সোমবার, , ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০২:১৬

জানুয়ারিতে বিয়ে ছিল ডা. রুম্পার

মে মাসে আক্‌দ হয়েছিল চক্ষু চিকিৎসক আখতার জাহান রুম্পার (২৮)। তার স্বামী কাজী মো. মহসিন ফারুক দাঁতের চিকিৎসক, তার নিজস্ব চেম্বার রয়েছে চট্টগ্রামে। আগামী জানুয়ারির শেষের দিকে চট্টগ্রামে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে তাদের, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুটি পরিবার। নববধূকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল রুম্পার শ্বশুরপক্ষ। কিন্তু না, তার সবকিছুই থামিয়ে দিয়েছে দানব গাড়ির চাকা। শ্বশুরবাড়ি নয়, চিরদিনের জন্য তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর বিজয় সরণিতে বাসের চাপায় নিহত হন রুম্পা। ঘাতক বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ভোরে রাস্তা ফাঁকা থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে বাস নিয়ে পালিয়ে যায় চালক। রুম্পা ওই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। ধানমণ্ডির একটি চক্ষু হাসপাতালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার ভোরেই সিলেট থেকে ঢাকায় আসেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, রুম্পার বাবা আখতারুজ্জামান অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে হলেও ছোটবেলা থেকেই চট্টগ্রামের হালিশহরে বসবাস করে আসছেন তারা। দুই ভাইয়ের একমাত্র বোন ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস শেষ করেছেন ২০১৬ সালে। ইন্টার্নিও করেছেন সেখানে। চলতি বছরের শুরুর দিকে সিলেটের ওসমানী নগরের বার্ড আই হসপিটালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ওই চিকিৎসক। তবে তার ইচ্ছা ছিল ঢাকার কোনো হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করার। সম্প্রতি ধানমন্ডির বাংলাদেশ চক্ষু হাসপাতালে আবেদন করেন তিনি। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে পরীক্ষা দেওয়ার দিন ছিল তার। সে জন্য সোমবার রাতে সিলেট থেকে বাসে রওনা হয়েছিলেন ঢাকার উদ্দেশে।

মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৫টায় মহাখালী বাস টার্মিনালে পৌঁছান। বাস থেকে নেমেই মোবাইল ফোনে স্বামী কাজী মো. মহসিন ফারুককে পৌঁছানোর সংবাদটি দেন তিনি। মহসিনও স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সোমবার রাতেই চট্টগ্রাম থেকে বাসে রওনা দিয়েছিলেন।

মহসিন বলেন, 'রুম্পার চাকরির পরীক্ষা। আমি না এসে পারি! তাই আমিও সোমবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। রুম্পার পরীক্ষা শেষে দু'জন ঘোরাঘুরি করে রাতে সিলেটের বাসে তুলে দেব তাকে। আর আমি চট্টগ্রামের বাসে।' মহসিন জানান, ভোর পৌনে ৫টায় রুম্পা তাকে মোবাইল ফোনে জানান, মহাখালী পৌঁছে গেছেন। তখন তিনি (মহসিন) বাসে কুমিল্লা পার হয়েছেন। তার বাস শ্যামলীতে যাবে। এ জন্য রুম্পা শ্যামলীতে গিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় থাকবেন। স্বামী এলে দু'জনে ধানমণ্ডিতে হাসপাতালে যাবেন। তবে তার আসতে দেরি হলে রুম্পা একাই হাসপাতালে চলে যাবেন এমন কথাও হয়েছিল তাদের মধ্যে। মহাখালী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে রওনা হন শ্যামলীর উদ্দেশে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভোর ৫টার দিকে অটোরিকশাটি শ্যামলীর দিকে যাওয়ার জন্য বিজয় সরণি মোড় ঘুরছিল, এ সময় ফার্মগেট থেকে মহাখালীগামী একটি বাস ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাটি মোড়েই উল্টে পড়ে। এতে রুম্পা ও অটোরিকশাচালক বিদ্যুৎ (৩০) আহত হন। সড়কের পাশে কাজ করতে থাকা কয়েকজন শ্রমিক তাদের উদ্ধার করে তেজগাঁও এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। রুম্পার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথম পর্যায়ে তার লাশ অজ্ঞাত ছিল। পরে পুলিশ তার মোবাইল ফোনের ডায়ালে থাকা মহসিনের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। সকাল ৮টার দিকে মহসিন হাসপাতালে আসেন। দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে নেওয়া হয়।

মহসিন জানান, রুম্পার সঙ্গে তার ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ৫ মে তাদের আক্‌দ হয়। জানুয়ারির শেষের দিকে বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি চলছিল তাদের। মহসিনের গ্রামের বাড়ি কপবাজারের চকোরিয়ায়।

তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, বাসটি অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে ফার্মগেটের দিকে পালিয়ে যায়। সেটি শনাক্ত করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল ও আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বাস শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মহসিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন বলে জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত