শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:২০

তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরের চলে যাবার ৮ বছর

দেখতে দেখতে চলে গেল ৮টি বছর। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আজ ১৩ আগস্ট তাদের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০১১ সালের এই দিনে ‘কাগজের ফুল’ সিনেমার লোকেশন দেখতে মানিকগঞ্জে গিয়েছিলেন তারেক মাসুদ, ক্যাথরিন মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ নয় সদস্যের একটি দল। লোকেশন দেখে ঢাকায় ফেরার পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক সেই ঘটনা।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। বিপরীতে থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে থাকা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ আরও তিনজন চলচ্চিত্রকর্মী নিহত হন। আহত হন তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদসহ আরও তিনজন সেখানে আহত হন।

এখনো পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ। ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮২ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ থেকে ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স শেষ করে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানকে নিয়ে ‘আদম সুরত’ নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন তারেক মাসুদ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৯৯৫ সালে একটি ভ্রাম্যমাণ গানের দলকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ তাকে আলোচনা এবং সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে আসে। মাটির ময়না তার প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র, যার জন্য তিনি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টর ফোর্টনাইট সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য একাডেমি পুরস্কারে মনোনীত হয়। বাংলাদেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। তার সর্বশেষ ফিচার চলচ্চিত্র রানওয়ে মুক্তি পায় ২০১০ সালে।

২০১২ সালে তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক দেওয়া হয়। তারেক মাসুদ ১৯৫৭ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ ও বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট কাগজের ফুল নামক চলচ্চিত্রের লোকেশন নির্বাচন শেষে ঢাকা আসার পথে মানিকগঞ্জে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

মিশুক মুনীর, সম্প্রচার সাংবাদিকতার রূপকার, চিত্রগ্রাহক ও সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব। তার পুরো নাম আশফাক মুনীর চৌধুরী। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর মেজ ছেলে। মিশুক মুনীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন। পড়ালেখা শেষ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোদস্তুর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। মিশুক মুনীর ১৯৯৯ সালে একুশে টেলিভিশনের প্রথম যাত্রায় হেড অব নিউজ অপারেশনের দায়িত্ব নিয়ে দেশে আন্তর্জাতিক ধারার টেলিভিশন সাংবাদিকতার সূচনা করেন। ২০০৭ সালে কানাডিয়ান সাংবাদিক পল জেয়োর সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক সংবাদ টেলিভিশন রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক। ২০১১ সালের ১৩ই আগস্ট মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের সঙ্গে তিনিও নিহত হন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত