রবিবার, , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:০৬

‘ভাগ্য ভালো যে উনাকে গুম করেনি’

“ভাগ্য ভালো যে উনাকে গুম করেনি”- এমন মন্তব্য করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের রিমান্ড বাতিল চেয়ে করা রিটের শোনানিতে আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনকালে এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি।

ড. শহিদুলকে রিমান্ডে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের রিট আবেদন মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানী শেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় রিমান্ডে থাকা শহিদুল আলমকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজত থেকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

সেই সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে শহিদুলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন ও সারা হোসেন। এছাড়া আইনজীবী শাহদীন মালিক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও তানিম হোসেইন শাওন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

সারাহ হোসেন শুনানিতে শহিদুলের রিমান্ড স্থগিতের জন্য যুক্তি দেখানোর সময় বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন বলেন, “আরে রাখেন, ভাগ্য ভালো যে উনাকে গুম করেনি।”

আগামী বৃহস্পতিবার বিষয়টি আবার শুনানির জন্য আসবে বলে আদালতের আদেশে জানানো হয়।

আদেশের পর ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু আদালত দ্রুত উনাকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা আশা করি, সেই পর্যন্ত তার রিমান্ড স্থগিত থাকবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী তানিম হোসেইন শাওন বলেন, “তাকে (শহিদুল) আটকের পর আদালতে তোলার আগে নির্যাতন করা হয়েছে। তাছাড়া তিনি অসুস্থ। রিমান্ডে পাঠিয়ে তার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়।”

আইজিপি, ডিবির ডিআইজি এবং রমনা থানার ওসিকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল অধিকার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন তিনি। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।

এরপর রোববার রাতে শহিদুলকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে হাজির করা হয় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে।

ওই মামলায় ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ আনা হয় আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে।

গোয়েন্দা পুলিশ শহিদুলকে দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইলে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হাকিম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শহিদুল বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তার চোখ-মুখ বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়েছিল।

“তারা আমাকে মোসাদ, আইএসআইর এজেন্ট বলে গালি দেয়, দেশদ্রোহীও বলে তারা। তারা আমাকে মারধরও করে।”

পুলিশ শহিদুলকে আদালতে হাজির করার আগে তার স্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে রোববার রাতে বাসা থেকে ‘তুলে নেওয়ার পর’ সোমবার দুপুর পর্যন্ত পরিবার ও আইনজীবীকে কিছু জানানো হয়নি।

“শহিদুলকে ৩০-৩৫ জনের একটি দল অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে তারা হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরায় টেপ মেরে দেয়। নিরাপত্তারক্ষীকে আটকে রাখা হয়। তিনটি গাড়িতে করে তারা এসেছিল এবং কাউকে কথা বলতে না দিয়ে দ্রুত চলে যায়।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত