শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

অনলাইন প্রতিবেদক

০৩ জুলাই, ২০১৬ ০২:১৮

ইতালিয়ান ও জাপানিরাই কেনো বারবার টার্গেট?

রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে অভিজাত ক্যাফে ‘হলি আর্টিসান বেকারি’তে শুক্রবার রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের ৯ জন ইতালিয়ান এবং ৬ জন জাপানী। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড এটিই প্রথম নয়। তবে এই প্রথম সংঘবদ্ধ হামলা।
 
এর আগে গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ৪ দিনের ব্যবধানে যে দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়, তাদের একজন ইতালিয়ান ও অপরজন জাপানী নাগরিক। এছাড়াও একই বছরের নভেম্বরে হত্যার চেষ্টা করা হয় আরেক ইতালিয়ান ধর্মযাজককে।

গত এক বছরে কয়েকদফা হামলায় ইতালিয়ান ও জাপানি নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইতালিয়ান ও জাপানিরাই কেনো বারবার টার্গেট?

রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় ইতালিয়ান নাগরিক ‘সিজারে তাভেল্লা’কে। এর ঠিক চারদিন পর ৩ অক্টোবর ভোরে রংপুর শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় জাপানী নাগরিক কুনিও হোশিকে।

এরপর একই বছরের নভেম্বরের ১৮ তারিখ হত্যার চেষ্টা করা হয় ইতালিয়ান ধর্মযাজক ডা. ‘পিয়েরো পারোলারি সামিও পিচম’কে। দিনাজপুরের মির্জাপুর এলাকার বিআরটিসি বাস ডিপোর কাছে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে তার উপর গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। তবে ভাগ্যগুণে বেঁচে যান তিনি।

‘গুলশান হামলা’র মতই আগের বিদেশি দুই নাগরিক হত্যা ও ধর্মযাজক হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট (আইএস)’।

গত সেপ্টেম্বরে নিহত ইতালিয়ান নাগরিক সিজারে তাভেল্লা আইসিসিও কো-অপারেশন নামে একটি সংস্থার প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন। এর পরেই নিহত জাপানী নাগরিক কুনিও হোশি রংপুরের মাহিগঞ্জের আলুটারি গ্রামের ঘাসের একটি উৎপাদন প্রকল্প পরিচালনা করতেন। নিহতদের কেউই কূটনীতিক ছিলেন না।

কুনিও হোশি হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ৫জনকে আটক করে পুলিশ, যার মধ্যে একজন স্থানীয় বিএনপি নেতাও ছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)’র আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। তাকে মূল আসামী হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ, তবে এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট এখনো দাখিল করেনি পুলিশ।

সিজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডে গত ২৮ জুন বিএনপি নেতা এমএ কাইয়ুমসহ সাত জনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের পর আইএস দায় স্বীকার করলেও কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পরপর গুলশানের সাবেক কমিশনার এমএ কাইয়ুমের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বাংলাদেশে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আততায়ীর গুলিতে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী সনাক্ত ও ধরতে অপারগতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. আব্দুর রব খান।

তিনি তখন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বিদেশি নাগরিকদের আশ্বস্ত করা যেত। এ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশকে এখন খুব সাবধানে এগুতে হবে।

ড. আব্দুর রব তখন পরপর দুটি হত্যার ধরণ ও ইসলামিক স্টেটের মতো সংগঠনের দায় স্বীকারের বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কিন্তু এ দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ৯ মাসের মাথায় রাজধানীর গুলশানে বড়ধরণের এ হামলা ভাবিয়ে তুলছে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। তবে এ সকল হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোন রকম যোগসূত্রের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেনি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত