শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেট বাতিঘরে ‘দি ক্রনিক্যালস অব ১৯৭১’ গ্রন্থ নিয়ে মুক্ত আলোচনা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-১৪ ২২:০৭:৫৫

 আপডেট: ২০১৯-০৯-১৪ ২২:১০:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাতিঘরে চলছে অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের ১৫ দিনব্যাপী বই মেলা। এ উপলক্ষে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন সিলেট বাতিঘরে আয়োজন করেছে নতুন বই কেন্দ্রিক মুক্ত আলোচনা।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় সিলেট বাতিঘরে ‘দি ক্রনিক্যালস অব ১৯৭১’ গ্রন্থটি নিয়ে পাঠকদের মুখোমুখি হন লেখক অনুবাদক প্রফেসর হারুনুজ্জামান। এসময় বইটি নিয়ে মুক্ত আলোচনায় হয়। আলোচনার শুরুতেই বইয়ের লেখক প্রফেসর হারুনুজ্জামান বইটি সম্পর্কে সকলকে ধারনা দেন।

‘দি ক্রনিক্যালস অব ১৯৭১’ বইটিতে জামানারা ইমাম, হুমায়ূন আহমেদসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন লেখকের ২১টি গল্প অনুবাদ করা হয়েছে।

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেটের ডিন, প্রফেসর ড. সুরেশ রন্জন বসাকের সভাপতিত্বে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক কবি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সিলেটের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রমা ইসলাম, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক প্রণবকান্তি দেব, লেখক গবেষক জয়নাল হোসেন।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রধান নির্বাহী, প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসাইন।

‘দি ক্রনিক্যালস অব ১৯৭১’ গ্রন্থের লেখক প্রফেসর হারুনুজ্জামান বলেন,  ২১ আমাদের অহংকার। সেই ২১এর চেতনা থেকেই এই বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ২১টি গল্প অনুবাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনুবাদ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনুবাদ সংস্কৃতিকে কাছে নিয়ে আসে। অনুবাদ সাহিত্য স্বাধীন সাহিত্য। গল্পগুলো অনুবাদ করতে গিয়ে আমি কিছু বাংলা শব্দ অনুবাদ করিনি। কারণ এতে গল্পের রস ও নিজস্বতা থাকে না। এছাড়াও বহির্বিশ্বে যখন এই বইটি পাঠকরা পড়বেন তখন যেন তারা আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পান এবং আমাদের ইংরেজি বুঝতে চাওয়ার আগ্রহ জাগে সেজন্য কিছু শব্দ অনুবাদ করিনি।

ইংরেজি মানেই কঠিন কিছু নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করেছি সহজ ও সাবলীল ভাবে পাঠকদের কাছে গল্পগুলো তুলে ধরতে। তাই অনেক কঠিন ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা হয়নি বইয়ে। আশা করছি পাঠকরা বইটি পড়ে সহজেই গল্পগুলো বুঝতে পারবেন।

আলোচনা সভার সভাপতি প্রফেসর ড. সুরেশ রন্জন বসাক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বড় অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তীতে লিখেছে। আমাদের দেশেও যুদ্ধ পরবর্তী অনেক লেখালেখি হয়েছে। তবে সব লেখা সংগ্রহ করা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানি কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম কি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৩ ধরনের ইতিহাস পরে। তাহলে কিভাবে সঠিক ইতিহাস জানবে। আমাদের দায়িত্ব পরের প্রজন্মের কাছে গল্প সাহিত্যের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো।

তিনি আরো বলেন, শুধু দেশে নয়, এসব ইতিহাস বিশ্বব্যাপী জানাতে হবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে হলে নিজেদের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে। এর জন্য অনুবাদ প্রয়োজন। অনুবাদে আমাদের দেশে কিছু ঘটতি ছিল, এখনো আছে। তবে এসবের মধ্যেই বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্য জানান দিতে হবে। 

অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রধান নির্বাহী, প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসাইন বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাস করছেন। তাদেরকে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য জানান দিতেই আমারা অনুবাদ বই প্রকাশ করি। প্রায় ১০ বছর পর অ্যাডর্ন পাবলিকেশন সিলেটে অনুষ্ঠান করছে। বাতিঘরের তিনটি কেন্দ্রেই আমাদের এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট বাতিঘরে আমাদের এই আয়োজন। সিলেট আবারো কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে বাতিঘর।  

উল্লেখ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের এই মেলায় অ্যাডর্ন প্রকাশিত এবিসি সিরিজের (শিশুদের উপযোগী) বই পাঠকরা সংগ্রহ করতে পারবেন ২০% ছাড়ে। কিশোরদের বই, গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা, ক্লাসিকস, প্রবন্ধ, গবেষণা, ভ্রমণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, আদিবাসী, দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্মৃতিকথাসহ শিশু-কিশোরদের জন্য সিরিজের বিশেষায়িত বাংলা-ইংরেজি ভাষায় লেখা অন্যান্য বারোশ'র বেশি শিরোনামের বই সংগ্রহ করতে পারবেন ৪০% ছাড়ে।

আপনার মন্তব্য