আজ শুক্রবার, , ১৭ আগস্ট ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ জুন, ২০১৮ ২৩:৪২

বাচ্চু হত্যা, পরিবারের সন্দেহে উগ্রপন্থী জঙ্গি

মুন্সিগঞ্জে লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনও উদঘাটন করা যায়নি। এ হত্যাকাণ্ডে উগ্রপন্থী জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে বলে নিহতের পরিবারের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সেই পথ ধরেই তদন্ত শুরু করেছে।

সোমবার (১১ জুন) সিরাজদীখানের কাকালদী তিন রাস্তা মোড়ে গুলি করে হত্যা করা হয় মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশাখা প্রকাশনীর এই প্রকাশককে। তিনি লেখালেখিও করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজদিখান থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুম মিয়া জানিয়েছেন, দুই মোটরসাইকেলে করে চারজন ঘাতক বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করে। তবে এতো দ্রুত ঘটনাটা ঘটার কারণে তিনি তাদের শনাক্ত করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ জুন) রাত পর্যন্তও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি ঘাতকদের। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড তারও সূত্র বের করতে পারেনি র‌্যাব-পুলিশ।

শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজদিখান থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন বাচ্চুর দ্বিতীয় স্ত্রী আফজানা জাহান।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ব্লগার দূর্বা জাহান, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক উগ্রপন্থী জঙ্গিদের হাতে একের পর এক ব্লগার, মুক্তমনা লেখক, প্রকাশকসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেসবুকে লেখালেখি করেছেন তার বাবা।

বাবার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় তার ওপরও উগ্রপন্থী জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কার কথাও বলতেন তিনি।

তবে নিহত শাহজাহান বাচ্চু উগ্রপন্থী জঙ্গিদের হিটলিস্টে ছিলেন না বলে দাবি করে দূর্বা বলেন, আমি মেয়ে হলেও এসব বিষয় নিয়ে বাবা আমার সঙ্গেই বন্ধুর মতো খোলামেলা আলোচনা করতেন।

তিনি আরো বলেন, উগ্রপন্থী জঙ্গিরা হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল। যেহেতু বাবা দুই বিয়ে করলেও উভয় পরিবারের মাঝে আন্তরিকতার কমতি নেই, পারিবারিক কোন ঝামেলা নেই, এলাকায় বাবার কোন শত্রুও নেই।

তাই ক্লুবিহীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে বাবার আশঙ্কার বিষয়টি হত্যার কারণ বলে ভাবলেও নিশ্চিত নই দূর্বা। পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের নাম-পরিচয় জানার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

নিহত শাহজাহান বাচ্চুর দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা জাহান বলেন, ফেসবুকে লেখালেখি করতো আমার স্বামী। মাঝে মধ্যে সে আমাকে বলতো, 'জঙ্গিরা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়'।

শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যার প্রসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু ব্লগার কিনা না জানলেও মুক্তমনা লেখক হিসেবে যেহেতু লেখালেখির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই এ বিষয়টিকে প্রধান্য দিয়ে সব কিছু মাথায় রেখেই পুলিশ কাজ করছে।

র‌্যাব-১১’র ভাগ্যকুল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পরিচালক নাহিদ হোসেন জনি বলেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের সদর দফতর ও র‌্যাব-১১’র মুন্সিগঞ্জের টিম এ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘাতকদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। টেকনোলজি ও ফিজিক্যালি-এ দু’টি বিষয় নিয়ে র‌্যাব সদস্যরা তদন্ত কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।

সিরাজদীখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শাহজাহান বাচ্চুর দ্বিতীয় স্ত্রী আফজানা জাহান বাদী হয়ে মঙ্গলবার অজ্ঞাত পরিচয় চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। জেলা ও থানা পুলিশের সকল ইউনিট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে সোমবার রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ পাহাড়ায় লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুর লাশ বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপরই সিরাজদীখানের কাকালদি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে কাকালদি সামাজিক কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এ সময় মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল করিম হাজী ও সিরাজদীখান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।

শাহজাহান বাচ্চু ছিলেন ৯০ দশকের প্রকাশক, যিনি শুধু কবিতার বই প্রকাশ করতেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকালদী গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে শাহজাহানের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার পূর্ব দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত