শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

অনলাইন প্রতিবেদক

০২ জুলাই, ২০১৬ ২২:৪৭

হামলার সঙ্গে জড়িত কারা?

ঢাকার হলি আর্টিসান বেকারিতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আইএসআইএস’। তবে এ হামলার সাথে আইএস না আল কায়েদা জড়িত এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

শনিবার সিএনএন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিগত ৩ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা মুক্তমনা, ব্লগার, সমকামী অ্যাক্টিভিস্ট ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের পর গুলশানের হামলার সাথে কারা জড়িত থাকতে পারে এ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সিএনএন এর ডিজিটাল প্রডিউসার ও হংকং কন্ট্রিবিউটর ‘টিফানি এপি’র এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ঢাকা হামলা’র ঘটনায় ‘আইএস’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায় স্বীকার করে নিলেও এ হামলার পিছনে ‘ভারত উপমহাদেশীয় আল কায়েদা (আকিস)’ জড়িত থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।

এ দুটি প্রতিপক্ষ জঙ্গি সংগঠন একে অপরের চেয়ে বেশি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠনদের উত্থানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলেও এ প্রতিবেদনে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশে ‘আইএস’ সমর্থিত ‘জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)’ এবং ‘ভারত উপমহাদেশীয় আল কায়েদা (আকিস)’ সমর্থিত ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)’ সক্রিয় রয়েছে বলেও জানানো হয়।

চলতি বছরের ২১ জুন, “বাংলাদেশ কি আইএস এর পরবর্তী হটস্পট” শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে সিএনএন।

আইএসআইএস
‘আইএসআইএস’ তাদের নিজস্ব সংবাদ সংস্থা ‘আমাক’ এ ‘ঢাকা হামলা’র দায় স্বীকার করেছে, তবে এ দায় স্বীকারের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলে ‘সিএনএন’ এর এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বব্যাপী হামলার যে ঘোষণা দিয়েছিলো সংগঠনটি তা এখনো চলছে। আইএস যদিও প্রচুর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে, তারপরও সেসকল হামলা ও হত্যাকাণ্ড ও সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ সাজ্জান গোহেল এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যে মাধ্যমে আইএস এ সকল হামলার দায় স্বীকার করে, সে মাধ্যমটির সংবাদ প্রকাশের ধরণে বোঝা যায়, কোন হামলা আইএস এর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এবং কোনগুলো আইএস এর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কোন স্থানীয় সংগঠন এ হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

সাজ্জান গোহেল বলেন, ‘আইএস’ যদি ‘আমাক’ এর মাধ্যমে কোন হামলার দায় স্বীকার করে, তবে তা আইএস এর অনুসারীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে  ভাবা যায়। এসব ক্ষেত্রে হামলাকারীরা সিরিয়ার রাকা’তে ‘আইএস’র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাও হতে পারে। তবে যদি হত্যাকাণ্ডের দায় টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে করা হয়, তবে তা প্যারিস হামলার মতই সরাসরি তাদের কেন্দ্রীয় হামলা হিসেবেই ধরা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে তারা সরাসরি রেডিও সম্প্রচারের মাধ্যমেও দায় স্বীকার করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, হামলার বিষয়টি ‘সুযোগসন্ধানী হামলা’ না ‘সরাসরি পরিকল্পিত হামলা’।

ভারত উপমহাদেশীয় আল কায়েদা
সিএনএন এর বারবারা স্টারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পূর্ববর্তী বিভিন্ন হামলার ধরণের সাথে মিলিয়ে ‘ঢাকা হামলা’কে ‘আইএস’ এর নয়, বরং ‘ভারত উপমহাদেশীয় আল কায়েদা’র হামলা বলে মনে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাতে ‘আইএস’ এর চেয়ে ‘ভারত উপমহাদেশীয় আল কায়েদা’র অবস্থান অনেক শক্ত এবং তাদের সাম্প্রতিক সবগুলো হামলা রাজধানী ঢাকাতেই; তাই এ ধরণের হামলার সক্ষমতা আইএস এর চেয়ে আল কায়েদারই বেশি।

সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ গোহেল বলেন, ‘আইএস’ এর এ দায় স্বীকারকে ‘আল কায়েদা’ কিভাবে নিচ্ছে, তা এখন দেখার বিষয়। ইয়েমেনেও তারা কে কত বেশি হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে, তার প্রতিযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় জঙ্গিদের সমর্থন যে কোন মুহূর্তেই পরিবর্তিত হয়। ‘আনসার আল ইসলাম’ প্রথমে ‘আল কায়েদা’র সাথে জোটবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে ‘আইএস’ এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)
‘জেএমবি’ বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রবর্তী জঙ্গিবাদী জিহাদী দল যারা ‘আইএস’ এর সাথে জোটবদ্ধ। জেএমবি সাধারণত অমুসলিম ও অন্য মতাবলম্বী মুসলিমদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালায় বলে সিএনএন এর প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)
‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ বাংলাদেশে ‘আল কায়েদা’র সহযোগী সংগঠন। এ গ্রুপটিই ৮৪ জন নাস্তিক ব্লগারের হিটলিস্ট তৈরি করেছিলো এবং মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় বা সমকামী অ্যাক্টিভিস্ট হত্যাকাণ্ডের মত বড় ঘটনাগুলো ঘটায়। এদের বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই মুক্তমনা ও ধর্মনিরপেক্ষ কণ্ঠ রোধ করতে চালানো হয় এ সিএনএন এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত