বুধবার, , ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ২১:০২

সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করে এবার মামলা খেলেন হুদাও

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলায় মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করেছেন উল্লেখ করে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার না করা এবং ক্ষমা না চাওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকার যুগ্ম জেলা প্রথম আদালতে এ মামলা করা হয় (মামলা নং ১২৫/২০১৮)।

নাজমুল হুদা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

৩ অক্টোবর এ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মো. জিয়াউল হক উকিল নোটিশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় এই মামলা করেন সালমা ইসলাম।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে সালমা ইসলামের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী নাজমুল হুদা বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান।

এ বছর ২৭ সেপ্টেম্বর এসকে সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে সালমা ইসলাম সম্পর্কে নাজমুল হুদার অভিযোগ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, অনাকাঙ্ক্ষিত, অনাবশ্যক ও অবাঞ্ছিত। এর মাধ্যমে নাজমুল হুদা সমাজ ও দেশ-বিদেশে সালমা ইসলামের মানমর্যাদা এবং সুনামের ক্ষতি করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-১ আসনের ভোটারদের সম্মানও হানি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি (চাচা) ও সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ফৌজদারি মামলা (পেনাল কোড) করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ তার ও তার রাজনৈতিক অভিভাবকের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এমতাবস্থায় অন্য কোনো বিকল্প না পেয়ে সালমা ইসলাম বাধ্য হয়ে দেওয়ানি (কোড অব সিভিল প্রসিডিউর) মানহানি মামলা করেছেন।

সালমা ইসলামের মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ২৭.০৯.২০১৮ তারিখে ঢাকার শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজমুল হুদা। মামলা নং ১৯/৫২৩। এতে বলা হয়, এসকে সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহার খুবই চাতুর্যপূর্ণ ও পূর্বপরিকল্পিত। এ ছাড়া নাজমুল হুদা এজাহারে অন্যায়ভাবে সালমা ইসলামের নাম জুড়ে দিয়েছেন। যদিও এগুলোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

সালমা ইসলামের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, নাজমুল হুদার কুরুচি ও কুৎসাপূর্ণ কার্যকলাপের শিকার ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সালমা ইসলাম। মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে এবং প্রশাসনিক যন্ত্র ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সালমা ইসলামের মানহানি করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে তার সুনাম ও ব্যক্তিগত মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

নাজমুল হুদার করা মামলার এজাহারের তথ্যসমূহ সমাজের সাধারণ মানুষের চোখে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য তার (নাজমুল) প্রচার করার অধিকার (অথরিটি) নেই।

সালমা ইসলামের পরিবারের সদস্য ও যমুনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকদের অবজ্ঞা করতে এজাহারে উদ্দেশ্যমূলক এবং মানহানিকর তথ্য জুড়ে দিয়েছেন নাজমুল হুদা।

নাজমুল হুদার মানহানিকর কার্যকলাপের কারণে সুনাম ও মানসম্মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে তা টাকার অংকে ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব নয়। তবে প্রতীকীভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতে পারে। এ কারণে ১০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে এ পরিমাণ অর্থ আদায়ে আদালতের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত