সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৪:১১

পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ দেশের জন্য বিপদজনক: শিক্ষা উপমন্ত্রী

পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকীকরণ দেশের জন্য বিপদজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চশমাহিলের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এক প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, "পাঠ্যপুস্তককে সাম্প্রদায়িকীকরণ বা বিভাজন সৃষ্টি করা, কোমলমতিদের মানসিকতায় এসব বিভাজন দিয়ে দেওয়া, দীর্ঘমেয়াদী সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। পড়াশোনা যদি সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যৎ নয়, নিকট ভবিষ্যতও আমাদের জন্য বিপদজনক হয়ে পড়বে।"

তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করতে আমাদের বাধ্য করেছে। আমরা অবশ্যই ইসলামের অনুশাসন মেনে চলব, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের অনুশাসন মেনে চলবেন। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ কারিকুলাম অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়নও খুবই প্রয়োজন। এতে সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে না।"

পাঠ্যপুস্তক থেকে প্রগতিশীল লেখকদের গল্প-কবিতা বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে নওফেল বলেন, "যারা এই কাজ করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা এখন থেকে সতর্ক থাকব, যাতে এই ধরনের কার্যকলাপ আর না হয়।"

পিইসি-জেএসসি পরীক্ষার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "পিইসি পরীক্ষা একটা পাবলিক পরীক্ষায় পরিণত হয়ে গেছে। এখন এটা কিভাবে নিরসন করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রাইমারি স্কুল লেভেলের একটা সার্টিফিকেটেরও প্রয়োজন আছে।"

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নতুন সরকারি স্কুল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারা বলছে, জায়গা সংকটের কারণে নতুন করে সরকারি স্কুল স্থাপন করা প্রায় অসম্ভব। তার চেয়ে নগরীর নামীদামী স্কুলগুলো সরকারীকরণ করা ভালো হবে বলে ফিল্ড লেভেল থেকে অভিমত এসেছে।"

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিতে রাজনীতিকরণের সুযোগ থাকে মন্তব্য করে নওফেল বলেন, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা ভালো, কিন্তু আবার রাজনীতিকরণের একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়ে যায়। কারণ একজন জনপ্রতিনিধির কাছে ভর্তি সংক্রান্ত, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের তদবির থাকে। একজন জনপ্রতিনিধির এসব তদবির অগ্রাহ্য করাটা খুবই কঠিন। ফিল্ড ওপিনিয়ন বলছে, সেক্ষেত্রে কর্মকর্তা দ্বারা যদি একটা মিশ্রণ করা হয়, তাহলে পাবলিক ডিমান্ড এবং প্রফেশনাল ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সামঞ্জস্য আসবে। এই বিষয়ে অবশ্য আমরা একমত।"

এই প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী নওফেল জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তদবিরের চাপে পড়েছেন তিনি। শুরুতেই মেয়াদ শেষ হওয়া একটা প্রকল্পের ৬ হাজার শিক্ষকের একটা ফাইল নিয়ে, তাদের জন্য তদবির করতে একজন প্রতিনিধি গেছেন তার কাছে।

তবে নওফেল মনে করেন, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় গত ১০ বছরে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এরপরও যেসব দুর্বলতা চিহ্নিত করা গেছে, সেগুলোর উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন নওফেল।

মতবিনিময় সভায় নওফেলের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, স্বাচিপ নেতা ডা.শেখ শফিউল আজমসহ নেতাকর্মীরা ছিলেন

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসন থেকে তিনি এবার প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত