলর ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণি পাওয়া ছাত্রদেরই থাকার কথা সেখানে এই ছিল অবস্থা।

উদার সাংস্কৃতিক পরিবেশতো দূরের কথা সাধারণ অর্থেও ভদ্রজনদের বসবাসের যোগ্য স্থান ছিলনা এই হলগুলো। জ্ঞান চর্চাতো সুদূর পরাহত। সামরিক শাসনের দমবদ্ধ অবস্থা থেকে তথাকথিত গণতন্ত্রের সময় আঞ্চলিকতা এবং রাজনৈতিক দখলবৃত্তির শিকার হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। টিএসসি'র সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ছিল অনেকের জন্য এই দমবদ্ধ অবস্থা থেকে কিছুটা নিস্তার।

কিন্তু অবাক ব্যাপার হচ্ছে কলেজ জীবনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জেলা কেন্দ্রতে যত উৎসাহী ছাত্রছাত্রী দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার হল কিংবা ক্যাম্পাসের চেনাজানা কোন মুখকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তেমন দেখিনি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শুভ্র সুন্দর জীবন অন্বেষণের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রিক দখলদারিতে ব্যস্ত থাকে ছাত্রছাত্রীদের একটি ছোট অংশ। আরেক বিপুল অংশ এই রাজনৈতিক দখলদারির চাপে তীব্র বিষণ্ণতা এবং হতাশায় আক্রান্ত হয়। কিন্তু বিষণ্ণ বা হতাশ ছাত্রছাত্রীদেরও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আনাগোনা কম কেন? কেন্দ্র তাদের বিকাশ এবং চিত্ত বিশ্রামের একটি ভাল জায়গা হতে পারত।

এর কারণ সম্ভবত এই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তারা জীবনের এমন এক পর্যায়ে চলে এসেছে বলে মনে করে যেখান থেকে আর কয়েকদিন পরেই সরকারি চাকরি কিংবা ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে সমাজের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে। সুতরাং এই পর্যায়ে আর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কিংবা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের কাছে তাদের আর কিছু নেওয়ার প্রয়োজন নেই, এই ধারণা দ্বারাই তারা আক্রান্ত হয় বলেই মনে হয়। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আধিপত্যবাদী প্রতিষ্ঠান। সেই আধিপত্যের বোধ ছাত্রছাত্রীদের মনোজগতেও কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ছোট প্রতিষ্ঠান এমন বোধও তাদের মধ্যে কাজ করতে পারে।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান নি। স্যারের লেখা থেকে পাওয়া যায় যে কলেজে পর্যায়ের যত ভাল ছাত্র এক সাথে পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অত ভাল ছাত্র পাওয়া যাবেনা। এটা আমার কাছে খুব গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা মনে হয়না। স্যার হয়তো এটার সত্যিকারের উত্তর কোন কারণে এড়িয়ে গেছেন।

সায়ীদ স্যার তাঁর জীবন অন্বেষায় তিনটি পর্ব পার হয়েছেন এবং সর্বশেষ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে থিতু হয়েছেন। তাঁর পরিচয় ঢাকা কলেজের সায়ীদ স্যার, টেলিভিশনের উপস্থাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ছাপিয়ে তাঁর যে পরিচয় সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সায়ীদ স্যার।

তাঁর জীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে। করেছেনও আজীবন। নিজের পিতাকে দেখেছেন শিক্ষক হিশেবে। কী দেবতুল্য সম্মান পেয়েছেন। তাই তাকে প্ররোচিত করেছে শিক্ষক হতে। হরগঙ্গা কলেজে যখন প্রথম যোগ দেন তা ছিল পিতার অধীনেই। তিনি ছিলেন সেখানকার অধ্যক্ষ। বেশ কয়েকটি কলেজ ঘুরে পারে স্থায়ী কর্মস্থল করেছেন ঢাকা কলেজকে।

অপরদিকে শিক্ষকতা করতে গিয়ে ভেবেছেন মানুষের আরও কাছে যাওয়ার জন্য টেলিভিশনে কাজ করা যেতে পারে। সেখানেও নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনায় এবং উপস্থাপনায় অনুষ্ঠান হয়েছে তুমুল জনপ্রিয়। স্যারের ভাষ্য মতে, সেই বিশাল টিভি ভবনের এমাথা থেকে ওমাথা চষে বেড়িয়েছেন, অনেকটা ভূতের মত। এক সময় মনে হয়েছে এ কাজ আর নয়, কোথাও দ্বিধার ঘণ্টা বেজে উঠেছিল নিজের ভেতরে। কিছু বিরতির পর আবার ফিরেও গেছেন সেই টেলিভিশনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাকেন নি আর-নিজের ভিতরে সেই নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনির আওয়াজে। এ ঘণ্টাধ্বনি একদিকে ছিল বিদায়ের ঘণ্টা, আবার অন্যদিকে ছিল অন্য কোন আহ্বানের ঘণ্টা। তাছাড়া ছোট পর্দার সীমাবদ্ধতাও তিনি অনুভব করেছেন।

১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সেটাকেই মানুষের কাছে পৌঁছার এবং মানুষকে যা দেবার তার প্রধান উপায় বলে ভেবেছেন এবং সেখানেই থিতু হয়েছেন।

সায়ীদ স্যারের প্রথম যে বইটি আমি পড়ি তা হচ্ছে “শৃঙ্খলিত প্রমিথিউস”। বইটি ভাল লেগেছে। ততদিনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এর বাংলার শিক্ষক ড. নজরুল আবেদীন স্যার এর ক্লাস করে গ্রিক নাটক সম্পর্কে উৎসাহ বোধ করতে শুরু করেছি। অনুবাদে পড়ে ফেলেছি সফোক্লিস এর ইডিপাস। এছাড়া ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদার রশীদ এর অনুবাদে পড়ে ফেলেছি সফোক্লিস এর ইডিপাস ট্রিলজির আরও দু’টি অংশ। তাই আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর অনুবাদ উপভোগ করেছি অনেক।

তারপর হাতে আসে তাঁর কবিতার বই “মৃত্যুময় ও চিরহরিৎ”। সায়ীদ স্যার কবি খ্যাতি চেয়েছেন এমনটা তাঁর কোন আলাপচারিতা কিংবা লেখায় উঠে আসেনি। কিন্তু আর দশজন বাঙালি যুবকের মত কবি খ্যাতির মোহ আক্রান্ত ছিলেন হয়তো। তাই তাঁর কাব্য চর্চা ছিল খুবই সীমিত।

তরুণ বয়সে সায়ীদ স্যার খুব বেশী লেখালেখি করেন নি। জীবন আর সাংগঠনিক কাজের চাপকেই তিনি প্রধান কারণ বলেছেন, বিবিধ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে। পরিণত বয়সে এবং অবসরে অনেক লিখছেন এমনটাই আমরা পাই তাঁর বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে কথোপকথনে।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সবচেয়ে নন্দিত স্মৃতিচারণমূলক লেখা “নিষ্ফলা মাঠের কৃষক”। বইয়ে উঠে এসেছে স্যার এর আত্মকথন, আত্মজিজ্ঞাসা এবং নিজেকে খোঁজার আর প্রশ্ন করার এক অনবদ্য বয়ান। সেখানেই তিনি নিজেকে চিহ্নিত করেছেন “নিষ্ফলা মাঠের কৃষক” হিশেবে। একজন শিক্ষকের জীবনের হিসাব যে সম্পূর্ণ মিলবে না এই লেখায় তা উঠে এসেছে। বইয়ের এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, একজন শিক্ষককে যদি ছাত্ররা অসম্মান করে তাহলে সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষকেরও দায় রয়েছে। কিন্তু একই লেখার অন্যত্র রয়েছে স্যার এর হতাশা।

স্যার কোন এক বছর ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কমিশনার ছিলেন। তিনি খুব অবাক হয়েছেন যখন হেরে যাওয়া পক্ষ স্যারের গাড়ি ভেঙে দিল। তারাও ছিল স্যার এর ছাত্র। স্যার খুঁজে পান নি তিনি কী করেছেন যে ছাত্ররা তাঁকে অসম্মান করলো। কিন্তু আগের সিদ্ধান্ত পাল্টে এমন কথাও বলেন নি যে, আমাদের সমাজে কোন কারণ ছাড়াই একজন শিক্ষক অসম্মানিত হতে পারেন।

এর পাশাপাশি উঠে এসেছে আইয়ুব খানের “উন্নয়নের দশক” এর জোয়ারে বিবিধ ঠিকাদারির মাধ্যমে নতুন ধনী হওয়া অভিভাবকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিবরণ। সায়ীদ স্যার নিজেই সেই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। সামলেছেনও প্রবল ব্যক্তিত্বে।

তাছাড়া বইয়ের শেষ দিকে উঠে এসেছে নিজের শিক্ষকদের কথা। ছোটবেলায় যে শিক্ষক তাঁকে বেদম প্রহার করেছিলেন চাকরিতে যোগদানের পর সেই শিক্ষকই তাঁর অধীনে চাকরি করতে এসেছিলেন। গুরু শিষ্যকে চিনতে পারেন নি। সায়ীদ স্যার তাঁকে মনের দিক থেকে ক্ষমা করেন নি। তাই পরিচয়ও দেন নি।

অধ্যাপক আহমদ শরীফ এবং মুনির চৌধুরীর কথা উঠে এসেছে তাঁর লেখার শেষ দিকে। মুনির চৌধুরীর বিদ্রোহী সত্তার ক্ষয় তরুণ ছাত্র সায়ীদ এর চোখ এড়ায় নি। কোথায় যেন একটা নিভে যাওয়া ব্যাপার ছিল মুনির চৌধুরীর মধ্যে। আবার অধ্যাপক আহমদ শরীফের কক্ষে ঢুকে তরুণ সায়ীদ চীৎকার করে উঠেছেন, স্যার আপনার ক্লাসগুলোতে মনে হয় আপনি আমাদের শুভ মূল্যবোধগুলোকে নষ্ট করে দিচ্ছেন। উত্তেজিত হননি অধ্যাপক শরীফ। ঠাণ্ডাভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছাত্রকে।

“সংগঠন ও বাঙালী” গ্রন্থে তিনি অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালির সাংগঠনিক চরিত্র। দুর্বলতা এবং সবলতাগুলোর কথা বলেছেন এই জাতির। তবুও এই বাঙালিকে নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান। অনেক বছর আগে করেছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। তারপর যুক্ত হয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনে। এমনকি আবাসন কোম্পানিগুলোর যৌথ সংগঠনের সাথে সাধারণ মধ্যবিত্তের পক্ষ নিয়ে বসার মত সাধারণ মানবিক ডাকেও সাড়া দিয়েছেন। আর তরুণদের উৎসাহ দেয়ার অনেক প্রোগ্রামে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও হাজির হয়েছেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটির মোকাবেলা করতেও তিনি দ্বিধা করেন নি। তাঁকে এমনও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, স্যার আপনি অনেকদিন ধরে “আলোকিত মানুষ চাই” বলছেন, কিন্তু সেই আলোকিত মানুষ কই? চারপাশে কাউকেই তো দেখা যাচ্ছে না।

তিনি জবাব দিয়েছেন, এটা সংগ্রাম, একটা প্রক্রিয়া। কেউ না কেউ বেরিয়ে আসবেন। তিনি বিশ্বাস করেন সামান্য কয়েকজন মানুষই পাল্টে দিতে পারে অনেক কিছু।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সবসময় আলোতে বিশ্বাস করেন। বিশ্বাস করেন মানুষ আলো খুঁজবে, মানুষ আলোর কাছে ফিরে যাবে। বিশ্বাস করেন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। আমরাও তাঁর বিশ্বাসের সঙ্গী হয়ে উঠতে চাই।

আপনার মন্তব্য