শুক্রবার, , ২২ মার্চ ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩০

ঐক্যফ্রন্টের বিজয় শোভাযাত্রা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশের সময় ও বেঁধে দেওয়া ক্ষুদ্র সীমানার মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ১২টা চার মিনিটে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সামনে ট্রাকে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্য মির্জা ফখরুল মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ বিসর্জনকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আজকের এই বিজয় দিবস হওয়া উচিৎ ছিলো আমাদের আনন্দের উৎসবের। কিন্তু আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, আমরা আতঙ্কিত, উৎকন্ঠিত এই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি টিকে থাকবে না।

নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে সরকার এবং আমরা কখনো এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি। নজিরবিহীনভাবে তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মী এবং প্রার্থীদেরকেও গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে এবং প্রার্থীদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের প্রচারের সময় ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব বলেন, “একজন প্রার্থীর ওপর এই ধরনের হামলা হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, সরকার কিছুই করে না।

তিনি বলেন, নোয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবউদ্দিন খোকনকে গুলি করা হয়েছে। তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরীর ওপরে গতকাল (শনিবার) হামলা হয়েছে, তাকে প্রচার করতে দেয়নি। ঢাকা-৪ আসনে সালাহ উদ্দিন আহমেদের নির্বাচনী এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বিজয় শোভাযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমাদের এই র‌্যালিও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। গতকাল বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের র‌্যালি ছিল ২টায়। সেটাকে তারা (পুলিশ) পরিবর্তন করে সকাল ১০টায় নিয়ে এসেছে। এজন্য এটা করা আমাদের জন্য অসম্ভব ছিলো। তারপরও নানা বাধার মধ্যে যারা এই র‌্যালিতে ‌যোগ দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ সম্বোধন করে গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আপনারা সকলে অবগত আছে, এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচনে যেতে রাজি হয়েছি। যারা ক্ষমতাসীন আছেন তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে আবার ক্ষমতায় থাকার জন্য নীল নকশার ষড়যন্ত্র, নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যাতে আমরা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দিই। ১৬ কোটি মানুষ ও ১০ কোটি ভোটারের ওপর নির্ভর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ৩০ ডিসেম্বর জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে রায় দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে এই হলো আজকের বিজয় দিবসের আহ্বান।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এটা বিজয়ের দিন আর আমরা একটা লড়াইয়ের মধ্যে আছি। এই লড়াই ভোটের লড়াই। যখন নির্বাচন আসলো তারা মনে করেছিল যে এই নির্বাচনটাতেও বোধ হয় তারা ওয়াকওভার নিতে পারবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ওয়াকওভার দেব না, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, প্রার্থী দিয়েছি এবং সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

শোভাযাত্রা বিজয় দিবসের হলেও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রার্থীর ছবি, পোস্টার, আর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অংশ নেওয়ায় সেটি অনেকটা নির্বাচনী প্রচারে রূপ নেয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতির ছাড়াও নেতাকর্মীদের হাতে ছিলো কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।

এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ঢাকা-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী আবদুস সালাম, ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী আবু আশরাফ খন্দকার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী কর্মী-সমর্থকদের মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসেন। তাদের ব্যানারে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের ছবি ছিল।

ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস ধানের ছড়া দিয়ে সাজানো একটি ট্রাকে চড়ে বিশাল মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তার ট্রাকেও জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় প্রতিকৃতি ছিলো।

বিজয় শোভাযাত্রায় ব্যান্ড দলও ছিলো, যারা মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করে।

ঐক্যফ্রন্টের শোভাযাত্রা যখন শান্তিনগরের কাছে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে পৌঁছায়, তখন সেখানে মাইকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রচার চলছিল। সেখানে মোতায়েন ছিলো বিপুল পুলিশ। কলেজের সামনের রাস্তা বিএনপি নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকে স্লোগান দিতে দিতেই পেরিয়ে যান। পরে শান্তিনগর মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে শোভাযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব। সেখান থেকে স্লোগান দিতে দিতে নেতাকর্মীরা আবার নয়াপল্টন ফিরে যান।

শোভাযাত্রায় বিএনপি নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, হারুনুর রশীদ, অর্পনা রায়, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শাহ নেসারুল হক, হেলাল খান, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, দেবাশীষ রায় মধু, প্রদীপ কুমার সরকার, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত